• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন
Headline
১০১ শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রিজন ভ্যান খুলে দেন এসআই প্রদীপ, প্রাইভেট কারে পালান পিচ্চি রাজা শুধু মালদ্বীপ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বঙ্গোপসাগরজুড়ে: নাশিদ সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুমিল্লার যুবক নিহত ৪,৫৮৬ ইউনিয়নে মা-শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বাছাই করা হবে নতুন উপকারভোগী শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু জীবিকা নয়, ভালো নাগরিক হওয়া: নৌ মন্ত্রী সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী টেকসই গণতন্ত্রের জন্য নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে: সিইসি গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী ফ্রান্সে ১৮ দিনে গ্রেপ্তার ৫ হাজার

ফ্রান্সে ১৮ দিনে গ্রেপ্তার ৫ হাজার

Reporter Name / ৩ Time View
Update : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

ফ্রান্সে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া একটি স্থানীয় আন্দোলন জাতীয় বিক্ষোভের রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর অভিযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫ হাজার জনেরও বেশি আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি পুলিশ। গত ১৮ দিনে আন্দোলনকারীরা রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন জেলায় মোট ২৪টি স্কুলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন। বিক্ষোভের তেজ কমাতে গত কাল দেশজুড়ে প্রায় ৫০০ স্কুলি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ফ্রান্সের সরকার।

রোববার এই ঘোষণা দিয়ে ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দো জেফ্রে জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে এই স্কুলগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার; কারণ সরকার মনে করছে, এই অবস্থায় স্কুলগুলোর কার্যক্রম চালানোর মতো পরিবেশ নেই।

তবে স্কুল বন্ধ করলেও উত্তেজনা হ্রাসের কোনো দৃশ্যমান আলামত এখনও দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন, সড়ক অবরোধ এবং মিছিল অব্যাহত রেখেছে। ফ্রান্সে মোট হাইস্কুল-জুনিয়র স্কুলের সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০টি। বিক্ষোভ শুরুর পর প্রথম দিকে প্রায় ৪০০টি স্কুল বন্ধ করেছিল সরকার; রোববার এসব স্কুলের সঙ্গে যোগ হলো আরও ৫০০ স্কুল।

আন্দোলন শুরু হয়েছিল যেভাবে

প্যারিসের শহরতলী এলাকার একটি হাই স্কুলে ১৭ সেপ্টেম্বর এই অস্থিরতা শুরু হয়। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অপর্যাপ্ত শিক্ষক এবং স্কুলের দীর্ঘ সময়সীমার প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বা ‘ক্লাস সাইজ’ নিয়েও অভিযোগ উঠেছিল। পরে এই বিক্ষোভই রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার স্কুলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শত শত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। বর্তমানে এ আন্দোলন পুরো ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়েছে।

সহিংসতা ও গ্রেপ্তার

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে জেফ্রে জানান, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১৭০ জন শিক্ষার্থী এবং ৭৮ জন শিক্ষক-স্কুল কর্মী আহত হয়েছেন এবং ২৪টি স্কুল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বা ভাঙচুর করা হয়েছে।

পৃথক এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেজ জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

সরকার এর জন্য বাইরের উসকানিদাতাদের দায়ী করেছে। এক রেডিও সাক্ষাৎকারে জেফ্রে বলেন, উগ্র-বামপন্থী কর্মীরা ছাত্র আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং আন্দোলনটিকে চরম সহিংসতা ও অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সমালোচকরা অবশ্য এই পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। কঠোর দমন-পীড়নের বিরোধীরা পুলিশের কৌশলকে ‘অতিরিক্ত’ বা ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, তরুণ বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠস্বর দমন না করে বরং তা শোনা উচিত।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে অস্থিরতা কিছুটা স্তিমিত থাকলেও, আয়োজকরা আগামীকাল ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে আবারও বড় আকারের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর ডাক দিয়েছেন। তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার তাদের দাবি পূরণে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। অচলাবস্থা অব্যাহত থাকা এবং উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায়, এই সংকটের কোনো স্পষ্ট সমাধানের পথ দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র : এএফপি, জি নিউজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category