ইরানের দেওয়া নতুন একটি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো পরমাণু চুক্তি হচ্ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির সুযোগে তারা শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা চূড়ান্ত করছে এবং নতুন করে আগ্রাসন হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একতরফাভাবে ইরানের সঙ্গে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ ও ইরানের নজরদারিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করে যে, ট্রাম্প ও তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের কাছ থেকে একটি নতুন প্রস্তাব পেয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রস্তাবে যুদ্ধ অবসানের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাবে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অবরোধকে বোমার চেয়েও কার্যকর মনে করেন ট্রাম্প
গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরান অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চায়, কারণ এটি বোমা হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে না পারায় ইরানের তেল সংরক্ষণাগার এবং পাইপলাইনগুলো এখন “বিস্ফোরণের দ্বারপ্রান্তে” পৌঁছে গেছে। তাঁর ভাষায়, “বোমাবর্ষণের চেয়ে অবরোধটা কিছুটা বেশি কার্যকর। তাদের দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ওদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেব না।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে ফোনে আলোচনা চলছে এবং এখন তাদের আত্মসমর্পণ করার সময় এসেছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এ-ও বলা হয়েছে যে, আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর একটি ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রেখেছে।
ইরানের পাল্টা হুমকি ও কংগ্রেসের শুনানি
মার্কিন এসব হুঁশিয়ারির কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। আইআরজিসির মুখপাত্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি আবারও কোনো আগ্রাসন চালায়, তবে তাদের ইরানের সম্পূর্ণ নতুন সামরিক কৌশল ও নজিরবিহীন প্রতিরোধ মোকাবিলা করতে হবে।”
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রথমবারের মতো মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে অংশ নিয়ে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এক ডেমোক্র্যাট সদস্য চলমান এই যুদ্ধকে “কৌশলগত ভুল” এবং “চোরাবালি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে শুনানিতে। পেন্টাগনের শীর্ষ আর্থিক কর্মকর্তা জুলস ‘জেই’ হার্স্ট কংগ্রেসকে জানিয়েছেন যে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।