• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন
Headline
মানবপাচারের মহোৎসব ও আমাদের দায় মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপি এলিজার মনোনয়নপত্র জমা সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী খান পুনর্বহাল সিঙ্গাপুরে তেলের মজুত গড়বে সৌদি আরামকো ক্রসফায়ারের বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইজিপির জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি টিআইবির চলতি বছরই ১ লাখ আনসার সদস্যকে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা: আনসার ডিজি দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসার রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত গেলেন এনএসআই মহাপরিচালক দেশের মানুষ আপনার অপেক্ষায় আছে: হাসিনাকে দুলু রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ দিয়েছে সরকার

সূর্যোদয়ের দেশে নতুন দিগন্ত: চার দশকের বন্ধনে ঢাকার অর্থনৈতিক বাজি

Reporter Name / ৬ Time View
Update : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের প্রতিটি ধাপে সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে পাশে থেকেছে জাপান। কোনো ধরনের ভূরাজনৈতিক শর্তের মারপ্যাঁচে না গিয়ে নিঃশব্দে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদের পুনর্গঠন থেকে শুরু করে মেগা অবকাঠামো বিনির্মাণে টোকিওর যে ধারাবাহিক অবদান, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য। এই ঐতিহাসিক ও নিবিড় অংশীদারিত্বের পটভূমিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফর কেবল একটি নিয়মিত কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সহযোগিতাকে এক সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আজ ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই রাষ্ট্রীয় সফর ঘিরে টোকিও এবং ঢাকা উভয় প্রান্তেই তৈরি হয়েছে বিপুল উদ্দীপনা। বিশেষ করে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে সরাসরি জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের জোয়ার সৃষ্টি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপে রূপ দেওয়াই এই সফরের মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকা ও টোকিওর এই উষ্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের শেকড় প্রোথিত রয়েছে সুদূর অতীতে। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে শুরু হওয়া এই মৈত্রীকে একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৮ সালের এপ্রিলে তিনি সহধর্মিণী খালেদা জিয়াকে নিয়ে পাঁচ দিনের ঐতিহাসিক সফরে জাপানে গিয়েছিলেন। সেই সফরে জাপানের তৎকালীন সম্রাট হিরোহিতোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার এক মজবুত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। পরবর্তীকালে ১৯৮০ সালের জুলাইয়ে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাসায়োশি ওহিরার প্রয়াণে তাঁর শেষকৃত্যে অংশ নিতে দ্বিতীয় দফায় টোকিও ছুটে গিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান, যা দুই দেশের রাজনৈতিক নৈকট্যকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উজ্জ্বল করেছিল। সেই ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তরের ওপর দাঁড়িয়ে পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় টেনে নেন। আজকের বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত অবকাঠামো পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই এবং অর্থায়নের প্রথম আনুষ্ঠানিক রূপরেখা তৈরি হয়েছিল তাঁর শাসনামলে জাপানি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমেই। এমনকি বর্তমান ঢাকার আধুনিক যোগাযোগের প্রতীক যে মেট্রোরেল, সেই আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রাথমিক স্বপ্ন ও জাপানি কারিগরি সহায়তার প্রথম অনুরোধটিও উঠেছিল বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে। ফলে জিয়া পরিবারের সঙ্গে জাপানের এই সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়, বরং এটি কয়েক প্রজন্মের ধারাবাহিক আস্থা ও বিশ্বাসের এক ঐতিহাসিক মেলবন্ধন। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সেই কূটনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও পৌঁছানো তাই জাপানি নীতিনির্ধারকদের কাছেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

চার দিনের এই নিবিড় সফরে আগামী ২৭ অক্টোবর টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তারেক রহমানের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দুই শীর্ষ নেতার এই বৈঠক শেষে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি রাজকীয় মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম এই জাপান সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে টোকিও প্রশাসন। ঢাকায় নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই সফরের মাধ্যমে ২০২৩ সালে শুরু হওয়া দুই দেশের বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও বেশি গতিশীল ও দৃশ্যমান হবে। জাপান মনে করে, দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও অভিন্ন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাপানি সহযোগিতা কীভাবে আরও সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর হতে পারে, তা নির্ধারণে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সরাসরি আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে।

