গাজা উপত্যকার উদ্দেশ্যে মানবিক সহায়তা নিয়ে রওনা হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী বিশাল নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-এর ওপর মাঝসমুদ্রে আকস্মিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। উপকূল থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের পশ্চিমে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য সহায়তা নিয়ে যাওয়া এই বহরে এমন হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
স্বেচ্ছাসেবকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী বর্তমানে বহরে থাকা একটি জাহাজে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং ইতিমধ্যে ওই জাহাজে থাকা কর্মীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানিয়েছে, অন্তত ১১টি জাহাজের সঙ্গে তাদের আর কোনো যোগাযোগ নেই। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত বহরের অন্তত ৭টি নৌকাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে। ত্রাণবাহী বহরের কর্মীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সামরিক স্পিডবোটগুলো তাদের জাহাজগুলোর খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং সশস্ত্র সেনারা লেজার ও সেমি-অটোমেটিক অ্যাসল্ট রাইফেল তাক করে অধিকারকর্মীদের ভীতি প্রদর্শন করছে।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর বরাত দিয়ে জানা গেছে, গাজা উপকূল থেকে বহুদূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই অভিযান চালানোর পেছনে মূল কারণ হলো বহরটির বিশাল আকার। প্রায় ১০০টি ছোট-বড় নৌকা এবং এক হাজার অধিকারকর্মীর অংশগ্রহণে গঠিত এই সুবিশাল বহরটি গাজা উপকূলে পৌঁছালে তা নিয়ন্ত্রণ করা ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য অত্যন্ত কঠিন হতো বলে সামরিক সূত্র জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক জলসীমায়, বিশেষ করে গ্রিসের উপকূলীয় এলাকায় যেখানে ইসরায়েলের কোনো আইনি এখতিয়ার নেই, সেখানে এ ধরনের অভিযানকে সমুদ্র আইন ও মানবাধিকারের চরম পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ বিশ্ববাসীর কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েলের চলমান ‘গণহত্যা’ এবং এ ধরনের বেআইনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের সরকারের উচিত ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং ত্রাণবহরটির সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
গাজায় চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে এই সাহায্য বহরটি বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার একটি বড় প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই অভিযানের ফলে অবরুদ্ধ বাসিন্দাদের কাছে জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়টি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল, যা ওই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরেও গাজা অভিমুখে যাত্রা করা এই ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের শিকার হয়েছিল। সেবার বহরের প্রায় সব নৌযানে থাকা অধিকারকর্মীদের আটক করেছিল ইসরায়েল, যাদের মধ্যে প্রখ্যাত সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও ছিলেন।