বাংলাদেশের রাজনীতি ও মানবাধিকার অঙ্গনে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব বিলুপ্তির ঘোষণা এলেও শেষ পর্যন্ত তা কেবল নাম পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন এবং গোপন বন্দিশালা পরিচালনার মতো ভয়াবহ সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জর্জরিত এই অভিজাত বাহিনীকে বাতিল করার জোরালো দাবি ছিল জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের। এমনকি অতীতে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিও প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে এই বাহিনীটির সম্পূর্ণ বিলুপ্তি চেয়েছিল। অথচ সেই বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানটিকে কাগজে-কলমে বিলুপ্ত দেখিয়ে ঠিক একই ক্ষমতা, জনবল ও কাঠামোগত ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা ‘এসআরবি’ নামে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের সাম্প্রতিক বৈঠকে এই সংক্রান্ত নতুন আইনের খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করার পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক।
গত সোমবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে লেজিসলেটিভ ও সংসদীয় বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে এসআরবি আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারের তথ্যবিবরণীতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় দাবি করা হয়েছে যে বিদ্যমান র্যাব বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের প্রত্যক্ষ প্রশাসনিক কাঠামোর অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এই এসআরবি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। কিন্তু নতুন আইনের ধারাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে মূলত পুরোনো ওয়াইন নতুন বোতলে ভরার মতোই ঘটনা ঘটেছে। কাগজে র্যাবের নাম নিশানা মুছে ফেলা হলেও, এই নতুন বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্বের শিকড় সেই পুরোনো জায়গায় প্রোথিত রয়েছে। র্যাবের বর্তমান জনবল, তাদের দাপ্তরিক ক্ষমতা, আইনগত কর্তৃত্ব, সরকারি সুবিধা, বরাদ্দকৃত তহবিল, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাংকের হিসাব, গোপন নথি এবং অন্যান্য সমস্ত সম্পদ অবিকলভাবে নতুন এসআরবিতে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। এছাড়া র্যাবের বর্তমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি এই নতুন ইউনিটের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। অতীতে র্যাবের যত ধরনের আইনি দায়দায়িত্ব ছিল, সম্পাদিত চুক্তি ছিল কিংবা আদালতের বিচারাধীন বা চলমান যত মামলা রয়েছে, তার সবকিছুই এখন থেকে নতুন এসআরবির নামে পরিচালিত হবে।
এই নাম পরিবর্তনের কৌশলকে মানবাধিকারকর্মীরা নিছক একটি আইনি তামাশা বা ধোঁকাবাজি হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী মো নূর খান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে সরকার র্যাব ভেঙে দিয়ে এসআরবি করার কথা বললেও বাস্তবে এখানে নতুনত্বের কোনো লেশমাত্র নেই। কেবল সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর নিজস্ব কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি নামসর্বস্ব কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে, যা মূলত জনতুষ্টির একটি কৌশল মাত্র। পুরোনো কাঠামো, একই ধরনের সীমাহীন ক্ষমতা এবং আগের বন্দোবস্ত যদি বহালই থাকে, তবে এই নতুন এসআরবি ভবিষ্যতে আরেকটি ভয়ংকর ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারী বাহিনী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আমেরিকা যখন র্যাব এবং এর শীর্ষস্থানীয় সাতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তখন থেকেই বাহিনীটির সংস্কার বা বিলুপ্তির দাবি আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো হয়েছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর দেশবাসীর সামনে র্যাবের গোপন বন্দিশালার বিভীষিকাময় চিত্রগুলো উন্মোচিত হয়। গুম-সংক্রান্ত কমিশনের অনুসন্ধানেই প্রমাণিত হয়েছিল যে বাংলাদেশে সংঘটিত মোট গুমের ঘটনার প্রায় এক চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশের সঙ্গেই র্যাব সরাসরি জড়িত ছিল। এছাড়া কমিশন সারা দেশে যে চল্লিশটি গোপন নরককুণ্ড বা বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছিল, তার মধ্যে কেবল ২২ থেকে ২৩টিই পরিচালনা করত এই বাহিনী।
সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এই সিদ্ধান্তের ভিন্ন ও ইতিবাচক যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে পুরোনো কাঠামো হুবহু রেখে কেবল নাম পরিবর্তন করা হয়েছে—বিষয়টি এমন সরল নয়। নতুন আইনে নাগরিকদের যেকোনো অভিযোগ এবং স্বয়ং বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত অপরাধ নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রতিকার কমিটির আইনি বিধান রাখা হয়েছে। কোন কোন অপরাধ শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং তার বিপরীতে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা আইনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অতীতে র্যাবের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যে চরম ঘাটতি ছিল, নতুন আইনে সেই শূন্যতাগুলো কঠোরভাবে দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। একসময়ে রাজনৈতিক সরকারগুলো যেভাবে নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে এই বাহিনীকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করত, নতুন আইনি কাঠামোর কারণে এখন চাইলেও কেউ সেই অপব্যবহার করার সুযোগ পাবে না বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দায়িত্বশীলদের সদিচ্ছা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগই নির্ধারণ করবে এই নতুন ব্যাটালিয়ন কতটা সফল ও জনবান্ধব হতে পারবে।
