• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
Headline
নয়াদিল্লিতে বিমসটেক বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ফ্রান্স বনাম স্পেন : ৩৭ হাজার কোটি টাকার সেমিফাইনাল শিশুদের স্কুল নির্বাচনঃ ১০টি পরামর্শ ইরানে এক ঘণ্টায় ৮ শহরে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র আইএমএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পে স্কেলের বিষয়ে আলোচনা হয়নি: অর্থমন্ত্রী সেনা পরিবারে বড় হয়েছি, তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে পরিবেশের যত্ন নিতে, যেখানে–সেখানে ময়লা–আবর্জনা না ফেলতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় স্টারলিংকের নতুন ট্রানজিট হাব বাংলাদেশ ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

আইএমএফের নতুন ঋণচুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে জানুয়ারিতে

Reporter Name / ৬ Time View
Update : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নতুন ঋণচুক্তি বা ‘ফ্রেশ ডিল’ পাওয়ার ক্ষেত্রে নীতিগত সম্মতি পেয়েছে বাংলাদেশ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা নতুন দলীয় সরকারের চাহিদা অনুযায়ী এই সম্মতি দিয়েছে সংস্থাটি। তবে নতুন কোনো আর্থিক চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেওয়া ঋণের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা কঠোরভাবে যাচাই করতে চায় আইএমএফ। বিশেষ করে, ব্যাংক খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা, আর্থিক খাতের আমূল সংস্কার এবং বাজেট সহায়তার ফান্ডের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে শুরু করেছে তারা। এ পটভূমিতে আইএমএফের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গতকাল রবিবার পাঁচ দিনের সফরে ঢাকা এসে পৌঁছেছে, যা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

ঢাকা সফরকালে আইএমএফ প্রতিনিধিদলটি মূলত দেশের আর্থিক ও রাজস্ব খাতে নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি খতিয়ে দেখবে। এর পাশাপাশি বর্তমান সরকারের চাওয়া নতুন সাড়ে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৪৫০-৫০০ কোটি ডলার) ঋণের যথার্থতা ও প্রযোজ্যতা পরিমাপ করে ওয়াশিংটনে অবস্থিত আইএমএফ সদর দপ্তরে প্রতিবেদন দাখিল করবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফের বোর্ড সভায় বাংলাদেশের এই নতুন ঋণ প্যাকেজটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন ঋণ ব্যবহার করে সরকার মূলত সরকারের পরিচালন ব্যয়ে বাজেট ঘাটতি পূরণ করতে চায়। একই সাথে দেশীয় ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর সরকারের ঋণের চাপ কমিয়ে বাজারে চলমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই এই নতুন চুক্তির প্রধান লক্ষ্য।

আইএমএফের এই পরিদর্শন টিমে বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন, যারা ঢাকায় অবস্থানকালে ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সবশেষে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। সফরের প্রথম দিন অর্থাৎ গতকাল রবিবার আইএমএফের স্টাফ ভিজিট টিমের প্রধান আইভো কার্জনার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে বৈঠক করে ব্যাংক খাত সংস্কারের অগ্রগতি জেনেছেন। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্বল পাঁচটি ব্যাংকের একীকরণ এবং ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের খুঁটিনাটি ও সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কেও খোঁজ নেন। এছাড়া দেশের জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গতকাল রবিবার আইএমএফের টিম প্রধানের সাথে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। সদ্যপ্রয়াত সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের দাফন সম্পন্ন করার ব্যস্ততা থাকায় অর্থমন্ত্রী বৈঠকটি পিছিয়ে দিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আজ সোমবার সচিবালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। গতকাল সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে আইএমএফের সম্ভাব্য নতুন ঋণচুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেই আইএমএফের সাথে নতুন প্রোগ্রাম হবে। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আইএমএফের কোনো কর্মসূচিতে সরকার অংশ নেবে না।

সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আরও জানান, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের নেওয়া আইএমএফের আগের লোন প্রোগ্রামটি ছিল সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী। সেই কর্মসূচিতে এমন অনেকগুলো শর্ত ছিল, যা একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয় এবং এই কারণেই বর্তমান সরকার আগের প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল চিন্তা কেবল টাকা পাওয়া নিয়ে নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করে এমন একটি নতুন প্রোগ্রামে আমরা যাচ্ছি, যেখানে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ শতভাগ সংরক্ষিত থাকবে।’

উল্লেখ্য, আইএমএফ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন দিয়েছিল এবং পাঁচ কিস্তিতে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অর্থ (৩৬৪ কোটি ডলার) বিতরণও করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয় এবং ২০২৫ সালের জুনে পঞ্চম কিস্তি পাওয়ার পর থেকে ওই ঋণের বিপরীতে আর কোনো ফান্ড দেয়নি আইএমএফ। এরপর দেশে একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের দাবি তীব্র হয়ে উঠলে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতিমধ্যে রাজস্ব আদায় ও এর ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সংস্কার এনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য একটি গণমুখী বাজেট পেশ করেছেন। এ বাজেটে পূর্ববর্তী সরকারের মতো ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে দেদারসে ঋণ নেওয়ার সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার এখন থেকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে কম ঋণ নেবে, যাতে দীর্ঘদিন ধরে লুটপাটের ফলে ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকিং খাতে নতুন করে চাপ না পড়ে। ঘাটতি মেটাতে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর মতো বিকল্প ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে। গত মে মাসে অর্থমন্ত্রী আইএমএফকে নতুন ঋণ প্যাকেজ বা ‘ফ্রেশ ডিল’ পেতে আগ্রহের কথা জানালে সংস্থাটি ইতিবাচক সংকেত দেয় এবং চলমান পাঁচ দিনের ঢাকা ভিজিট শেষে তারা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের পর্যবেক্ষণ জানাবে বলে কথা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: দেশ রূপান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category