ঢাকাই সিনেমার ক্ষণজন্মা নায়ক, অশ্লীলতা বিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক এবং মেগাস্টার মান্নার ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। দেখতে দেখতে কেটে গেল ১৮টি বছর, তবুও ভক্তদের হৃদয়ে তার জনপ্রিয়তা আজও অমলিন।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার
১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্মগ্রহণ করেন এস এম আসলাম তালুকদার, যিনি চলচ্চিত্রে মান্না নামেই পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৪ সালে এফডিসি আয়োজিত ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের মাধ্যমে শোবিজে পা রাখেন তিনি। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘দাঙ্গা’ ও ‘ত্রাস’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি একক নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
মান্না অভিনীত ‘আম্মাজান’ সিনেমাটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসা সফল ছবি হিসেবে গণ্য হয়। জীবদ্দশায় তিনি তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘বীর সৈনিক’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
শূন্যতা পূরণ হয়নি
মান্না কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের অভিভাবক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ঢালিউডে যে বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল, দীর্ঘ দেড় যুগেও তা পূরণ হয়নি বলে মনে করেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। পর্দায় তিনি শোষিত, বঞ্চিত ও সাধারণ মানুষের কথা বলতেন, যে কারণে তিনি পেয়েছিলেন ‘গণমানুষের নায়ক’ খেতাব।
কর্মসূচি
প্রয়াত এই নায়কের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া মান্নার স্ত্রী শেলী মান্নার উদ্যোগে ঢাকার উত্তরায় এবং গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কোরআন খতম ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।