পশ্চিমবঙ্গে সদ্য ক্ষমতায় বসেই যেন জাদুদণ্ড হাতে পেয়ে গেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! রাজ্যের আর কোনো গুরুতর জ্বলন্ত সমস্যা খুঁজে না পেয়ে তার নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার প্রথমেই হামলে পড়েছে রাস্তায় নামাজ পড়ার ওপর। ক্ষমতায় আসার পরপরই ঘটা করে সড়কে নামাজসহ সব ধরনের ধর্মীয় জমায়েত বন্ধের এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার এই নতুন সরকার। শুভেন্দু শিবিরের অতি-উৎসাহী বিধায়ক অর্জুন সিং সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রীতিমতো বুক ফুলিয়ে এই আস্ফালনের কথা জানিয়েছেন।
রাস্তায় নাকি এখন থেকে কোনোভাবেই কোনো ধর্মীয় প্রার্থনা বা জমায়েত সহ্য করা হবে না—এমনটাই কড়া ফতোয়া দিয়েছেন অর্জুন সিং। কলকাতার বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে এতকাল ধরে যে বিশাল ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, সেদিকেও কুনজর পড়েছে এই সরকারের। অর্জুনের দম্ভোক্তি, রেড রোডের মতো জায়গায় আর কোনোদিন এমন জমায়েত নাকি দেখতে দেওয়া হবে না। নিজেদের এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্তকে জায়েজ করতে আবার আদালতের দোহাইও দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এই নিষেধাজ্ঞা নাকি স্রেফ ‘আদালতের নির্দেশ’ মেনেই সরকার কার্যকর করবে! হঠাৎ করে বিচারবিভাগের প্রতি শুভেন্দু সরকারের এই অগাধ ভক্তি ও অনুগত্য সত্যিই দেখার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়কে নামাজ বন্ধ করার হুংকার দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি শুভেন্দু অধিকারীর সরকার; নির্বাচনী ইশতেহারের দোহাই দিয়ে গরু পাচার নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বা বেকারত্বের চেয়ে যেন গরু পাচার রোধ করলেই সব সমস্যার জাদুকরী সমাধান হয়ে যাবে! অর্জুন সিং হুমকি দিয়ে রেখেছেন, যারা এই পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, এই রেড রোডে ঈদের জামাত নিয়ে গত বছরও একদফা জলঘোলা হয়েছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওই এলাকায় প্রথমে ভারতীয় সেনাবাহিনী সামরিক ব্যবহারের খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে বাগড়া দিলেও, পরে ঠিকই নিজেদের প্রশিক্ষণ সূচি বদলে ঈদুল আজহার নামাজের অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছিল। সেবার নেতাজি মূর্তি থেকে ফোর্ট উইলিয়ামের প্রবেশপথ পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এবার ক্ষমতায় বসেই শুভেন্দুর সরকার যেন গায়ের জোরে সেই ইতিহাস মুছে ফেলতেই উঠেপড়ে লেগেছে।