• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন

নেপালের প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার কারণ কী?

Reporter Name / ০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার কারণ কী, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমবাহের নিচের অংশের একটি বড় অংশ ভেঙে উপত্যকায় ধসে পড়ার পরই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

বুধবারের এই ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিন শতাধিক পর্যটক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তের দুই পাশের কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহের নিচের অংশের একটি বড় অংশ ভেঙে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচের উপত্যকায় আছড়ে পড়ে। এর সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি নিচে নেমে আসে।

ভারতের সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ বিক্রম গুপ্তা জানান, হিমবাহের সামনের অংশের একটি বড় অংশ ধসে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার মতে, ওই ধসের সঙ্গে প্রচুর পাথর ও পলিও নিচে নেমে আসে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, হিমবাহটি কেন ধসে পড়ল? এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। নেপালের কর্মকর্তারা ঘটনার কয়েক মিনিট আগে ওই এলাকায় হওয়া ভূমিকম্পকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন। তবে ভূমিকম্পই এই বিপর্যয়ের সূচনা করেছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভূতত্ত্ববিদ প্রকাশ পোখারেল স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে জানান, নেপালের অংশে বরফ ও পাথরের বিশাল ধস থেকেই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও একটি বিষয় সামনে এনেছেন। দুর্যোগের আগের ২৪ ঘণ্টায় ওই এলাকার বিপুল পরিমাণ তুষার গলে যাওয়ার চিত্র মিলেছে স্যাটেলাইট ছবিতে। একদিন আগে তুষারে ঢাকা থাকা উপত্যকার কয়েকটি হিমবাহ পরদিন প্রায় খালি বরফে পরিণত হয়। এতে ওই সময় আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ ছিল বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। তবে জলবায়ু পরিবর্তন বা অন্য কোনো কারণ সরাসরি এই হিমবাহ ধসে ভূমিকা রেখেছে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।

নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুওয়া জেলায় কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। সেখান থেকে বরফ, পাথর, পলি ও পানির প্রবল স্রোত ভোতে কোশী ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থার দিকে ধেয়ে যায়। আন্তর্জাতিক সমন্বিত পাহাড় উন্নয়ন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভাটির গালছি এলাকায় মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে নদীর পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়।

সূত্র: রয়টার্স


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category