চব্বিশের রক্তাক্ত জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে পুনর্গঠিত হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৪ অক্টোবর দুই বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে| বিগত দুই বছরের কার্যক্রমে ট্রাইব্যুনালের দুটি আদালত থেকে একের পর এক ঐতিহাসিক রায় এসেছে, যার মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনকালের শীর্ষ কুশীলবদের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত হয়েছে| এ পর্যন্ত সমাপ্ত হওয়া সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা বা মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে| কিন্তু রায় ঘোষণার এই বিচারিক তৎপরতা দৃশ্যমান হলেও মাঠের রূঢ় বাস্তবতা হলো, এখন পর্যন্ত এই ২৩টি মৃত্যুদণ্ডের একটিও কার্যকর করার পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি| ফলে কাগজে-কলমে ঐতিহাসিক রায় এলেও তা বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে জনমনে এবং বিশেষ করে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও গভীর সংশয়|
আইনগত তথ্য ও মামলার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে রায় ও কার্যকরের মধ্যবর্তী বিশাল ব্যবধান অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে| ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাত ধরে ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ নতুন করে যাত্রা শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত সাতটি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে| এসব রায়ে ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও ১১ জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং আরও ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে| এছাড়া একজনের কারাভোগের সময়কেই সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং রাজসাক্ষী হয়ে সত্য প্রকাশ করায় একজনকে আইনি প্রক্রিয়ায় মার্জনা করা হয়েছে| সবশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন| দণ্ডিতদের শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং পুলিশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের সাবেক কর্মকর্তা| কিন্তু এই দণ্ডাদেশগুলোর বাস্তবায়ন এখন এমন এক আইনি ও ভূরাজনৈতিক গোলকধাঁধায় আটকে পড়েছে, যার সমাধান খুব দ্রুত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না|
রায় কার্যকরের পথে সবচেয়ে বড় এবং দৃশ্যমান প্রতিবন্ধকতা হলো দণ্ডিত আসামিদের পলাতক থাকার বাস্তবতা| সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ে এ পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হওয়া মোট ৬৮ জনের মধ্যে ৪৭ জনই বর্তমানে পলাতক| আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৩ জনের মধ্যে কেবল চারজনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করতে পেরেছে; বাকি ১৯ জনই ধরাছোঁয়ার বাইরে| এদের একটি বড় অংশই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে বা অন্য কোনো নিরাপদ দেশে আশ্রয় নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে| বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত এই শীর্ষ অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখন কেবল দেশের আদালতের এখতিয়ারে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক বন্দিবিনিময় চুক্তি এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কার্যকরের দীর্ঘমেয়াদি জটিল প্রক্রিয়ার ওপর| পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখা থেকেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, দেশের ভেতরে থাকা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তাৎক্ষণিক তৎপরতা চালালেও অন্য কোনো স্বাধীন সার্বভৌম দেশে গিয়ে কাউকে সরাসরি আটক করার এখতিয়ার পুলিশের নেই| ফলে বিদেশি সরকারের সক্রিয় সদিচ্ছা ছাড়া এসব পলাতক দণ্ডিতকে ফিরিয়ে আনা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে|
এই বাস্তবতায় ট্রাইব্যুনালের সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করছেন জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্বজনরা| বিচারের এই ধীরগতি তাদের স্বজন হারানোর গভীর ক্ষতকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে| ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মিরপুর ১০ নম্বরে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারানো শহীদ শাফিক উদ্দিন আহমেদ আহনাফের মা সাফাত সিদ্দিকী পারভীনের ক্ষোভ ও আর্তি পুরো বিচারব্যবস্থার গতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়| শহীদ সন্তানের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি অত্যন্ত ভারী কণ্ঠে জানান যে, তাঁর ছেলে স্বপ্ন দেখত বড় হয়ে এমন কিছু করার যাতে পরিবার তাকে নিয়ে গর্ব করতে পারে| কিন্তু অকালে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া সন্তানের জন্য পরিবার কখনোই আত্মত্যাগের সান্ত্বনা খোঁজেনি; তারা চেয়েছিল খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার| সাফাত সিদ্দিকী পারভীন আক্ষেপ করে বলেন, জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিচারকাজ এগোয়নি এবং শুরুর দিকে যে বিলম্ব হয়েছিল তা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি| অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যে কিছুটা গতি লক্ষ করা গিয়েছিল, রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচার প্রক্রিয়ার সেই তৎপরতা অনেকটাই শিথিল ও ধীরগতির হয়ে পড়েছে| আহনাফ হত্যাকাণ্ডের মতো অতি স্পর্শকাতর মামলাটিও দুই বছর পেরিয়ে এখনো কেবল অভিযোগ গঠনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আটকে আছে, যা ভুক্তভোগীদের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা দিচ্ছে|
