গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও আপাতত কোনো ধরনের সংঘাত বা কঠোর কর্মসূচিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট। জনদুর্ভোগ এড়াতে এবং নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি সঞ্চয় করে ধাপে ধাপে আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিতে চায় তারা। জোটের লিয়াজোঁ কমিটি ও শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে এমন কৌশলী অবস্থানের আভাস পাওয়া গেছে।
১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকা। তিনি বলেন, “সরকার দাবি মেনে নিলে ভালো, অন্যথায় আমাদের ধারাবাহিক আন্দোলন চলতেই থাকবে। আমরা ধাপে ধাপে কর্মসূচি এগিয়ে নিতে চাই।”
আন্দোলনের সম্ভাব্য রোডম্যাপ:
প্রথম ও বর্তমান ধাপ: বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশের মাধ্যমে জনমত গঠন।
দ্বিতীয় ধাপ: বিভাগীয় পর্যায়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ।
চূড়ান্ত ধাপ: রাজধানীতে বিশাল জাতীয় সমাবেশের মাধ্যমে পরবর্তী রূপরেখা ঘোষণা।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে তারা ধ্বংসাত্মক কোনো পথে হাঁটতে চান না। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, “আমরা অতীতের মতো মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো কর্মসূচিতে যাব না। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা শান্তিপূর্ণ লড়াই চালিয়ে যাব।”
বিশেষ করে দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষের ওপর যাতে বাড়তি চাপ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রেখেই আন্দোলনের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে আন্দোলনের সক্ষমতা ধরে রাখাই এখন ১১ দলের প্রধান লক্ষ্য।
আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ ও জাতীয় সমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করতে আগামী ৩০ এপ্রিল ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এই বৈঠকেই বিভাগীয় সমাবেশগুলোর চূড়ান্ত তারিখ এবং রাজধানীর জাতীয় সমাবেশের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
১১ দলের নেতারা শান্তিপূর্ণ অবস্থানের কথা জানালেও একটি ‘সতর্কবার্তা’ দিয়ে রেখেছেন। তাঁদের মতে, সরকার যদি দাবি না মেনে উল্টো ফ্যাসিস্ট কায়দায় আন্দোলন দমন করতে চায়, তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে।