• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
Headline
লোহিত সাগরের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ কী বদলে যাচ্ছে? ভাইভায় বিশেষ নম্বরে কাউকে পাশ করানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের: পানিসম্পদমন্ত্রী লংমার্চে উৎসাহিত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ‘ফ্যাসিস্টরা’ মিছিল করছে: পাট প্রতিমন্ত্রী সরকারের ৬ মাসে খাদ্য মজুত বেড়েছে দেড় লাখ মেট্রিক টন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতির কারণে মানুষ ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাচ্ছে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা শুরু আজ তিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৫ কর্মকর্তাকে বদলি নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে: রুহুল কবির রিজভী কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

লোহিত সাগরের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ কী বদলে যাচ্ছে?

Reporter Name / ১ Time View
Update : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আরবি সাহিত্যের প্রাচীন অভিধানে ‘বাব এল-মান্দেব’ শব্দবন্ধের মর্মার্থ দাঁড়িয়েছে ‘চোখের জলের তোরণ’ বা ‘শোকাশ্রুর ফটক’| প্রাচীন নাবিকদের কাছে প্রতিকূল সামুদ্রিক আবহাওয়া, তীব্র স্রোত আর চোরা পাহাড়ের কারণে এই জলপথটি যেমন ছিল এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন, আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতিতে তেমনি এটি পরিণত হয়েছে কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার অবিচ্ছেদ্য প্রাণভ্রমরায়| এশিয়া মহাদেশের সুবিশাল উৎপাদন বলয় থেকে শুরু করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার শিল্পোন্নত বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত বৈশ্বিক বাণিজ্যিক সংযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগবিন্দু হলো এই সংকীর্ণ জলপ্রণালি| তবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যে সামুদ্রিক করিডোরটি প্রধান প্রধান সাম্রাজ্য ও আধুনিক রাষ্ট্রশক্তির নৌবহরের নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে এক অভূতপূর্ব উলটপালট| আন্তর্জাতিক সীমানার প্রথাগত সামরিক কাঠামোকে সম্পূর্ণ চুরমার করে দিয়ে ইয়েমেনের সায়দা পাহাড় থেকে উঠে আসা অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আনসারুল্লাহ’ বা হুতি বিদ্রোহীরা এই প্রণালির সামগ্রিক সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করায়ত্ত করেছে| ফলে সুদূর লোহিত সাগরের নীল জলরাশি আজ কেবল বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর জন্য এক নতুন ভূরাজনৈতিক দুঃস্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে|
ভৌগোলিক মানচিত্রের দিকে দৃষ্টি দিলে বোঝা যায় বাব এল-মান্দেবের গুরুত্ব কতটা স্পর্শকাতর ও গভীর| প্রণালিটি মূলত আফ্রিকা মহাদেশের শিং অংশে অবস্থিত জিবুতি ও ইরিত্রিয়া এবং আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের দেশ ইয়েমেনের মাঝখানে অবস্থান করছে| এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক জলপথের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত এমন যে, এটি দক্ষিণ-পূর্বে ভারত মহাসাগরের অন্তর্ভুক্ত এডেন উপসাগরের সাথে উত্তর-পশ্চিমের লোহিত সাগরকে যুক্ত করেছে| আর উত্তর প্রান্তে সুয়েজ খালের সংযোগ থাকায় এটি কার্যত ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম নৌপথ| মাত্র ২০ মাইল বা ৩২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথের ঠিক মাঝখানে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আগ্নেয়গিরিজাত দ্বীপ ‘মায়্যুন’, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘পেরিম’ দ্বীপ নামেও বহুল পরিচিত| প্রায় ১৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ছোট্ট দ্বীপটি পুরো বাব এল-মান্দেবকে দুটি স্বতন্ত্র চ্যানেলে বিভক্ত করে রেখেছে| এর পূর্ব দিকের চ্যানেলটিকে বলা হয় ‘বাব ইস্কান্দার’, যার প্রশস্ততা মাত্র দুই মাইল এবং গভীরতা প্রায় ৩০ মিটার| এই অগভীর পূর্ব চ্যানেলটি সাধারণত স্থানীয় ছোট মাছ ধরার ট্রলার বা উপকূলীয় নৌযান ছাড়া বড় জাহাজের জন্য ব্যবহারযোগ্য নয়| অন্যদিকে পশ্চিম দিকের বড় চ্যানেলটি স্থানীয়ভাবে ‘দাক্কা আল-মায়্যুন’ নামে পরিচিত, যা প্রায় ১৬ মাইল প্রশস্ত এবং প্রায় ৩১০ মিটার পর্যন্ত গভীর| আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবিশাল কন্টেইনার জাহাজ, রাসায়নিক কার্গো এবং শত শত ফুট দীর্ঘ তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য এই পশ্চিম চ্যানেলটিই হলো মূল সামুদ্রিক ধমনি|
