• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন
Headline
১২ নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না সরকার: আইনমন্ত্রী ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা করের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন ‘লেডি মীর জাফর’ বলে ফেসবুকে পোস্ট: ডিএজির বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানার অভিযোগ ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন: উত্তরে জামায়াতের প্রার্থী সেলিম, দক্ষিণে সাদিক দেশের বিমা খাতে বিশাল অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি হয়েছে: অর্থমন্ত্রী সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন, প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে কাল থেকে : প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নাড়ির টানে ফাঁকা ঢাকা: নিশ্চিন্ত ঈদযাত্রায় নগরীর নিরাপত্তায় কতটা প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী?

Reporter Name / ২৩১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে প্রিয়জনদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ইতোমধ্যে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। ফলে চিরাচরিত ব্যস্ত ঢাকা শহর ধীরে ধীরে এক নিস্তব্ধ ও ফাঁকা নগরীতে পরিণত হচ্ছে। সকাল থেকেই শহরের সড়কগুলোতে মানুষের ভিড় ও যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। অফিস-আদালত ছুটি হওয়ায় এবং শিক্ষার্থীরা শহর ছাড়ায় গুলশান, বনানী, মোহাম্মদপুর থেকে শুরু করে ধানমন্ডির মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলোর রাস্তাও এখন অনেকটাই ফাঁকা। কিন্তু নাগরিকদের এই স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রার আনন্দ মাটি করে দিতে পারে ফাঁকা নগরীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা। বিগত বছরগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরে অনেকেই তাঁদের বাসার তালা ভাঙা বা গ্রিল কাটা অবস্থায় পেয়েছেন, খোয়া গেছে মূল্যবান সামগ্রী। এ বছরও টানা ছুটির কারণে নগরবাসীর মনে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের একই শঙ্কা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ছুটিতে বাসা ছাড়ার আগে নাগরিকদের যেমন ব্যক্তিগত সতর্কতা জরুরি, তেমনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সমন্বিত ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই শঙ্কা দূর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, ফাঁকা শহরে অপরাধ প্রতিরোধে প্রতিটি এলাকায় দিন-রাত পালাক্রমে টহল (ফুট পেট্রোলিং) বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি বাসাবাড়ির নিরাপত্তাকর্মীদেরও সতর্ক থাকতে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি নাগরিকদের মূল্যবান জিনিসপত্র আত্মীয়-স্বজনের বাসায় কিংবা প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তায় থানায় নিরাপদে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

শুধু পুলিশ নয়, নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও। র‌্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, ফাঁকা রাজধানীতে চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়ে বলেই সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আগের ঈদগুলোর অপরাধ প্রবণতা বিশ্লেষণ করে এবারের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। সম্ভাব্য অপরাধের সময় ও স্থান চিহ্নিত করে র‌্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ঢাকা শহরসহ সারা দেশে একযোগে টহল ও অভিযান পরিচালনা করবে। এর পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক অপরাধ ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং টিমও সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাখা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

নিরাপত্তার এই প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, হাউজিং এলাকার নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় থানার সমন্বয় আরও বাড়ানো উচিত। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং একটি নির্দিষ্ট অপরাধী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারাও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। বাসা ছাড়ার আগে সব দরজা-জানালা ও গ্রিল ঠিকমতো বন্ধ করা, গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, মানসম্মত বা ডিজিটাল লক ব্যবহার করা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও নিরাপত্তাকর্মীদের যাচাই ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ নম্বরে কল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ২০ বা ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে এবং ইতোমধ্যে ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের ঈদ ছুটি চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category