ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় গোলেস্তান প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতুতে বৃহস্পতিবার ভোরে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই সুনির্দিষ্ট হামলার ফলে ইরানকে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্তকারী আন্তর্জাতিক রেল করিডোরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পরপরই ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ এবং উদ্ধারকাজের জন্য ঘটনাস্থলে জরুরি সেবাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গোলেস্তান প্রদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘আক তেকেহ খান’ সেতুতে একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। পরবর্তীতে গোলেস্তানে মোতায়েন করা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর স্থলবাহিনীর প্রাদেশিক অপারেশনাল ইউনিট ‘নেয়নাভা করপস’ এক বিবৃতিতে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, সেতুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় হলো, এই হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বেসামরিক নাগরিক বা সামরিক বাহিনীর সদস্য হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এই হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে, বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। একের পর এক এই হামলার বিষয়ে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার জন্য ইরানের সম্ভাব্য হুমকি সৃষ্টির সামরিক সক্ষমতাকে আরও দুর্বল ও ধ্বংস করার লক্ষ্যেই মার্কিন বাহিনী এই অতিরিক্ত ও আকস্মিক হামলাগুলো চালিয়েছে। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।