বাংলাদেশে গুমের অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও হেফাজতে মৃত্যু রোধ করতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশে গুমের অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ হোক। আমরা চাই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হোক। হেফাজতে মৃত্যু না হোক। ’

সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী দলের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলন করছে। তারা সংসদে বিশেষ কমিটির বৈঠকে অংশ নিলে আরও ভালো আলোচনা হতে পারত। কিন্তু তারা আন্দোলনের জন্য রাজপথ বেছে নিয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অসতর্কতার কারণে আইজিপি হয়তো ওই শব্দ ব্যবহার করেছেন। তবে তিনি তাঁর বক্তব্যে কেউ অনুমতি দিয়েছে—এমন কথা বলেননি। এ ধরনের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য তিনি আইজিপিকে বলেছিলেন বলেও জানান মন্ত্রী।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, এ ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। আইনজীবী, বিচারপতি, সম্পাদকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত একত্র করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার বিকেলে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে গত ১৭ বছরে গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিসহ ৪৮ জন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিসুর রহমান, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী এবং সানজিদা ইসলাম তুলির মা ছিলেন।
বৈঠকে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে গুমের ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের দাবিও জানান তাঁরা।