জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে দাম বাড়ানোর কারণে জনগণের যে কষ্ট হবে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে অব্যাহতভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই সংকট প্রতিদিন যে নতুন মাত্রায় আমাদের সামনে আবির্ভূত হচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে বিমার প্রিমিয়াম এবং জাহাজ ভাড়া যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে বর্তমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের পক্ষে সামনে এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া কোন বিকল্প ছিল না।’
সোমবার জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। জনগণের জীবনমানের কষ্ট লাঘবের অভিপ্রায়ে রাজনীতিতে এসেছি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জনগণের যে কষ্ট হবে, এটি আমি উপলব্ধি করি। সেই কারণে জনগণের কাছে আন্তরিকভাবে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি’, যোগ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি জানান, জনগণকে ভোগান্তি থেকে দূরে রাখতে এতদিন বিপিসি ভতুর্কি দিয়ে ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান দিয়েছে। আন্তজার্তিক বাজার দর অনুযায়ী প্রতি লিটারে ডিজেলের দাম পড়ে ২০৫ টাকা। কিন্তু সরকার দাম বাড়ানোর পরও আরও ৭০ টাকা ভতুর্কি দিতে হবে।
এই ভতুর্কি চলতে থাকলে যেসব সহায়তা বা ভাতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে তা অব্যাহত রাখা কঠিন হতো বলেও উল্লেখ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি জানান, প্রতিবেশীগুলোর তুলনায় দেশের জ্বালানি তেলের দাম সবচেয়ে কম থাকায় পাচারের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছিল।
জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে অভিঘাত যত কম করা যায় সরকার সেই চেষ্টা করবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এর জেরে বাসে ভাড়া যেন যৌক্তিকভাবে বাড়ে সেটি মনিটর করা হবে। সরকার উপায়হীন না হলে এমন অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে চাইত না।’
চলমান এই সংকট দ্রুত কেটে যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জ্বালানি তেলের দাম আবারও সমন্বয় করে আগের পর্যায়ে বা তার চেয়েও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।