জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকাল ৫টায়। অধিকাংশ সংসদ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেও ছয়জন ভোট দেননি।
নির্বাচন কমিশন গঠিত প্যানেলের অধীনে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ প্রায় সব সংসদ সদস্য ভোট দেন।
পরে বিকাল ৫টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, এখন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারা ভোট গণনা করবেন। গণনা শেষ হওয়ার পর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
যারা ভোট দেননি- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক ও চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান ও জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতাজনিত কারণে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার ভোট দেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুল ইসলামকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে তার ভোটকেন্দ্রে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে পৃথক কোনো কারণ জানা যায়নি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বিএনপি কিংবা ১১ দলীয় জোটের যে কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে ভোট কক্ষে দেখা যায়নি।
এছাড়া কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা ও সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের ভোট না দেওয়ার কারণ জানা যায়নি।
এদিকে, প্রথমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরবর্তীতে ভোট দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ।
ভোটগ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে আসনভিত্তিক ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণের জন্য তিনটি নির্ধারিত ব্যালট বক্স রাখা হয়েছিল। সংসদ সদস্যরা ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করে গোপনীয়তার সঙ্গে ভোট প্রদান করেন।
ভোট দেওয়ার পর বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দলীয় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেন।