• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন
Headline
টাকা ধার না দেওয়ায় সেই শিশুকে হত্যা স্লিপ ডিভোর্স নওগাঁয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন: ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য ‘হতে পারে কোয়েল ভুল সিঁড়িতে পা দিয়েছিলেন’: রুদ্রনীল ঘোষ ফ্রিজ ছাড়াই দীর্ঘদিন আম তাজা রাখার দারুণ কিছু কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের কোনো আস্থা নেই, জানালেন প্রধান বিচারপতি পতাকা বৈঠকেও হয়নি সমাধান, দুই দিন ধরে সীমান্তে শিশুসহ ১২ জনের মানবেতর জীবন সৌদিতে ফেলে আসা লাগেজ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুমুল সংঘর্ষ, আহত ১৫ রাউজানে যুবদল নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা: কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ ভারতীয় হাইকমিশনারের ‘এক হয়ে যাওয়া’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

টাকা ধার না দেওয়ায় সেই শিশুকে হত্যা

Reporter Name / ২ Time View
Update : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে মাত্র দুই আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুলের লোভে সাড়ে ছয় বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশু কন্যাকে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত শিশুর নাম রাকা মুনি। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়ার পর প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে তার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রাকা মুনি সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া এলাকার রায়হান উদ্দিনের মেয়ে। সে পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে স্থানীয় সাহেবপাড়া এলাকায় তার ফুফু লিপি আক্তারের কাছে থেকে একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি থেকে অল্প দূরে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয় রাকা মুনি। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে ফুফু লিপি আক্তার আদমদীঘি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পর পাড়ার বিভিন্ন বাড়িতে খোঁজ নেওয়ার সময় প্রতিবেশী আমজাদ হোসেনের আচরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। পরে গতকাল শুক্রবার তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলে মুরগির ঘরের ভেতরে একটি প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে রাকা মুনির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। এই মর্মান্তিক ঘটনার জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক আমজাদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নিহত শিশুটির ফুফু লিপি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “রাকা মুনিকে দুই আনা স্বর্ণ দিয়ে কানের দুল বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা সে সবসময় কানে পরে থাকত। প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন কয়েকদিন ধরে আমাদের কাছে কিছু টাকা ধার চাচ্ছিল। আমরা গরিব মানুষ, টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সে আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। আমাদের ধারণা, টাকা ধার না দেওয়া এবং কানের দুলের লোভে সে রাকাকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।” তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানান।

এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন—সাহেবপাড়া এলাকার আবুলের ছেলে মূল অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন (৪২), তাঁর স্ত্রী বন্যা বেগম (৩০) এবং একই এলাকার প্রতিবেশী আব্দুল কাদেরের ছেলে বাবু (৪০)।

সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহাল রিপোর্টে ধারণা করা হচ্ছে, কানের দুলের লোভেই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, আটকের পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে জখম হওয়ায় আটক তিন ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলেও তারা পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। এই বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category