সাম্প্রতিক সময়ে রয়টার্স, এএফপি এবং আল-জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোর সরেজমিন তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের সামরিক অগ্রযাত্রা সব পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে| দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত দুর্বল ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা, বাব এল-মান্দেব প্রণালির সার্বিক নজরদারির প্রধান কেন্দ্র ‘এল-ওমারি’ সামরিক ক্যাম্প এবং প্রণালির ঠিক মধ্যভাগে অবস্থিত অতি সংবেদনশীল মায়্যুন দ্বীপের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে হুতি যোদ্ধারা| সরকারি বাহিনীর সেনারা প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হয়ে পিছু হটলে হুতিরা একযোগে স্থল ও জলপথে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রণালির উত্তর-পূর্ব উপকূলের ধুবাব শহরটিও দখল করে নেয়| সংবাদসংস্থা এএফপি সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণকক্ষে হুতিরা এখন কার্যত একক ও অবিসংবাদিত সামরিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে| তাদের এই অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি বিমানবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে মোখা বিমানবন্দর ও সংলগ্ন ঘাঁটিগুলোতে উপর্যুপরি বিমান হামলা চালালেও মাঠপর্যায়ে হুতিদের রুখে দেওয়ার মতো কোনো কার্যকর স্থলবাহিনী দেখা যায়নি| উল্টো দিকে তেহরান থেকে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের জোর দাবি এবং রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, এই সামরিক অগ্রযাত্রা নিছক কোনো স্থানীয় মিলিশিয়াদের বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সমন্বিত ভূরাজনৈতিক মেরুকরণ|
ইয়েমেনের বুক চিরে হুতিদের এমন নাটকীয় ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানোর ইতিহাস বুঝতে হলে দেশটির ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর বিবর্তনের দিকে তাকাতে হবে| উত্তর ইয়েমেনের রুক্ষ পাহাড়ি অঞ্চল বিশেষ করে সায়দা প্রদেশ ছিল ঐতিহাসিকভাবে শিয়া ইসলামের স্বতন্ত্র শাখা ‘জায়দি’ সম্প্রদায়ের মূল ঘাঁটি| শিয়া ভাবধারার অন্তর্ভুক্ত হলেও ধর্মীয় আচার ও বিশ্বাসের দিক থেকে জায়দিরা সুন্নি ইসলামের বেশ কাছাকাছি এবং সুন্নি-শিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের মধ্যপন্থী সমন্বয়বাদী অবস্থান ধারণ করে| এই জায়দি ইমামরা প্রায় এক হাজার বছর ধরে অর্থাৎ ৮৯৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় উত্তর ইয়েমেনে নিরঙ্কুশ শাসন পরিচালনা করেছিলেন, যা ইতিহাসে ‘জায়দি ইমামাত’ নামে সমাদৃত ছিল| কিন্তু ১৯৬২ সালের রক্তক্ষয়ী ইয়েমেনি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে রাজতান্ত্রিক ইমামাত শাসনের পতন ঘটে এবং আধুনিক ইয়েমেন প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়| প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে উত্তর ইয়েমেনের এই ঐতিহ্যবাহী জায়দি জনগোষ্ঠী ধীরে ধীরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে তীব্র প্রান্তিককরণের শিকার হতে শুরু করে|