ভুক্তভোগীদের এই ক্ষোভের বিপরীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে| প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম উল্লেখ করেছেন যে, ট্রাইব্যুনালের মূল আইনি দায়িত্ব হলো সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষভাবে মামলার বিচার সম্পন্ন করা এবং রায় ঘোষণা করা| ট্রাইব্যুনাল সেই দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নির্ধারিত গতিতেই পালন করে চলেছে| তিনি মনে করিয়ে দেন, কোনো মামলায় মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হলেই নির্বাহী বিভাগ বা জেল কর্তৃপক্ষ পরদিনই ফাঁসির দড়ি কার্যকর করতে পারে না| আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার সুস্পষ্ট সাংবিধানিক বিধান রয়েছে| যদিও আইনে আপিল দায়েরের ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আছে, কিন্তু উচ্চ আদালতের সার্বিক মামলাজট এবং আপিলের পুঙ্খানুপুঙ্খ শুনানির প্রয়োজনীয়তার কারণে সেই নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি করা সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না| সর্বোচ্চ আদালত থেকে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া এবং রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো দণ্ড কার্যকর করা আইনিভাবে বৈধ নয়|
এ ছাড়া সাজা নির্ধারণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রসিকিউশন ও ট্রাইব্যুনালের ভেতরে গভীর বিচারিক বিতর্ক চলছে| বর্তমান ট্রাইব্যুনাল ঢালাওভাবে কেবল মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বদলে আসামির ব্যক্তিগত অপরাধের মাত্রা, প্রত্যক্ষ ভূমিকা এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সাজা নির্ধারণ করছে| উদাহরণস্বরূপ, রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার মামলায় কনস্টেবল সুজন হোসেন নিজ হাতে সরাসরি গুলি চালানো সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনাল তাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তুলনামূলক কম মেয়াদে কারাদণ্ড দেন| তবে অপরাধের গভীরতা বিবেচনায় এই সাজা বৃদ্ধি চেয়ে প্রসিকিউশন ইতোমধ্যে আপিল করেছে| একইভাবে কুষ্টিয়ার একটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডকে অপর্যাপ্ত বিবেচনা করে তাঁর সাজা বৃদ্ধির জন্যও উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করা হয়েছে| অর্থাৎ বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে আইনি যাচাই-বাছাইয়ের যে দীর্ঘ পথ, তা রায় বাস্তবায়নের সময়কে স্বাভাবিকভাবেই বাড়িয়ে দিচ্ছে|
বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতির সামনে আরেকটি বিরাট বাধা হলো মামলার পর্বতসম চাপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদের তীব্র সংকট| বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে সাতটি মামলার নিষ্পত্তি হলেও ৭০টিরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার সিংহভাগই রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সাক্ষ্যগ্রহণের জটিল পর্যায়ে| এর বাইরে ২০০৯ সাল থেকে সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অসংখ্য অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের আওতায় আসায় প্রসিকিউশনে জমা পড়া নতুন অভিযোগের সংখ্যা প্রায় ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে| অথচ এই বিপুল পরিমাণ অভিযোগ তদন্ত করা, তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা এবং আদালতে সাক্ষ্য উপস্থাপনের জন্য যে পরিমাণ আন্তর্জাতিক মানের জনবল, ফরেনসিক ল্যাব ও তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রয়োজন, তার তীব্র সংকট রয়ে গেছে| জনবল ঘাটতি এবং তদন্তের এই ধীরগতি ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ভারাক্রান্ত করে তুলছে|
দেশের বিচারিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালে গঠিত আগের ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রেও এমন দীর্ঘসূত্রতা দেখা গিয়েছিল| সেই ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় এসেছিল ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে, যেখানে পলাতক আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও তিনি কখনোই দেশে ফেরেননি| পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে দণ্ড বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট ছয়জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়েছিল| আগের ট্রাইব্যুনালে ৫৬টি মামলায় মোট ১৯৫ জনকে সাজা দেওয়া হলেও আপিল নিষ্পত্তির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে প্রায় ৭৫ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কারাগারে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন| অতীতের সেই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা সতর্ক করে দেয় যে, রায় ঘোষণার পর যদি তা কার্যকরের আইনি পথগুলো দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা না যায়, তবে চূড়ান্ত বিচারে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়|
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল বিচারে ভুক্তভোগীদের দ্রুত সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা যেমন অত্যন্ত স্বাভাবিক, তেমনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে প্রক্রিয়ার শিকার না হন এবং প্রতিটি আইনি সুরক্ষার ধাপ যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের সমান দায়িত্ব| ট্রাইব্যুনালের দুই বছর পূর্তির এই সন্ধিক্ষণে বিচারব্যবস্থার সামনে এখন তিনটি পর্বতসম চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে রয়েছে—প্রথমত, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ ত্বরান্বিত করে বিচারাধীন ৭০টির বেশি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা; দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আইনি চ্যানেলে সর্বোচ্চ চাপ তৈরি করে পলাতক শীর্ষ আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো; এবং তৃতীয়ত, সর্বোচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রতা ভেঙে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত আইনি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা| কারণ, বিচার শুধু কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে রায় ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়| অপরাধের বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ বিচার, আসামির আপিলের পূর্ণাঙ্গ আইনি সুযোগ প্রদান, পলাতক দণ্ডিতদের আইনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা এবং সমস্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করে চূড়ান্ত রায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই কেবল একটি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রকৃত পূর্ণতা আসে|
তথ্যসূত্র: নয়া দিগন্ত