প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, সক্ষমতা ও সামর্থ্য বিবেচনা করে ফিজিবিলিটি স্টাডির মাধ্যমে যত বেশি সম্ভব ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভবন এবং শিল্প-কলকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার।
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এ ‘লিডিং বাই এক্সাম্পল: স্কেলিং রুফটপ সোলার ইন পাবলিক সেক্টর’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা কোনো আকস্মিক ভাবনা নয়, বরং বহু বছর আগেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে বারবার বলেছেন যে, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হলে সৌরশক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর সেই দূরদর্শী ভাবনা আজ জাতীয় নীতিমালায় প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন আগে কেবল সৌরশক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেননি, বরং দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি তাঁর নিজের বাসভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে লক্ষাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৌরবিদ্যুৎ বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপযুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদ বা অব্যবহৃত খালি জায়গা চিহ্নিত করে সৌরবিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসা হবে। দেশের চলমান ৫০টিরও বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০টিরও অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুতের এই প্রসারকে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মূল কাজটি করবে বেসরকারি খাত। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও পুঁজি ব্যবস্থাপনার সুযোগসহ একটি অনুকূল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। সোলার প্যানেলের স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্প বাড়াতে সরকারের প্রথম বাজেটেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
দেশে কাক্সিক্ষত ‘সোলার বিপ্লব’ সফল করতে বসতবাড়ি, কলকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ সব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে সৌরশক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান মাহদী আমিন।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুল হক, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হাসান জফির তুহিন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ.কে.এম. সোহেল, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর আকিরা মাতসুনাগা ও সোলারিকের পরিচালক প্রকৌশলী নাজনীন আক্তার।