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিংশ শতাব্দীর আশির দশকের শেষভাগ ও নব্বইয়ের দশকের প্রারম্ভে, যখন প্রতিবেশী সৌদি আরবের প্রত্যক্ষ অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতায় উত্তর ইয়েমেনের পাহাড়ি জনপদে ওয়াহাবি ও সালাফি ধর্মীয় মতবাদের আগ্রাসী প্রচার শুরু হয়| শতাব্দীপ্রাচীন নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয় ও অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়ার গভীর শঙ্কায় জায়দি তরুণ ও আলেম সমাজ এক সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ আন্দোলনের সূচনা করেন| বিশিষ্ট জায়দি পণ্ডিত বদরুদ্দিন আল-হুতি এবং তাঁর ক্যারিশম্যাটিক সন্তান হুসাইন বদরুদ্দিন আল-হুতির নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে গঠিত হয় ‘শা বাব আল-মুমিনিন’ বা বিশ্বস্ত তরুণ দল| শুরুতে পাঠাগার স্থাপন, ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে নিয়োজিত থাকলেও হুসাইন আল-হুতির হাত ধরে এই সংগঠনটি দ্রুত দুর্নীতিবিরোধী, সামাজিক ন্যায়বিচারকামী ও পাশ্চাত্যবিরোধী এক তীব্র রাজনৈতিক মঞ্চে রূপ নেয়| রাষ্ট্রপতি আলি আবদুল্লাহ সালেহের দীর্ঘকালীন স্বৈরাচারী, দুর্নীতিগ্রস্ত ও পশ্চিমামুখী শাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে হুসাইন আল-হুতি সংগঠনের নাম রাখেন ‘আনসারুল্লাহ’ বা আল্লাহর সাহায্যকারী| পরবর্তীতে তাঁর পারিবারিক নামানুসারেই এই আন্দোলনের অনুসারীরা বিশ্বজুড়ে ‘হুতি’ নামে পরিচিতি লাভ করে|
২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর হুতিদের রাজনৈতিক মতাদর্শে আমেরিকা ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান এক নতুন মাত্রা পায়| জনসমর্থন বৃদ্ধি পেতে দেখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সালেহ ভীত হয়ে ২০০৪ সালে হুসাইন আল-হুতিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলে সায়দা অঞ্চলে প্রথম সশস্ত্র লড়াই শুরু হয়| সেই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সরকারি বাহিনীর অভিযানে হুসাইন আল-হুতি নিহত হলে আন্দোলনের হাল ধরেন তাঁর দূরদর্শী ও রণকৌশলী ভাই আব্দুল মালিক আল-হুতি| ২০০৪ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সায়দা অঞ্চলে সরকার ও হুতিদের মধ্যে পরপর ছয়টি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়| আন্তর্জাতিক গবেষকদের মতে, এই ছয়টি যুদ্ধের ধাক্কায় একদিকে সানার কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও মনোবল পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, অন্যদিকে হুতিরা পাহাড়ের রুক্ষ ভৌগোলিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত দক্ষ ও অপ্রতিরোধ্য এক গেরিলা বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়|
২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রবল তরঙ্গে পদচ্যুত হন রাষ্ট্রপতি সালেহ এবং ক্ষমতায় আসেন দুর্বলচিত্তের আবদ্রাব্বুহ মানসুর হাদি| হাদির ভঙ্গুর প্রশাসন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরামর্শে সাধারণ মানুষের জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং দেশকে এমনভাবে ছয়টি ফেডারেল অঞ্চলে ভাগ করার প্রস্তাব যা উত্তর ইয়েমেনকে সমুদ্রবন্দর ও খনিজ সম্পদ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করে—সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে দেয়| এই বিশাল রাজনৈতিক শূন্যতার মোক্ষম সুযোগ গ্রহণ করে হুতিরা| একদা যে সালেহের নির্দেশে তাঁদের শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছিলেন, সেই চতুর সাবেক রাষ্ট্রপতি সালেহের অনুগত সেনা কাঠামোর সাথে গোপনে এক নাটকীয় অলিখিত আঁতাত গড়ে তোলেন আব্দুল মালিক আল-হুতি| ফলে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়| রাষ্ট্রপতি হাদি পালিয়ে প্রথমে এডেন এবং পরে সৌদি আরবে আশ্রয় গ্রহণ করেন| সানায় সমান্তরাল বিপ্লবী সরকার গঠনের মাধ্যমে হুতিরা দেশটির পূর্ববর্তী সশস্ত্র বাহিনীর হাজার হাজার ট্যাংক, ভারী সমরাস্ত্র, আধুনিক আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার, রাডার স্টেশন, বিমানঘাঁটি এবং তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে কেনা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে| এই সামরিক সম্পদই পরবর্তীতে তাঁদের স্থানীয় গেরিলা দল থেকে এক আঞ্চলিক নৌ-শক্তিতে পরিণত হওয়ার শক্ত ভিত্তি এনে দেয়|