আইনগত দিকটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলেই পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, তৎকালীন বিডিআর, কোস্টগার্ড এবং আনসার বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কাঠামো হিসেবে র্যাব গঠন করা হয়েছিল। অথচ গুম কমিশন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার জোরালো সুপারিশ করেছিল যে যদি আইনগত বাধ্যবাধকতায় নতুন কোনো বিশেষায়িত বাহিনী রাখতেই হয়, তবে তা যেন কেবল দীর্ঘমেয়াদী পেশাদার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এই ধরনের বেসামরিক অপরাধ দমন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সম্পৃক্ত করা হলে তা মূল বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। গুম কমিশনের তৎকালীন সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীও একই মত প্রকাশ করে বলেছিলেন যে যখন সশস্ত্র বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা প্রেষণে এসে এমন বিতর্কিত বাহিনীতে কাজ করেন, তখন তিনি মূল কমান্ড কাঠামোর বাইরে চলে যান এবং কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়লে পুরো সামরিক প্রতিষ্ঠানের ওপর তার কালিমা লেপে যায়। কিন্তু মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এসআরবি আইনের খসড়ায় সেই ঐতিহাসিক সুপারিশ পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। নতুন আইনের ৪(৩) ধারা অনুযায়ী, এসআরবি মূলত পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট হলেও প্রয়োজনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের আগের মতোই প্রেষণে বা অস্থায়ীভাবে এই বাহিনীতে সংযুক্ত করার আইনি সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে।
নতুন বাহিনীর কাজের পরিধি ও ক্ষমতার ব্যাপ্তি নিয়ে আইনি মহলে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। খসড়ার ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পরোয়ানা ছাড়াই যেকোনো স্থানে সরাসরি প্রবেশ, তল্লাশি, মালামাল জব্দ এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অবাধ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এসআরবির কর্মকর্তাদের। মাদক চোরাচালান, অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ববিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে এই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে। এমনকি এসআরবির নির্দিষ্ট কর্মকর্তারা সাধারণ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার সমমানের আইনি ক্ষমতা ভোগ করবেন। খসড়ার আরেকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দিক হলো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে এই নতুন ইউনিটের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অতীতে কেবল সরকারের বিশেষ নির্দেশ পেলে তবেই র্যাব কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার তদন্তে হাত দিতে পারত। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় আদালত, স্বয়ং সরকার কিংবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশেও এসআরবি যেকোনো ফৌজদারি অপরাধের তদন্তভার গ্রহণ করতে পারবে এবং মহাপরিচালক চাইলে এসআই বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার যেকোনো কর্মকর্তাকে সেই তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করতে পারবেন।
র্যাবের পূর্ব ইতিহাস বিবেচনায় নতুন আইনে নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা এবং জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ বা ইন্টারোগেশন সেল রাখার বিধান রাখা নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মনে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। আইনের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে যে যেকোনো গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে অবিলম্বে নিকটস্থ থানার হেফাজতে সোপর্দ করতে হবে, অথচ ঠিক আবার ১৫(৪) ধারায় এসআরবির নিজস্ব পৃথক হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এই পরস্পরবিরোধী দুটি বিধানের মারপ্যাচে পড়ে অতীতে যেভাবে বিচারবহির্ভূত নির্যাতন ও গোপন আটকের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঘটার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জুলাই বিপ্লবের পর খোদ তৎকালীন র্যাব প্রধান এ কে এম শহিদুর রহমান বাহিনীর বিগত দিনের নৃশংসতার জন্য জাতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন এবং গোপন বন্দিশালা থাকার সত্যতাও অকপটে স্বীকার করেছিলেন। এমন একটি কলঙ্কজনক ইতিহাস ও রক্তক্ষয়ী উত্তরাধিকার থাকার পরও নতুন কোনো ইউনিটে গোপন সেল বা নিজস্ব হাজতখানা বহাল রাখার পক্ষে কোনো জোরালো ও গ্রহণযোগ্য যুক্তি থাকতে পারে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
আইনে নতুন সংযোজন হিসেবে পাঁচ সদস্যের একটি ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে বটে, তবে এর গঠন প্রক্রিয়া ও কার্যকারিতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। এই কমিটির পাঁচজন সদস্যের মধ্যে চারজনই সরাসরি সরকার, পুলিশ প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর নিজেদের কর্মকর্তা। কেবল পঞ্চম বা শেষ সদস্য হিসেবে সরকার মনোনীত মানবাধিকার বা আইন বিষয়ে দশ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই কমিটি কোনো অপরাধ বা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সরাসরি নিজে থেকে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না; তারা কেবল সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে শাস্তির সুপারিশ পাঠাতে পারবে। ফলে এই ধরনের আংশিক আমলাতান্ত্রিক ও পক্ষপাতদুষ্ট একটি কমিটি কতটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে।
পরিশেষে বলা চলে, রাষ্ট্র যখন একটি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে এসে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে এগোচ্ছে, তখন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে পুরোনো দানবীয় কাঠামোকে কেবল নতুন নাম ও মোড়কে টিকিয়ে রাখা কোনোভাবেই সুদূরপ্রসারি বা কল্যাণকর হতে পারে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জবাবদিহিতার আলোয় আনতে হলে কেবল আইনি ফাঁকফোকর তৈরি করা যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা এবং মানবাধিকারের প্রতি পরম শ্রদ্ধাবোধ। র্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি করার এই পুরো প্রক্রিয়াটি যদি কেবল লোক দেখানো তামাশা ছাড়া আর কিছু না হয়, তবে তা ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে আরও বেশি কণ্টকাকীর্ণ করে তুলতে পারে।