• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন
Headline
‘ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না’: প্রধানমন্ত্রী ফুটবল মাঠের পরিচিত মুখ থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী: গুলিতেই শেষ হলো মাফিয়া টিটনের অধ্যায় কক্সবাজারে বন্যহাতির আক্রমণে মা ও শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু মার্কিন অবরোধে তেলের ব্যারেল ১২০ ডলারে আবারও গাজা অভিমুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরায়েলের হামলা পরমাণু চুক্তি ছাড়া নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারে ট্রাম্পের ‘না’, ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে পুতিনের প্রস্তাব, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের শর্ত ট্রাম্পের ধাপে ধাপে আসছে নবম পে-স্কেল: প্রথম ধাপেই বাড়ছে মূল বেতন বেঙ্গালুরুতে হাসপাতালের দেয়াল ধসে ৭ জনের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহ ৪ মে দেশে আসছে

ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে পুতিনের প্রস্তাব, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের শর্ত ট্রাম্পের

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক টেলিফোন আলাপে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত সংক্রান্ত সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এর বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইরানের বিষয়ে কোনো ধরনের সহায়তা গ্রহণের আগে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চান। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ওভাল অফিসে সিএনএন-এর কেইটলান কলিন্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, পুতিন মূলত ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মাধ্যমে বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী। টেলিফোন সংলাপটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প বলেন, “ইউক্রেন সংঘাতের একটি সমাধান ‘তুলনামূলক দ্রুতই’ চলে আসবে।” পুতিনের প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “রুশ প্রেসিডেন্ট ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে চান এবং সেই মজুত সরিয়ে নিতে আমাদের সাহায্য করতে পারেন।” ট্রাম্পের এই শর্ত ও মন্তব্য মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ—দুই ভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে একই কূটনৈতিক সমীকরণে নিয়ে এসেছে।

এর আগে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির (জেসিপিওএ) আদলেও মস্কো একইভাবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। ট্রাম্প তাঁর সাক্ষাৎকারে বুধবার এই প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে না দিলেও, তাঁর মূল মনোযোগ যে এখন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের দিকে, সেটি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, “রুশ প্রেসিডেন্ট অনেক আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত ছিলেন।” ট্রাম্পের মতে, নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কারণে পুতিনের পক্ষে তখন সমঝোতা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে এখন সেই বাধা কাটিয়ে দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসন বেশ আশাবাদী।

ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, ইরান যাতে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য তাদের ইউরেনিয়াম মজুত তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া একটি অত্যন্ত কার্যকর সমাধান হতে পারে; আর রাশিয়া এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কৌশলটি মূলত দুটি বড় বৈশ্বিক যুদ্ধের লাগাম একসঙ্গে টেনে ধরার একটি প্রয়াস। একদিকে পুতিনের সহায়তা নিয়ে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যদিকে সেই সহায়তার বিনিময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের একটি সম্মানজনক সমাপ্তি নিশ্চিত করা। আগামী ১ মে’র সময়সীমার আগে ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা দুই সীমান্তের উত্তেজনা প্রশমনে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে বিশ্ববাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category