হুতিদের এই উল্কাগতির উত্থান মধ্যপ্রাচ্যের সর্ববৃহৎ আঞ্চলিক শক্তি ইরানের দীর্ঘমেয়াদি ভূকৌশলগত হিসাব-নিকাশের সাথে এক অভাবনীয় যোগসূত্র তৈরি করে| মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে তেহরানের দীর্ঘদিনের প্রভাববলয় যা ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বা ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ নামে পরিচিত, তার মূল খুঁটি ছিল লেবাননের হিজবুল্লাহ, সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ সরকার, ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসলামিক জিহাদ| তবে ২০১৪ সালের পর ইয়েমেনের ভৌগোলিক মানচিত্রে হুতিদের সামরিক অগ্রগতি তেহরানের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের কাছে এক স্বর্গীয় সুযোগের দ্বার উন্মোচন করে দেয়| হুতিদের ভৌগোলিক অবস্থান সরাসরি সৌদি আরবের অরক্ষিত দক্ষিণ সীমান্ত ঘেঁষে এবং লোহিত সাগরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল সামুদ্রিক বাণিজ্য করিডোরের ঠিক প্রবেশমুখে| আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের গভীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুরুতে তেহরান ও সানার মধ্যকার সম্পর্ক কেবল ধর্মীয় ও মতাদর্শিক সহানুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করার পর তা এক অত্যন্ত সমন্বিত, প্রাতিষ্ঠানিক ও আধুনিক সামরিক জোটে রূপ নেয়| হুতিরা কোনো সাধারণ পুতুল বা আজ্ঞাবহ প্রক্সি নয়; বরং তারা নিজস্ব রাজনৈতিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখেই ইরানের আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক লক্ষ্যগুলোর সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করছে|
ইয়েমেনের এই বাহিনীকে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক রণকৌশলে প্রশিক্ষিত করতে নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে ইরানের ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অভিজাত কুদস ফোর্স| জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সুদূর পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সীমান্ত ও লোহিত সাগরের দীর্ঘ চোরাচালান রুট ব্যবহার করে ইরান হুতিদের কাছে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গাইডেন্স কিট, উন্নত রাডার প্রযুক্তি এবং ড্রোন যন্ত্রাংশ পৌঁছে দিয়েছে| ইরানি নকশাকে কাজে লাগিয়ে সানার ভূগর্ভস্থ কারখানায় হুতি প্রকৌশলীরা পুরোনো সোভিয়েত স্কাড মিসাইলকে রূপান্তর করে তৈরি করেছে দূরপাল্লার ‘বুর্কান-২এইচ’ এবং ‘কুদস’ সিরিজের আধুনিক ক্রুজ মিসাইল| এর সাথে যুক্ত হয়েছে নজরদারি ও হামলার জন্য নিখুঁত দূরপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোন ‘কাসেফ’ এবং ‘সামাদ-৩’| সমুদ্রপথে শত্রুর জাহাজ ধূলিসাৎ করার জন্য সরবরাহ করা হয়েছে ‘নূর’ ও ‘আল-মান্দেব’ অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল, নৌ-মাইন এবং দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরকবাহী বোট| স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপরি) তাদের গবেষণায় উল্লেখ করেছে যে, কেবল বাইরে থেকে অস্ত্র সরবরাহ নয়, ইরান মূলত প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে হুতিদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলেছে| ফলে সানার দুর্গম পাহাড়ি গুহায় বসেই তারা আধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র জোড়া দেওয়ার বিস্ময়কর সক্ষমতা অর্জন করেছে|
ইরানের সামগ্রিক সমরনীতির একটি মৌলিক স্তম্ভ হলো ‘অসমমিতিক যুদ্ধরীতি’ বা অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার| এর মূল কথা হলো—অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে বহুগুণ শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধে নিজ সীমান্ত থেকে শত শত মাইল দূরে এমন এক সংঘাত ক্ষেত্র প্রস্তুত রাখা, যাতে মূল আঘাতটি কখনোই ইরানের নিজের মাটির ওপর না আসে| বাব এল-মান্দেবে হুতিদের একচ্ছত্র সামরিক নিয়ন্ত্রণ তেহরানকে সেই অসমমিতিক লড়াইয়ে এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে| ঐতিহাসিকভাবে লোহিত সাগর, বাব এল-মান্দেব এবং সুয়েজ খাল ছিল পশ্চিমা বিশ্ব ও তাদের মধ্যপ্রাচ্যীয় মিত্রদের (যেমন: ইসরায়েল, মিসর ও সৌদি আরব) একক প্রভাবাধীনে| কিন্তু হুতিদের মাধ্যমে বাব এল-মান্দেবকে নিজেদের প্রভাববলয়ে এনে তেহরান আজ পশ্চিমা বিশ্বের সমুদ্র আধিপত্যের মুখে এক বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিয়েছে| আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবকে এক স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়েছে—যদি ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় কোনো ধরনের আঘাত হানা হয় কিংবা তেহরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা হয়, তবে ইরান কেবল হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেই ক্ষান্ত হবে না, বরং বাব এল-মান্দেব প্রণালির প্রবেশদ্বার পুরোপুরি রুদ্ধ করে দিয়ে গোটা বিশ্বের পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থাকে মুহূর্তে পঙ্গু করে দিতে পারে|
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ভূরাজনীতিতে বাব এল-মান্দেবকে কেন একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ ‘চোকপয়েন্ট’ বলা হয়, তা বোঝার জন্য বিশ্ব বাণিজ্যের পরিসংখ্যানগুলোর দিকে নজর দেওয়া আবশ্যক| নৌপরিবহনের পরিভাষায় চোকপয়েন্ট হলো সেই সংকীর্ণ সামুদ্রিক জলপথ, যার নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হলে গোটা অঞ্চলের সামুদ্রিক যোগাযোগ স্থবির হয়ে পড়ে| উত্তর দিকে মানবনির্মিত সুয়েজ খাল এবং দক্ষিণ দিকে প্রকৃতির তৈরি বাব এল-মান্দেব—এই দুই তোরণ মূলত একই সুতোয় গাঁথা এক অবিচ্ছেদ্য সামুদ্রিক করিডোর| বাব এল-মান্দেব যদি কোনো সামরিক শক্তির কারণে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, তবে সুয়েজ খাল তার অর্থনৈতিক উপযোগিতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে| কারণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কোনো জাহাজই লোহিত সাগরে প্রবেশ না করতে পারলে উত্তর দিকের সুয়েজ খালে পৌঁছাতে পারে না| আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এবং মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) বিশদ ডাটাবেজ অনুযায়ী, সমগ্র বিশ্বের মোট সমুদ্র বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং বৈশ্বিক কন্টেইনার পরিবহনের প্রায় ৩০ শতাংশ পরিবাহিত হয় এই সরু বাব এল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করে| প্রতি বছর গড়ে ১৭ হাজার থেকে ২০ হাজার আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে সম্পাদিত বাণিজ্যের বার্ষিক আর্থিক মূল্যমান এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি|
বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সংকীর্ণ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম| পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো—সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬ দশমিক ২ মিলিয়ন থেকে ৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে পৌঁছানোর জন্য বাব এল-মান্দেব প্রণালি পাড়ি দেয়| এর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী দেশ কাতার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মোট বার্ষিক এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির ৮ থেকে ১০ শতাংশ পরিবাহিত হয় এই পথে| অন্যদিকে আধুনিক বিশ্বের ম্যানুফ্যাকচারিং পাওয়ারহাউস হিসেবে পরিচিত পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো—চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের তৈরি ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ভারী যন্ত্রপাতি, কাপড় ও খুচরা যন্ত্রাংশ ইউরোপে যায় এই পথ দিয়ে| আবার ইউরোপ থেকে শত শত টন খাদ্যশস্য বিশেষ করে গম ও ভোজ্যতেল এশিয়ায় ফেরত আসে একই পথ ধরে| ফলে এই এক চিলতে জলপথ অবরুদ্ধ হওয়া মানে গোটা পৃথিবীর উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার মেরুদণ্ডে সরাসরি কুঠারাঘাত লাগা|
সামরিক ও রণকৌশলগত দিক থেকে বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ মূলত নির্ভর করে এর তীরবর্তী ভূখণ্ড ও দ্বীপগুলোর ভৌগোলিক কাঠামোর ওপর| প্রণালির ঠিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মায়্যুন বা পেরিম দ্বীপের সামরিক নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকে, সে খুব সহজেই সমগ্র প্রণালির ট্রাফিক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে| ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই দ্বীপের গুরুত্ব অনুধাবন করে সেখানে স্থায়ী নৌঘাঁটি ও বাতিঘর স্থাপন করেছিল, যা দিয়ে তারা সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগরের মুখে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রেখেছিল| স্নায়ুযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতেও দক্ষিণ ইয়েমেনে সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক উপস্থিতির সময় মায়্যুন দ্বীপ ছিল মার্কিন নৌবহরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের প্রধান স্নায়ুকেন্দ্র|
সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের দ্বারা ঐতিহাসিক মোখা, ধুবাব উপকূল এবং মায়্যুন দ্বীপের পূর্ণ সামরিক দখল এই অঞ্চলে এক নতুন সামরিক বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে| উপকূলীয় ধুবাব ও মোখার সুউচ্চ পাহাড়ি টিলা এবং মায়্যুন দ্বীপের সমতল ভূমিতে আধুনিক সারফেস-টু-সারফেস নজরদারি রাডার, ইলেকট্রনিক জ্যামিং ব্যবস্থা ও ড্রোন লঞ্চার বসিয়ে হুতিরা এখন এই জলপথ অতিক্রমকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও গতিপথ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পারছে| প্রণালির পশ্চিম চ্যানেলের প্রশস্ততা মাত্র ১৬ মাইল হওয়ায় মূল উপকূল ও মায়্যুন দ্বীপ থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূর দিয়ে চলাচলকারী বিশাল জাহাজগুলো হুতিদের স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার নির্ভুল নিশানাভেদী অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এবং আত্মঘাতী ড্রোনের অনায়াস লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে| এছাড়া মায়্যুন দ্বীপে অবস্থিত রানওয়ে এবং পুরোনো সামরিক স্থাপনাগুলোর দখল নেওয়ার ফলে হুতিরা এখন আন্তর্জাতিক সামরিক নৌবহরের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কম দূরত্বের ব্যবধানে আধুনিক বিস্ফোরকবাহী রিমোট-কন্ট্রোলড স্পিডবোট পরিচালনা করতে পারছে এবং চ্যানেলের সংকীর্ণ অংশে অতি দ্রুত সামুদ্রিক মাইন পেতে দিয়ে সাধারণ জাহাজ চলাচল পুরোপুরি অসম্ভব করে তুলতে সক্ষম হয়েছে|
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে সবচেয়ে বড় ভূকম্পন তৈরি হয়েছে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালির যুগপৎ সামরিক সমীকরণের কারণে| মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের দুটি প্রধান দ্বার হলো হরমুজ ও বাব এল-মান্দেব| হরমুজ প্রণালির উত্তর উপকূল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের চৌকস নৌবাহিনী, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত পেট্রোলিয়ামের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পরিবাহিত হয়| আর লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব এখন সরাসরি তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হুতিদের কামানের মুখে| মানব ইতিহাসের পাতায় এমন ঘটনা এই প্রথম যে, একটি একক ও সুসংগঠিত সামরিক অক্ষ মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান ও সবচেয়ে স্পর্শকাতর সামুদ্রিক চোকপয়েন্টের নিয়ন্ত্রণ একই সাথে নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে|
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস’-এর বিশ্লেষকরা একে আখ্যা দিয়েছেন ‘টুইন চোকপয়েন্ট লিভারেজ’ বা দ্বৈত সামুদ্রিক জিম্মিদশার এক চরম রূপ| এই অভূতপূর্ব ভৌগোলিক সুবিধা তেহরানকে পশ্চিমা বিশ্ব, ইসরায়েল এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এক ধরনের অদৃশ্য অথচ অত্যন্ত কার্যকর ‘কৌশলগত ভেটো’ ক্ষমতা প্রদান করেছে| ওয়াশিংটন বা তেলআবিব যদি ইরানের ওপর কোনো বড় ধরনের প্রত্যক্ষ সামরিক হামলা চালায়, তবে তেহরান একযোগে হরমুজ এবং বাব এল-মান্দেব বন্ধ করে দিয়ে পুরো পশ্চিমা অর্থনীতিকে নিমেষের মধ্যে স্তব্ধ করে দেওয়ার সামরিক ক্ষমতা এখন হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে|
