• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
Headline
লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের বৈদেশিক মুদ্রা জমায় নতুন সুবিধা রফতানি ও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, রিজার্ভ ৩৬.২৫ বিলিয়ন ডলার সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ দিতে আইন শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক সিঙ্গাপুরে প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ ৩৫ সরকারি কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনা মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান ঋণ সহায়তার বাইরে কোরিয়ার সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্পপর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে : মাহদী আমিন আর্টিলারি রেজিমেন্টের অধিনায়ক সম্মেলন ও পুনর্মিলনীতে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও গভীর করতে চীনের অঙ্গীকার: লিউ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করবে সংসদীয় ককাস

ট্রাম্পের হার: ওয়াশিংটন কী ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তির কৌশল খুঁজবে?

Reporter Name / ৪ Time View
Update : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের অপ্রত্যাশিত ও শোচনীয় ভরাডুবির পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এই নির্বাচনের ফলাফল ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান ইরান সংঘাতের গতিপ্রকৃতিকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার ফলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন প্রশাসন কি এবার তেহরানের সঙ্গে চলমান এই ব্যয়বহুল ও অজনপ্রিয় যুদ্ধ সমাপ্ত করার বাস্তবসম্মত কোনো কৌশল খুঁজে বের করার দিকে মনোনিবেশ করবে কি না।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে মার্কিন কংগ্রেস এখন থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশ নীতি ও সামরিক পদক্ষেপগুলোর ওপর অনেক বেশি কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুযোগ পাবে। এতদিন ধরে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের একচ্ছত্র বা শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ থাকায় হোয়াইট হাউসের যেকোনো সামরিক সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরালো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন তোলার সুযোগ ছিল না। কিন্তু ডেমোক্র্যাট পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় আইনপ্রণেতারা বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান নিয়ে প্রেসিডেন্টকে কঠিন সব প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার সঙ্গে আলাপকালে বিশিষ্ট রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ অ্যামি ফ্রেডেরিকসেন অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে বর্তমান প্রশাসনের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি ও প্রধান কাজ হলো ইরানে চলমান এই সংঘাত থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা কৌশল তৈরি করা। তিনি বলেন যে মার্কিন জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এতদিন এই সামরিক অভিযান নিয়ে জোরালো কোনো আপত্তি বা প্রশ্ন তোলা হয়নি, যা দেশের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের জন্য একধরনের ঘাটতি তৈরি করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মতো একটি শক্তিশালী ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার পেছনে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি ও পারমাণবিক হুমকি প্রতিরোধের কথা বলে আসছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মার্কিন নাগরিক কখনোই তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রে দেখতে চায় না এবং এই জনসমর্থনকে পুঁজি করেই প্রশাসন যুদ্ধ শুরু করেছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছিল যে এই সামরিক সংঘাত অত্যন্ত স্বল্পস্থায়ী হবে এবং খুব দ্রুতই এর সমাপ্তি ঘটবে। ফ্রেডেরিকসেনের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে বারবার এমন সব তথ্য দেওয়া হয়েছিল যা আদতে সত্য ছিল না এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় সাধারণ ভোটারদের প্রধান ক্ষোভের বিষয় ছিল আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে তৈরি হওয়া চরম অস্থিরতা। যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন বাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোটারের পকেট কাটতে শুরু করে, যা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপর অত্যন্ত মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অর্থনৈতিক এই সংকট এবং যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতার কারণে সৃষ্ট জনঅসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পান। ফলস্বরূপ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা বর্তমান প্রশাসনের নীতিমালার বিরুদ্ধে তাদের শক্ত অবস্থান ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

এখন যেহেতু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বিরোধীদের হাতে চলে যাচ্ছে, তাই মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী আইনপ্রণেতারা প্রশাসনের যুদ্ধ পরিচালনার তহবিল বরাদ্দ এবং সামরিক কৌশল নিয়ে কঠোর পর্যালোচনা শুরু করবেন। অ্যামি ফ্রেডেরিকসেন জোর দিয়ে বলেছেন যে মার্কিন শাসনব্যবস্থায় যে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনের কাজে নজরদারি চালানো এবং নীতিনির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত, সেটি হলো স্বয়ং কংগ্রেস। আর ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এখন ঠিক সেই কাজটিই অত্যন্ত জোরালোভাবে করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যার ফলে হোয়াইট হাউসকে আগামী দিনগুলোতে কঠিন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হবে।

আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অঙ্গনের গবেষকরা মনে করছেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র বিরোধিতা এবং ক্রমবর্ধমান জনরোষকে উপেক্ষা করে সামরিক সংঘাত টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা, যা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে আরও বেশি বিভাজিত করবে। দ্বিতীয়ত, মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই বড় রাজনৈতিক ধাক্কা থেকে শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহায়তায় একটি সম্মানজনক কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটানো।

সব মিলিয়ে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক ফলাফল কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডাকেই কোণঠাসা করে দেয়নি, বরং এটি আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ও সামরিক নীতির গতিপথকেও সম্পূর্ণ নতুন এক মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে ওয়াশিংটন কীভাবে এই ভূরাজনৈতিক সংকট মোকাবেলা করে এবং তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করে, তা দেখার জন্য পুরো বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category