• রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন

তদারকির অভাবে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনছেন গ্রাহকেরা

Reporter Name / ১ Time View
Update : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আমদানি পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকার পরও হঠাৎ করেই তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে| আর এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও রহস্যজনক সংকটের ধুয়া তুলে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট কাটতে শুরু করেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি বড় চক্র| সরকারের নির্ধারিত দামকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খুচরা বাজারে স্থানভেদে ১২ কেজি ওজনের প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে প্রায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে| সিলিন্ডারের আকার ও ওজন যত বেশি, দাম বাড়ানোর আনুপাতিক হারও ঠিক ততটাই বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে| বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে এলপিজির দাম অন্তত ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে| দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইনের গ্যাসের তীব্র সংকটে ভোগা গ্রাহকরা যখন বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন, ঠিক তখনই এলপিজির এই আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবনযাত্রাকে চরম বিপাকের মধ্যে ফেলে দিয়েছে| দাম নির্ধারণকারী সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, দেশে বর্তমানে এলপি গ্যাসের কোনো বাস্তব সংকট নেই| তাহলে কারা এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি|

বাজারে এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির জন্য গ্যাস বাজারজাতকারী কোম্পানি এবং ডিলার বা পরিবেশকরা একে অপরকে দোষারোপ করার এক নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে| এলপিজি উৎপাদন ও বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা তাদের নিজস্ব প্ল্যান্ট থেকে সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত দামেই বাজারে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে| তাদের অভিযোগ, মূলত ডিলার, পরিবেশক এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে নিজেদের কাছে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার মজুত করে এই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে| অন্যদিকে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা| তাদের সুস্পষ্ট অভিযোগ, আগামী অক্টোবর মাসে এলপিজির দাম সরকারিভাবে আরও এক দফা বাড়তে পারে—এমন আগাম আশঙ্কায় কোম্পানিগুলোই পরিকল্পিতভাবে বাজারে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে| আর ঠিক এই সরবরাহ ঘাটতির কারণেই বাজারে দাম হু হু করে বাড়ছে| তবে এই দোষারোপের খেলায় যে পক্ষই মূল কারিগর বা বড় মুনাফাভোগী হোক না কেন, দিন শেষে এর একমাত্র নিষ্ঠুর শিকার হচ্ছেন দেশের সাধারণ ও নিরুপায় ভোক্তারা| ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহকরা এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধির জন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের চরম দুর্বল নজরদারি এবং বাজার তদারকির অভাবকেই প্রধানত দায়ী করছেন|

বর্তমান সময়ে বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাসের সংযোগ প্রদান প্রায় বন্ধ থাকায় এবং বিদ্যমান সংযোগগুলোতেও গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ রান্নাবান্নার দৈনন্দিন কাজের জন্য সিলিন্ডারের এলপি গ্যাসের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন| শুধু বাসাবাড়িই নয়, রাস্তার ধারের ছোট চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মাঝারি ও বড় মাপের রেস্তোরাঁগুলোও এখন সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল| আন্তর্জাতিক বাজারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বৈরী পরিস্থিতি ও যুদ্ধাবস্থার অজুহাত পুঁজি করে দেশের এলপিজির বাজার নিয়ে রীতিমতো নৈরাজ্য শুরু করেছে একটি অসাধু চক্র| বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দিলেও, মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন স্তরের বিক্রেতারা তা মোটেও আমল নিচ্ছেন না| সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়া নিরুপায় গ্রাহকরা বাধ্য হয়ে নিজেদের পকেট কেটে বাড়তি দামে গ্যাস কিনে ব্যবসায়ীদের পকেট ভারী করছেন| বাজারের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এবারের এই এলপিজি সংকট সম্পূর্ণ কৃত্রিম এবং এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাতারাতি অতি মুনাফা অর্জন করা|

অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তার একটি বাস্তব চিত্র পাওয়া যায় রাজধানীর রামপুরা এলাকার এক চা-দোকানি মনির হোসেনের কথায়| তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাজারে হঠাৎ করেই এলপি গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে| চলতি মাসের প্রথম দিকেও তিনি ১২ কেজি ওজনের একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনেছিলেন ১ হাজার ৬০০ টাকায়| অথচ কয়েক দিন পরই তাকে সেই একই ওজনের সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে| এত চড়া দামে গ্যাস কিনে দীর্ঘ সময় ধরে চুলার আগুনে চায়ের পানি গরম রাখতে গেলে তার ব্যবসার পুঁজি টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে| বাধ্য হয়ে তিনি এখন বাসা থেকে পানি গরম করে বড় ফ্লাক্সে ভরে দোকানে নিয়ে আসছেন, যাতে গ্যাসের খরচ কিছুটা হলেও কমানো যায়| অথচ বিইআরসির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা| সেই হিসাবে প্রতি কেজি গ্যাসের দাম দাঁড়ায় ১২১ দশমিক ৩২ টাকা| কিন্তু যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকাতেও ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকায়, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি|

দনিয়ার রসুলপুর এলাকার এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, গত আগস্ট মাসে তিনি ৩৫ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনেছিলেন ৫ হাজার ৪০০ টাকায়| কিন্তু গতকাল বাজারে গিয়ে তিনি ৩৫ কেজির কোনো সিলিন্ডারই খুঁজে পাননি| বাধ্য হয়ে তাকে ৩৩ কেজি গ্যাসের একটি সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে| অথচ বিইআরসির সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী ৩৩ কেজি গ্যাসের সর্বোচ্চ দাম হওয়ার কথা ৪ হাজার ৩৬০ টাকা| ওই ক্রেতা যখন এত বেশি দাম নেওয়ার কারণ জানতে চান, তখন দোকানি সোজাসাপ্টা জানিয়ে দেন যে বাজারে কোম্পানির তরফ থেকে কোনো সরবরাহ নেই, তাই দাম বেশি| শুধু তাই নয়, ওই বিক্রেতার নিজের দোকানে ৩৩ কেজির সিলিন্ডার মজুত ছিল না, তিনি বেশি লাভের আশায় অন্য জায়গা থেকে সেটি জোগাড় করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন| রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এবং মেরাদিয়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের খুচরা দোকান গ্যাস না থাকার নোটিশ ঝুলিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে| মেরাদিয়া বাজারের একটি খুচরা দোকানের কর্মী শিপলু হতাশা ব্যক্ত করে জানান, বিভিন্ন কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের সরাসরি জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে কারখানায় গ্যাস শেষ হয়ে গেছে| অনেক সময় খালি সিলিন্ডার নিয়ে ট্রাক কোম্পানির গেটে গেলেও তা খালি হাতে ফেরত আসছে| আবার কোনো কোনো কোম্পানি সিলিন্ডার নিতে হলে গাড়ি নিয়ে অন্তত ছয় দিন কারখানার গেটে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছে| কোম্পানির এই অনীহার কারণেই মূলত বাজারে চরম সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে| এছাড়া গ্যাস প্ল্যান্টে ট্রাকের এই দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে ডিলারদের পরিবহন খরচও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে, যার দায় শেষ পর্যন্ত ক্রেতার ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে|

কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে সরবরাহ কমানোর অভিযোগ অস্বীকার করে এলপি গ্যাস আমদানি ও সিলিন্ডারজাত করার ব্যবসায় যুক্ত কোম্পানিগুলোর শীর্ষ সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) মহাসচিব আহসান জব্বার সম্পূর্ণ ভিন্ন যুক্তি দাঁড় করান| তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপি গ্যাসের সিপি (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) মূল্য অনেক বেড়ে গেছে| এছাড়া আন্তর্জাতিক রুটে গ্যাস পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জাহাজও পাওয়া যাচ্ছে না| এর ফলে অনেক অপারেটর বা কোম্পানি সময়মতো তাদের কাঁচামাল আমদানি করতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন| আবার যে সমস্ত অপারেটর অনেক কষ্টে গ্যাস আমদানি করছেন, তাদেরকে আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি জাহাজ ভাড়া গুনতে হচ্ছে| আন্তর্জাতিক বাজারের এই বিরূপ পরিস্থিতির কারণেই চলতি মাসে দেশে এলপি গ্যাসের কিছুটা সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন| তবে এই সংকটের মধ্যেও কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে সরকারনির্ধারিত দামেই বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন| তার অভিযোগ, বেশি লাভের আশায় মাঠপর্যায়ের ডিলার ও পরিবেশকেরাই গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার নিজেদের গুদামে অবৈধভাবে মজুত করে এই পরিস্থিতির ফায়দা লুটছেন|

