• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
Headline
ইসরায়েলে আরও একটি প্যাট্রিয়ট পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সাত বছরে ছয় নির্বাচন, কেন থিতু হতে পারছে না ইসরায়েল? ৫৫ বছরে সবজির দাম স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক লুটপাট করেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপ-নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই : ইসি সচিব ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন ৭ দিনের রিমান্ডে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা শহরে পদ্মা থেকে ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের নতুন প্রকল্প জয়-পুতুলসহ ৮ জনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ গুরুদাসপুর থানার ওসি প্রত্যাহার

বিতর্কে ঘেরা আইজিপি, আসছে কি নতুন পুলিশ প্রধান?

Reporter Name / ৮ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে বর্তমানে এক তীব্র আলোচনার ঝড় বইছে, যার মূলে রয়েছে পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত মন্তব্য। গত সোমবার, ২৬ অক্টোবর রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রধান এমন কিছু কথা বলেছেন যা মুহূর্তের মধ্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, মানবাধিকার সংগঠন এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। পুরান ঢাকার চকবাজারে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে আইজিপি মন্তব্য করেন যে, সরকার যদি অনুমতি দেয় তবে প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ারে যেতে দ্বিধাবোধ করবে না। একই অনুষ্ঠানে তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে তাদের ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেওয়া হয় আর নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলা হয়, এবং সাংবাদিকরা মাদকের টাকার ভাগ না পেলে নেতিবাচক লেখনী প্রকাশ করেন। এই বক্তব্যের পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং অপরাধ দমনের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার পথকে পুনরায় উসকে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে বিভিন্ন মহল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি তোলে। এমনকি জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের আহ্বানও জানায় সংস্থাটি। এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে নতুন পুলিশ প্রধান নিয়োগের বিষয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে এবং শীর্ষ এই পদের জন্য বিসিএস ১৫তম ব্যাচের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমান আইজিপি আলী হোসেন ফকিরও একই ব্যাচের কর্মকর্তা। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতিমধ্যে ওই চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য সংবলিত ফাইল বা নথি তলব করা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই বক্তব্যটিকে অত্যন্ত বিব্রতকর হিসেবে দেখছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এই মন্তব্যকে সরকারের জন্য স্পষ্টতই বিব্রতকর বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন যে, বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির এ ধরনের মন্তব্য ‘ঠিক হয়নি’ এবং বিচারবহির্ভূত বা এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি অটুট রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই পুলিশ প্রধান পদে সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনা আরও বহুগুণ গতি পায়। তীব্র সমালোচনার মুখে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি ব্যাখ্যা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, পুলিশ মহাপরিদর্শক মূলত অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে ‘রূপক’ অর্থে ক্রসফায়ার শব্দটি ব্যবহার করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি এই কথা বলেননি বলে দাবি করা হয়। এছাড়া সাংবাদিকদের বিষয়ে তার মন্তব্যটিও ‘অসাবধানতাবশত’ এসেছে বলে উল্লেখ করে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও এই কর্মকর্তার পক্ষে বিবৃতি দিয়ে সাফাই গায়। তবে এই ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও জনমনে প্রশ্ন থেকেই গেছে যে, আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে কেন এমন একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর শব্দ চয়ন করা হলো যার সঙ্গে বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘ ও কলঙ্কিত ইতিহাস সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে। সাবেক পুলিশ প্রধান মুহাম্মদ নূরুল হুদা এই প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পুলিশ মহাপরিদর্শকের মতো একটি শীর্ষ চেয়ারে বসে এ ধরনের মন্তব্য করা স্পষ্টতই পেশাদারিত্বের চরম লঙ্ঘন। বর্তমান সময়ে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমাজে এমনিতেই এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করছে, আর এই প্রেক্ষাপটে আইজিপির এই বক্তব্য কেবল সরকারকেই বিব্রত করে না, বরং পুরো পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দেয়। আইন ও সংবিধানের দৃষ্টিতে এই ধরনের বক্তব্যের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী। বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক সীমারেখা অনুযায়ী রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইন অনুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে আইন অনুযায়ী ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা বা সম্পত্তির ক্ষতিকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এছাড়া ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন বা ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং ৩৫ অনুচ্ছেদের তিন উপনুচ্ছেদে অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। এসব সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত যেকোনো ব্যক্তিকে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আদালতের মুখোমুখি করতে হবে। সরকারের কোনো মৌখিক