• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন

একাধিক মামলার সাজা একসঙ্গে চলার সুযোগ নেই: হাইকোর্ট

Reporter Name / ৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

একাধিক ফৌজদারি মামলায় পৃথকভাবে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তির সাজা আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ ছাড়া একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, পৃথক মামলায় সাজা দেওয়ার সময় তা একসঙ্গে চলবে—এমন স্পষ্ট নির্দেশ না থাকলে একটি মামলার সাজা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী মামলার সাজা কার্যকর হবে।

চেক ডিজঅনারের ছয়টি পৃথক মামলায় দণ্ডিত ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিনকে কারাগারে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের রুল খারিজ করে এ রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর বেঞ্চ ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট রায়টি দেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

‘মো. নাসির উদ্দিন বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় দেওয়া এ রায়ে নাসির উদ্দিনকে দুই মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের মূল অংশ লিখেছেন বিচারপতি শেখ তাহসিন আলী।

মামলার পটভূমি

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় করা চেক ডিজঅনারের ছয়টি পৃথক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হন। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সাজা ভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগে ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিট করেন নাসির উদ্দিন। প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ১১ এপ্রিল হাইকোর্ট তার মুক্তি না দেওয়ার কারণ জানতে রুল জারি করেন এবং তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। রুলের শুনানিতে নাসির উদ্দিনের আইনজীবী মো. শাহ আলম দাবি করেন, বিচারাধীন অবস্থায় নাসির উদ্দিন যে সময় কারাগারে ছিলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারার আওতায় সেই সময় সাজা থেকে বাদ দিতে হবে। ওই সময় সমন্বয় করলে তার সাজা শেষ হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী সামীর সাত্তার বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী, একাধিক মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তির সাজা আদালত স্পষ্টভাবে একসঙ্গে চলার নির্দেশ না দিলে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে। নাসির উদ্দিনের ক্ষেত্রে বিচারিক আদালত এমন কোনো নির্দেশ দেননি।

তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী বিচারাধীন অবস্থায় আটক থাকার সময় শুধু সংশ্লিষ্ট মামলার সাজা থেকে বাদ দেওয়া যাবে। এক মামলায় কারাভোগের সময় অন্য মামলার সাজা কমানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না।

পক্ষগুলোর বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট রুলটি খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী বিচার চলাকালে কোনো আসামি যে মামলায় আটক ছিলেন, কেবল সেই মামলার সাজা থেকে ওই সময় বাদ দেওয়া যাবে।

আদালত আরও বলেন, পৃথক সেশনস মামলাগুলোতে বিচারিক আদালত সাজা একসঙ্গে চলার কোনো নির্দেশ দেননি। ফলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি মামলার সাজা একটির পর একটি কার্যকর হবে।

রায়ে আরও বলা হয়, নাসির উদ্দিন সংশ্লিষ্ট আইনের বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি এবং বিচার বা অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো এখতিয়ারগত ত্রুটিও প্রমাণ করতে পারেননি। তাই রিটের মাধ্যমে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

হাইকোর্ট রিট আবেদনকারীর আইনজীবীকে ছয়টি মামলায় বিচারাধীন অবস্থায় নাসির উদ্দিনের কারাভোগের সময় হিসাব করে একটি ‘ক্যালকুলেশন শিট’ তৈরির নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতের নথি পর্যালোচনা করে তা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে বলা হয়।

এর ভিত্তিতে কারা কর্তৃপক্ষ প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী বিচারাধীন অবস্থায় আটক থাকার সময় হিসাব করে সংশ্লিষ্ট মামলার সাজা থেকে তা বাদ দেবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category