লাতিন আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে দুই দলই নিজ নিজ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠেছে। আর্জেন্টিনা অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে এবং ব্রাজিল স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে গ্রুপ সেরা হয়েছে। এই সাফল্যের ফলে নকআউট পর্বের ড্র অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই দুই দল যদি ধারাবাহিকভাবে জয়ী হতে পারে, তবে ফাইনালের আগেই সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই দলের।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা—উভয়কেই সেমিফাইনালে পৌঁছাতে হলে পার হতে হবে তিনটি কঠিন ধাপ: শেষ ৩২, শেষ ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনাল। এই তিনটি বাধা অতিক্রম করলেই ১৫ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই লাতিন জায়ান্ট। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া এই সম্ভাব্য ম্যাচটি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এখন থেকেই ব্যাপক উত্তজনা বিরাজ করছে।
আর্জেন্টিনার জন্য পথটা মোটেও সহজ নয়। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে অথবা সৌদি আরবের যেকোনো একটি দলের মুখোমুখি হতে হতে পারে। এরপর শেষ ১৬-তে তাদের অপেক্ষায় থাকতে পারে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া কিংবা বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দল। যদি পর্তুগাল তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলো জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবে মেসি বনাম রোনালদোর ঐতিহাসিক লড়াইয়ের সাক্ষী হতে পারে ফুটবল বিশ্ব। এই ম্যাচটি হবে এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত।
ব্রাজিলের যাত্রাও বেশ চ্যালেঞ্জিং। শেষ ৩২-এ তাদের মোকাবিলা করতে হতে পারে নেদারল্যান্ডস, সুইডেন অথবা জাপানের মতো দলকে। এরপর শেষ ১৬-তে তাদের সামনে কঠিন পরীক্ষার কারণ হতে পারে নরওয়ে বা ফ্রান্সের মতো দল। আর কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে শক্ত প্রতিপক্ষদের হারিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখা ব্রাজিলের জন্য বড় মিশন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দেখা হওয়ার ঘটনা বরাবরই বিরল। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে আর কখনো মুখোমুখি হয়নি এই দুই দল। ইতিহাসের পাতায় এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তারা লড়েছে মাত্র চারবার, যার মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে দুটি ম্যাচ এবং আর্জেন্টিনা জিতেছে একটি, অন্যটি হয়েছে ড্র। তবে সামগ্রিক মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আছে আর্জেন্টিনা। এখন পর্যন্ত ১০৬টি ম্যাচে আলবিসেলেস্তেরা জিতেছে ৪১টি ম্যাচে, যেখানে ব্রাজিলের জয় ৩৯টি এবং ২৬টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলছে—শেষ চার দেখায় তিনটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে মেসিরা বেশ আত্মবিশ্বাসী।
এখন ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন—৩৫ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই দুই দল কি পারবে নিজেদের সব বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হতে? সারা বিশ্বের ফুটবল সমর্থকরা এখন সেই স্বপ্নের মহরণের অপেক্ষায় দিন গুনছে।