আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা শঙ্কা বা থ্রেট নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে দিনটিকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে ডিএমপি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, “২৩ জুন একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রয়েছে। দিনটিকে কেন্দ্র করে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আমরা পুরো ঢাকা শহরজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ চেকপোস্ট (Talashi) কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এটি আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ‘কাইল্লা ফারুক’ নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় এলাকায় চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আইনি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, “কোনো আসামির জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আদালতের একচ্ছত্র এখতিয়ারভুক্ত। আদালতই সমস্ত আইনগত দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন যে কাকে জামিন বা শাস্তি দেওয়া হবে।”
তবে অপরাধীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জামিনে বের হয়ে কেউ যদি আবারও অপরাধ করার চেষ্টা করে, তবে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ডিএমপির বিশেষ অভিযান প্রতিনিয়ত অব্যাহত থাকবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেলেই প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষায়িত টিম, সাদা পোশাকের গোয়েন্দা নজরদারি এবং রাত্রিকালীন টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে কান না দেওয়ার জন্য তারা নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন।