• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন
Headline
ইসরায়েলে আরও একটি প্যাট্রিয়ট পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সাত বছরে ছয় নির্বাচন, কেন থিতু হতে পারছে না ইসরায়েল? ৫৫ বছরে সবজির দাম স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক লুটপাট করেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপ-নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই : ইসি সচিব ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন ৭ দিনের রিমান্ডে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা শহরে পদ্মা থেকে ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের নতুন প্রকল্প জয়-পুতুলসহ ৮ জনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ গুরুদাসপুর থানার ওসি প্রত্যাহার

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পুলিশি মারধর: ২ সদস্য বরখাস্ত, সোর্স গ্রেফতার

Reporter Name / ১২২ Time View
Update : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

জাতীয় দলের অফস্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে আটক, মারধর ও শারীরিক হেনস্তার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক উপপরিদর্শক (এসআই) এবং এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনার মূল উসকানিদাতা ও পুলিশের কথিত সোর্স সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাতে নগরের খুলশী থানায় ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বড় ভাই সাব্বির হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন—খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স সোহেল রানা।

ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই হঠাৎ পুলিশ পরিচয় দিয়ে পথরোধ করা হয়। এ সময় পুলিশের সোর্স সোহেল রানার ইশারায় এসআই শফিকুল ও কনস্টেবল রাসেল তাঁর সাথে চরম দুর্ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে নাঈম নিজের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা তোয়াক্কা না করে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে জোরপূর্বক আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ক্রিকেট অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় সিএমপি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সিএমপি কমিশনার শওকত আলী আজ সাংবাদিকদের বলেন, “ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এসআই শফিকুল ও কনস্টেবল রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুলিশের সাথে থাকা সোর্স সোহেল রানাকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

সিএমপি কমিশনার আরও জানান, পুরো ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে এই ঘটনার সাথে আর যার যার সম্পৃক্ততা বা দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া যাবে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ও নজিরবিহীন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এই ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ওসি আরিফুর রহমান দাবি করেছেন, এই বিতর্কিত অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম থানা বা তাঁকে আগে থেকে কিছুই জানাননি। থানায় নিয়ে আসার পরই তিনি কেবল জানতে পারেন যে ভুক্তভোগী যুবক জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।

তবে ক্রিকেটার নাঈম হাসানের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। নাঈম সংবাদমাধ্যমকে জানান, থানায় নিয়ে আসার পর ওসি আরিফুর রহমানও তাঁর সাথে অত্যন্ত অমানবিক ও অশোভন আচরণ করেছেন। ওসির কক্ষে নাঈম ঘটনার প্রতিবাদ করতে চাইলে ওসি একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নাঈমকে ‘চোখ নামিয়ে কথা বলার’ নির্দেশ দিয়ে ধমক দেন। একজন ওসির এমন অপেশাদার আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন সমালোচনার ঝড় বইছে। পুলিশ জানায়, ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটিও তদন্ত কমিটির নজরে রাখা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category