নির্দেশ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিজে থেকেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকে কখনোই বৈধতা দিতে পারে না। পুলিশ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারে, তদন্ত করতে পারে এবং প্রয়োজনে আইনসম্মত ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করতে পারে, কিন্তু কাউকে শাস্তি হিসেবে হত্যা করার কোনো সাধারণ বা বিশেষ অনুমতি আইন কাউকে দেয় না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা এবং জাতিসংঘের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বল প্রয়োগের নীতিমালায়ও বলা হয়েছে যে, প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার কেবল জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে অনিবার্য হলেই কেবল গ্রহণযোগ্য হতে পারে, নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বা হেফাজতে নিয়ে কাউকে হত্যার কোনো সুযোগ নেই। বেআইনি নির্দেশ পালনের আইনি পরিণতি নিয়েও রয়েছে কঠোর বিধান। কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা সরকারের পক্ষ থেকে যদি আইনবহির্ভূত কোনো নির্দেশ দেওয়াও হয়, তবুও সেই নির্দেশ অন্ধভাবে পালনকারী কর্মকর্তা কোনোভাবেই ফৌজদারি দায়মুক্তি লাভ করতে পারেন না। বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার শাস্তির বিধান স্পষ্ট রয়েছে এবং কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যদি বেআইনিভাবে কাউকে হত্যা করেন, তবে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও বিচারের পথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকে। এই প্রেক্ষাপটে আইজিপির বক্তব্যের পর ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার কিংবা আইনি জটিলতা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। সরকারের নীতি নির্ধারক বা প্রশাসনিক কর্তারা একই অপরাধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিযুক্ত না হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অপরাধমূলক অভিপ্রায় ও ভূমিকার বিষয়টি সবসময় বিচারিক পর্যালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রধানের পদ থেকে আলী হোসেন ফকিরের অপসারণ বা বদলের আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন সরকারের উচ্চপর্যায়ে সম্ভাব্য নতুন মুখ নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে এবং তার প্রত্যাবর্তনের পরই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। নতুন এই নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে সরকারপ্রধানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে, যেখানে আলোচনার বাইরেও অন্য কোনো নাম আকস্মিক সামনে চলে আসতে পারে। তবে বর্তমানে যে চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে, তাদের বর্ণাঢ্য পেশাগত পটভূমি বেশ লক্ষণীয়। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বা এপিবিএন-এর প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ। ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তা অতীতে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত হলেও পরবর্তীতে সিএমপি কমিশনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন; তার পিতা এম আজিজুল হকও ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং সাবেক আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হলেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের বা সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর এবং যুক্তরাজ্য থেকে উচ্চতর আইন ডিগ্রি অর্জনকারী এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দিয়ে এনএসআইয়ের পরিচালকসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল পদে সততা ও পেশাদারত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি-র প্রথম মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ, যিনি ইতিপূর্বে র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে অত্যন্ত কঠোর ও পেশাদার ভূমিকা পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা সম্পন্নকারী এই কর্মকর্তা নানা আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেছেন। সম্ভাব্য তালিকায় আরও রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপির বর্তমান কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের নাম, যিনি ইতিপূর্বে সিআইডি প্রধান এবং পুলিশ সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস শাখার প্রধানের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনেও দেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। পরিশেষে বলা যায়, পুলিশ প্রধানের একটিমাত্র বেফাঁস ও বিতর্কিত মন্তব্য কেবল দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বড় ধরনের অস্বস্তিতেই ফেলেনি, বরং রাষ্ট্রে আইনের শাসন ও সংবিধানের সর্বময় ক্ষমতার প্রশ্নটিকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। অপরাধ দমন বা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের অস্ত্র ও আইনি ক্ষমতার প্রয়োজন রয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই ক্ষমতাকে কখনোই বিচারিক প্রক্রিয়ার বিকল্প বা বিচারবহির্ভূত পন্থার লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করার কোনো অবকাশ নেই। রাষ্ট্র ও সরকারের শক্তি কেবল অপরাধ দমন করার কঠোর ক্ষমতার মধ্যে নিহিত নয়, বরং নিজের ক্ষমতাকে সংবিধান ও আইনের সুনির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নিখুঁতভাবে আবদ্ধ রাখার সামর্থ্যের মধ্যেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রকৃত সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আইজিপির এই অনভিপ্রেত বিতর্ক এবং তৎপরবর্তী প্রশাসনিক রদবদলের এই প্রক্রিয়াটি প্রমাণ করে যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং আইনের শাসন বজায় রাখার ক্ষেত্রে সামান্য বিচ্যুতিও কতটা বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের জন্ম দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: ঢাকা পোষ্ট ও দ্যা ওয়েভ ২৪


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category