রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ ১০ মাস ২২ দিন কারাবাসের পর মুক্ত বাতাসে ফিরেছেন একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান। কারাবাসের এই দীর্ঘ সময়কে তিনি কেবল বন্দিদশা হিসেবে না দেখে, আত্মশুদ্ধি ও সৃজনশীলতার নতুন সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের এই রূপান্তরের কথা জানিয়েছেন তিনি।
কারাজীবনে আধ্যাত্মিক পরিবর্তন
গত ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন সিদ্দিক। দীর্ঘ কারাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, জেলের চারদেয়ালের বন্দিজীবন তাকে গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, “আগে দ্বীনের কাজে তেমনভাবে যুক্ত ছিলাম না। কিন্তু কারাগারে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় শুরু করি। আল্লাহই আমাকে ভেতর থেকে পরিবর্তন করেছেন।”
কারাগারের দেয়ালে লেখা ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’ স্লোগানটি তাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তার মতে, কারা কর্তৃপক্ষ যেমন তাকে নিরাপদে রেখেছিল, তেমনি তিনি নিজেই সেখানে বসে জীবনের নতুন এক আলোর পথ খুঁজে পেয়েছেন।
বন্দিদশায় সৃজনশীলতার বিকাশ
কারাগারের চারদেয়ালে বন্দি থাকলেও সিদ্দিকের ভেতরের সৃজনশীল সত্তা থেমে থাকেনি। তিনি জানান, কারাবাসের এই অবসরে তিনি ১৫টি নাটক এবং ৩টি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রের গল্প লিখেছেন। শুধু তাই নয়, নিজের ব্যক্তিজীবন এবং জেলের ভেতরের বিচিত্র অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লিখে ফেলেছেন এই অভিনেতা।
স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দীর্ঘদিন জেলের কঠোর শৃঙ্খলায় থাকার পর বাইরের পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তার কিছুটা সময় লাগছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে এখনো কারাজীবনের রুটিনের প্রভাব রয়ে গেছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে তিনি সব কোলাহল থেকে দূরে পরিবারের সঙ্গে একান্ত সময় কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি, জেলে বসে লেখা গল্প ও চিত্রনাট্যগুলো নিয়ে শিগগিরই কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সিদ্দিক।