অর্থনৈতিক কূটনীতির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই সফরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। বিগত কয়েক বছরের বৈশ্বিক মন্দা এবং অভ্যন্তরীণ নানা অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন সরকার যেভাবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে জাপানি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে টোকিও। এই অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগাতে সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরাম’-এ মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। এর বাইরে তিনি জাপানের শীর্ষ বাণিজ্যিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে মিলিত হবেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানি বিনিয়োগের অফুরন্ত সুযোগ, সস্তা ও দক্ষ শ্রমশক্তির প্রাপ্যতা এবং শিল্পে যৌথ উদ্যোগের সুবিধার চিত্র তুলে ধরবেন। পাশাপাশি দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ’ এবং বাণিজ্য প্রসারে যুক্ত ‘জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’-এর প্রতিনিধিদের সাথেও সরকারপ্রধানের পৃথক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের এই বিশাল সমীকরণকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী জাপানের অর্থনৈতিক সহায়তার মূল চালিকাশক্তিগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সাথে একান্তে বৈঠক করবেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকার প্রেসিডেন্ট, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন বা জেট্রোর প্রধান, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের গভর্নর এবং মানবহিতৈষী গবেষণা সংস্থা সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই বৈঠকগুলোর মূল উদ্দেশ্য হবে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নতুন নতুন উৎপাদনশীল খাতে রেয়াতি ঋণ ও সরাসরি অনুদান নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুগান্তকারী ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ বা ইপিএ-কে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করার কৌশল চূড়ান্ত করা হবে। এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে জাপানের বিশাল ও উন্নত ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, কৃষিপণ্য ও চামড়াজাত দ্রব্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের স্থায়ী সুযোগ নিশ্চিত হবে।

কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প বিপ্লবের অভিজ্ঞতা সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে একাধিক বিশেষায়িত শিল্প পরিদর্শন। এর মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই রূপান্তরের অংশ হিসেবে চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে অবস্থিত সর্বাধুনিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি টার্মিনাল ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বখ্যাত পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর মূল সদর দপ্তর পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতকে কীভাবে আরও আধুনিক, টেকসই ও উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তর করা যায়, সে বিষয়ে যৌথ উদ্যোগের পথ খোঁজা হবে। এর পাশাপাশি মোটরগাড়ি শিল্পের বৈশ্বিক পরাশক্তি টয়োটা কোম্পানির নাগোয়া কারখানাও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে স্থাপিত জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে আধুনিক গাড়ি নির্মাণ কারখানা ও উন্নত যন্ত্রাংশ তৈরির কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে টয়োটা কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে, যা সফল হলে দেশে এক নতুন স্বয়ংক্রিয় প্রকৌশল বিপ্লবের সূচনা ঘটবে।

দ্বিপাক্ষিক এই শীর্ষ বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে বহুমুখী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। পররাষ্ট্রসচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সফরকালে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা, গভীর সমুদ্রে টেকসই মৎস্য আহরণ বা সুনীল অর্থনীতি, বেসামরিক বিমান চলাচল ও যোগাযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোর প্রাতিষ্ঠানিক আধুনিকায়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সই হতে পারে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকবে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। জাপানের সংকুচিত শ্রমবাজার এবং ক্রমবর্ধমান বার্ধক্যের চাপ সামলাতে বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণদের ভাষা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দিয়ে নার্সিং, কেয়ারগিভিং, আইসিটি, মেকানিকস এবং অটোমোবাইল খাতে দক্ষ কর্মী হিসেবে জাপানে পাঠানোর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করার বিষয়েও বিশদ আলোচনা হবে। এটি কেবল প্রবাসীদের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন দুয়ারই খুলবে না, বরং জাপানি কাজের সংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ এক বিশাল দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তুলবে।

অর্থনৈতিক বিষয়াবলীর পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তার প্রশ্নগুলোও এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা এবং কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সুরক্ষার জন্য যে মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে, তা অনুধাবন করে এই মানবিক সংকটের একটি টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জাপানের সক্রিয় ভূমিকা চাইবে ঢাকা। একই সাথে বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং জ্বালানি সংকটের মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলো যৌথভাবে মোকাবিলার বিষয়টিও আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।

জাপান দূতাবাস এই সফর প্রসঙ্গে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট একটি বার্তা দিয়েছে, আর তা হলো কেবল কাগজে-কলমে চুক্তি স্বাক্ষর বা আশ্বাসের মধ্যেই যেন সবকিছু আটকে না থাকে। টোকিও বারবার জোর দিচ্ছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর স্বচ্ছ, দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। জাপানি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হলে ব্যবসা পরিচালনার অভ্যন্তরীণ প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বন্দর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শুল্ক প্রক্রিয়ার জটিলতা নিরসন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। চার দশক আগে শহীদ জিয়াউর রহমান জাপানের সাথে যে বিশ্বাসের সাকো গড়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া যার আধুনিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর সেই সাকোকে এক বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক মহাসড়কে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের প্রথাগত ঋণগ্রহীতার পরিচয় ছাপিয়ে একটি স্বনির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনমুখী আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের এই সুবর্ণ সুযোগটি বাংলাদেশ কতটুকু কাজে লাগাতে পারবে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী কয়েক দশকের জাতীয় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি।

তথ্যসূত্র: কালেন কন্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category