• মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
Headline
কওমি রাজনীতিতে ক্ষমতার নতুন মেরুকরণ: জামায়াত-হেফাজত স্নায়ুযুদ্ধে ভাঙনের মুখে ইসলামী ঐক্য ‘ভূমি সেবা জনগণের প্রতি করুণা নয়’: হয়রানিমুক্ত আধুনিক ব্যবস্থাপনার কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন রূপরেখা জ্বালানি মজুতে স্বস্তি, ডিসেম্বরেই খুলছে তৃতীয় টার্মিনাল: তথ্যমন্ত্রীর অভয়বাণী জিলহজের পুণ্যময় দিনগুলো: অফুরন্ত রহমত ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ পশ্চিমবঙ্গে ইমাম ও পুরোহিতদের সরকারি ভাতা বাতিল নতুন পে স্কেলে কার কত লাভ? একনজরে দেখে নিন গ্রেড ও ভাতার চমক কোরবানির আগে পশ্চিমবঙ্গে গরুর হাটে হাহাকার, বিপাকে হিন্দু খামারিরা মিত্রদের চাপে ইরানে হামলা স্থগিত ট্রাম্পের মার্কিন মুলুকে ‘রক্তস্নানের’ হুঁশিয়ারি কিউবার

নতুন পে স্কেলে কার কত লাভ? একনজরে দেখে নিন গ্রেড ও ভাতার চমক

Reporter Name / ২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা, জল্পনা-কল্পনা এবং তীব্র মূল্যস্ফীতির কশাঘাতের পর অবশেষে দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে যাচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি এবং বিপুল আর্থিক ব্যয়ের কথা মাথায় রেখে এই নতুন পে স্কেল একযোগে বাস্তবায়ন না করে তিন ধাপে কার্যকর করার একটি সুচিন্তিত ও সতর্ক রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের প্রায় ৩৩ লাখ সুবিধাভোগীর (পেনশনভোগীসহ) মধ্যে একদিকে যেমন স্বস্তি নেমে এসেছে, তেমনি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নানামুখী মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই সরকারের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বলে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার অনেকের মতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কারণে বাজার পরিস্থিতির কাছে এই বেতন বৃদ্ধির সুফল মার খেয়ে যেতে পারে।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের বেতন কমিশনের প্রস্তুতকৃত এই নবম পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করলে এর বিশালত্ব ও আর্থিক ব্যাপ্তির একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই নতুন বেতন কাঠামো যদি এক ধাপে বা একযোগে শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং তৎপরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনীতির ক্ষতগুলো সারিয়ে তোলার এই ক্রান্তিলগ্নে এত বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থের জোগান দেওয়া সরকারের জন্য কার্যত অসম্ভব। তাই অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের এক দীর্ঘ ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেশের সার্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে এই তিন ধাপের খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের মতো বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগীরাও সব সময় অনুৎপাদনশীল খাতে হঠাৎ করে বিপুল সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির বিপক্ষে পরামর্শ দিয়ে থাকে, কারণ এটি বাজারে মাত্রাতিরিক্ত তারল্য প্রবাহ তৈরি করে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে।

সরকারের নতুন এবং সতর্ক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ধাপে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত মূল বেতনের (বেসিক স্যালারি) ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এরপর দেশের অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালে দ্বিতীয় ধাপে অর্থাৎ ২০২৭-২৮ অর্থবছরে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। সবশেষে তৃতীয় ধাপে গিয়ে মূল বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাগুলো বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করে প্রদান করা হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই তিন ধাপের কৌশলটি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত। কারণ, বাজারে যদি একবারে এক লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থ প্রবেশ করে, তবে জিনিসপত্রের দাম রাতারাতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও সেন্ট্রাল পে কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করার সময় মূল বেতন এবং ভাতার মধ্যে একটি সময়গত ব্যবধান রাখা হয়, যাতে বাজার এই বিশাল অর্থের ধাক্কাটি ধীরে ধীরে হজম করতে পারে।

প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেলের কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের কাঠামোটিই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, তবে অর্থের অঙ্কে পরিবর্তন আনা হয়েছে ব্যাপক। সবচেয়ে বড় এবং ঐতিহাসিক পরিবর্তনটি এসেছে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনের ক্ষেত্রে। ২০তম বা সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রথম গ্রেড বা সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সার্বিকভাবে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এবং বেতন কমিশনের অন্যতম সদস্য ড. এ কে এনামুল হক এই বিপুল বৃদ্ধির পেছনের মানবিক ও অর্থনৈতিক যুক্তিটি ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, বর্তমান বাজারমূল্যে ৮,২৫০ টাকা মূল বেতনে একটি পরিবারের বেঁচে থাকা অসম্ভব। প্রজাতন্ত্রের কোনো সরকারি কর্মচারী যেন কোনোভাবেই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করতেই সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন অন্য গ্রেডগুলোর তুলনায় আনুপাতিক হারে কিছুটা বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এটি সরকারের একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের দর্শনেরই প্রতিফলন।

এবারের পে স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু অভাবনীয় এবং ইতিবাচক সুপারিশ করা হয়েছে, যা আগে কখনোই দেখা যায়নি। বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম বড় উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসবের আমেজ তৈরি করবে। এছাড়া, যাতায়াত ভাতা আগে কেবল ওপরের দিকের গ্রেডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, এবার তা সম্প্রসারণ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত প্রান্তিক কর্মচারীদের জন্যও প্রযোজ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শহর অঞ্চলে বসবাসকারী কর্মচারীদের সবচেয়ে বড় আয়ের অংশ চলে যায় বাড়িভাড়ায়। এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়ে ১১তম থেকে ২০তম ধাপে থাকা কর্মচারীদের বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে বেশি সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ রাখা হয়েছে, যাতে তারা মানসম্মত বাসস্থানে পরিবার নিয়ে বসবাস করতে পারেন।

কর্মরত কর্মচারীদের পাশাপাশি যারা জীবনের সোনালি সময়গুলো রাষ্ট্রের সেবায় ব্যয় করেছেন, সেই অবসরপ্রাপ্ত বা পেনশনভোগীদের জন্যও এই পে স্কেলে বড় ধরনের সুখবর ও পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে বয়স্ক মানুষদের চিকিৎসা ও ওষুধপত্রের ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করে, যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার কম, তাদের ক্ষেত্রে পেনশন একলাফে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি, বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতা বর্তমানের ৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি সম্মান এবং তাদের শেষ বয়সের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক সিদ্ধান্ত।

তবে সরকারের এতসব ইতিবাচক উদ্যোগ সত্ত্বেও তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নেতা আব্দুল মালেক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অ-ক্যাডার কর্মচারী সিকান্দার আলীসহ মাঠপর্যায়ের অনেক নেতাই দাবি তুলেছেন যে, পে স্কেল যেকোনো মূল্যে এক ধাপেই বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের এই দাবির পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের বাজারের এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক আচরণ বা ‘সিন্ডিকেট সিনড্রোম’। তাদের আশঙ্কা ও তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো, পে স্কেল তিন বছর ধরে দফায় দফায় বাস্তবায়নের খবর যখনই বাজারে বা গণমাধ্যমে আসবে, তখন বাড়িওয়ালারা প্রতি বছরই নতুন করে বাড়িভাড়া বাড়াবেন এবং মুদি দোকানিরা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেবেন। কর্মচারীদের পকেটে পুরো টাকা আসার আগেই যদি বাজারের আগুনে তাদের ক্রয়ক্ষমতা পুড়ে ছাই হয়ে যায়, তবে এই বিশাল বেতন বৃদ্ধির কোনো সুফলই তারা ভোগ করতে পারবেন না। এই ‘ওয়েজ-প্রাইস স্পাইরাল’ বা মজুরি ও দামের দুষ্টচক্রের ভয়টি একেবারে অমূলক নয়।

অন্যদিকে, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আরেকটি সচেতন এবং বাস্তববাদী অংশ মনে করেন, তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া নতুন নির্বাচিত সরকারের পক্ষে নবম পে কমিশনের সুপারিশ শতভাগ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করার মতো আর্থিক সক্ষমতা বা ‘ফিসক্যাল স্পেস’ এই মুহূর্তে সত্যিই নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের মতো অনেকেই মনে করেন, একটি নির্বাচিত এবং গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। দেশ যখন একটি ক্রান্তিকাল পার করে সবেমাত্র স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে, তখন প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মচারী হিসেবে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ বা আন্দোলন না করে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্বার্থে সরকারি নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা মেনে চলাই তাদের প্রধান নৈতিক দায়িত্ব।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, এই ঐতিহাসিক পে স্কেল বাস্তবায়নের ফলে দেশের সামরিক বাহিনীর সদস্য, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ মোট উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২৪ লাখে। এর বাইরেও সুবিধা পাবেন আরও প্রায় ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী। গত ২১ জানুয়ারি বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বেতন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছিল। এখন আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আসন্ন জাতীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত, সুনির্দিষ্ট এবং আইনি কাঠামোসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে বলে বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। তবে বেতন কাঠামোর এই পরিবর্তন তখনই সত্যিকার অর্থে সফল হবে, যখন সরকার কঠোর হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং বাড়িভাড়া বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে সক্ষম হবে।

তথ্যসূত্র: দেশ রূপান্তর ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category