তবে লোয়াবের এই দাবির সঙ্গে চরম দ্বিমত পোষণ করেন রকিবুল হাসান নামের একজন প্রথম সারির ডিলার| তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, দেশের বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি বর্তমানে এলপি গ্যাসের সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছে| আগামী অক্টোবর মাসে বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে দেশে এলপিজির দাম বাড়বে, মূলত এই আশাতেই কোম্পানিগুলো এখন সরবরাহ আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে| সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঠিকমতো খোঁজ নিলেই কারা সরবরাহ বন্ধ করে রেখেছে, তার আসল চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন| খুচরা ও পরিবেশক পর্যায়ে মজুত করার কোম্পানির অভিযোগটি তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ডিলারদের সঙ্গে প্রান্তিক ক্রেতার একটি সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকে| কোনো কারণে সরবরাহ বন্ধ করে দিলে ওই ডিলারের স্থায়ী গ্রাহক অন্য ডিলারের কাছে ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে| তাই একজন ডিলার নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বাড়তি খরচ করে হলেও গ্রাহকের কাছে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে বাধ্য হন| দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনের আসল কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই ডিলার জানান, তিন দিন আগে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির এলপি গ্যাস আনতে একটি ট্রাক কারখানায় পাঠানোর পর তাদের জানানো হয় যে, গ্যাস পেতে হলে ওই ট্রাককে কারখানার গেটে অন্তত সাত দিন অপেক্ষা করতে হবে| অনেক কোম্পানির প্ল্যান্টে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও এক ফোঁটা গ্যাস পাওয়া যায়নি| একটি ট্রাক কারখানার প্ল্যান্টে গ্যাসের সিলিন্ডার নেওয়ার জন্য এক দিন বসে থাকলে তার দৈনিক ভাড়া ও অন্যান্য খরচ বাবদ অন্তত ২ হাজার ২০০ টাকা লোকসান হয়| পরিবহন ও অপেক্ষার এই বাড়তি খরচের টাকা শেষ পর্যন্ত গ্যাস বিক্রির মাধ্যমেই ডিলারদের তুলে আনতে হয়, যা বাজারের সামগ্রিক দাম বাড়িয়ে দেয়|

জ্বালানি খাতের বাজার বিশ্লেষকদের সূত্রমতে, দেশে গত পাঁচ বছর ধরে গড়ে প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে এলপি গ্যাসের বাজারের সম্প্রসারণ ঘটছে| বর্তমানে দেশে প্রতি মাসে গড়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টন এলপি গ্যাসের বিপুল চাহিদা রয়েছে| বিশেষ করে গত আগস্ট মাসে বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডারজাত এলপি গ্যাসের ওপর সাধারণ মানুষের চাপ হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে যায়| ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইপলাইনের সংকটের কারণে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে এলপিজির বিক্রি অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে| বর্তমানে দেশের বাজারে ফ্রেশ, যমুনা, বসুন্ধরা, বিএম এনার্জি, ওমেরা-সহ মোট ১২টি বড় কোম্পানি এলপি গ্যাস সরবরাহের ব্যবসায় একচেটিয়াভাবে যুক্ত রয়েছে| বাজার সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যে বেশ কয়েকটি কোম্পানিতে ইতিমধ্যেই আমদানিকৃত কাঁচামালের মজুত ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা এই সংকটের আগুনে ঘি ঢেলেছে|

এলপিজির এই লাগামহীন দাম বৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকটের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য (গ্যাস) মিজানুর রহমান দেশের সার্বিক আমদানি পরিস্থিতির একটি আশাব্যঞ্জক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন| তিনি জানান, গত আগস্ট মাসে দেশে মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপি গ্যাস আমদানি করা হয়েছিল, যা দেশের মাসিক চাহিদার চেয়েও বেশি| এছাড়া চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত ইতিমধ্যে ১ লাখ ১৮ হাজার টন এলপি গ্যাস দেশে এসে পৌঁছেছে| মাসের বাকি সময়টাতেও আরও বেশ কিছু পরিমাণ এলপি গ্যাস আমদানি হয়ে দেশে প্রবেশ করবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন| এই পরিসংখ্যানের হিসাব তুলে ধরে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, বাজারে যে সরবরাহ সংকটের কথা ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই সঠিক বা যৌক্তিক নয়| তবে পাইপলাইনের সমস্যার কারণে বাজারে হঠাৎ করে এলপি গ্যাসের চাহিদা যে অনেকটাই বেড়েছে, সে বিষয়টি তিনি স্বীকার করে নেন| আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জাহাজভাড়া কিছুটা বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও গ্যাসের দামের কিছুটা ওঠানামা হতে পারে| কিন্তু এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে পুঁজি করে দেশের বাজারে দাম নিয়ে যে নৈরাজ্য চলছে, তা শক্ত হাতে দমন করার জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে| বাজার ঠিক রাখতে বিইআরসি ঠিক কী ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে কমিশনের অভ্যন্তরে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে| আজ রোববারও কমিশন সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করবে| প্রয়োজনে বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে এলপিজি অপারেটরদের সরাসরি তলব করে তাদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত শুনবে কমিশন এবং সে অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|

তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category