বাব এল-মান্দেবে হুতিদের এই অগ্রযাত্রা এবং হরমুজে উত্তেজনার পারদ চড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক পণ্য ও জ্বালানি বাজারে| রয়টার্স ও এএফপির তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরে সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে ১০৭ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি গ্যালনে রেকর্ড ৬ ডলার স্পর্শ করেছে| বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কন্টেইনার শিপিং জায়ান্টগুলো লোহিত সাগরের এই চরম ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে তাদের শত শত জাহাজকে আফ্রিকার সুদূর দক্ষিণ প্রান্তের উত্তমাশা অন্তরীপ দিয়ে ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে| এর ফলে এশিয়া থেকে ইউরোপে পণ্য পৌঁছাতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হচ্ছে, কারখানার কাঁচামাল আটকে গিয়ে গুদামজাতকরণের ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে এবং বিশ্বজুড়ে নতুন করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে|
অর্থনৈতিক এই আঘাতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়ের হিসাবে| লোহিত সাগরে হুতিদের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ক্রমাগত হুমকির কারণে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বীমা সমিতিগুলো এই পথে চলাচলকারী জাহাজের জন্য ‘ওয়ার রিস্ক’ বা যুদ্ধকালীন ঝুঁকি বীমা প্রিমিয়ামের হার অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়েছে| স্বাভাবিক সময়ে যা ছিল জাহাজের মোট মূল্যের মাত্র ০ দশমিক ০৫ শতাংশ, তা বর্তমানে লাফিয়ে ০ দশমিক ৭৫ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে| একটি সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজের মূল্য যদি ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ডলার হয়, তবে কেবল এই ঝুঁকিপূর্ণ ২০ মাইল পথ অতিক্রম করার জন্যই জাহাজ মালিককে অতিরিক্ত সাড়ে সাত থেকে দশ লাখ মার্কিন ডলার বাড়তি বীমা ফি গুনতে হচ্ছে|
এর সাথে যুক্ত হয়েছে উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে চলার বিশাল আর্থিক বোঝা| বাব এল-মান্দেব এড়িয়ে আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিটি বাণিজ্যিক ট্রিপে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৪ দিন সময় বেশি লাগছে এবং জাহাজগুলোকে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ সামুদ্রিক মাইল জলপথ পাড়ি দিতে হচ্ছে| আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, আফ্রিকার উপকূল ঘুরে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে কেবল অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়ানোর পেছনেই প্রতিটি বড় কন্টেইনার জাহাজকে প্রতি ট্রিপে অতিরিক্ত প্রায় এক মিলিয়ন বা দশ লাখ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে| কর্মীদের বেতন, জাহাজের অবচয় এবং জ্বালানির এই বিপুল বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত গিয়ে চাপছে সাধারণ ভোক্তাদের নিত্যপণ্যের দামের ওপর, যা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে|
লোহিত সাগরে হুতিদের প্রতিরোধ ভাঙতে পশ্চিমা বিশ্ব যে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখে পড়েছে| বাব এল-মান্দেবের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য মিত্রদের সমন্বয়ে ‘অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’ নামক বহুজাতিক নৌ-টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল| একই উদ্দেশ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের নিজস্ব নৌ-মিশন ‘অপারেশন অ্যাসপাইডস’ শুরু করে| কিন্তু ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট এবং হার্ভার্ডের বেলফার সেন্টারের সাম্প্রতিক কৌশলগত বিশ্লেষণ বলছে, এই পশ্চিমা নৌ-জোটের মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা অত্যন্ত হতাশাজনক প্রমাণিত হয়েছে| বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এবং ব্রিটিশ গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো সাগরে টহল দিয়েও হুতিদের আক্রমণ পুরোপুরি থামাতে পারেনি| কারণ হুতিদের প্রধান প্রধান সমরাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে, তাদের ড্রোন লঞ্চারগুলো অত্যন্ত দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরযোগ্য এবং তাদের মিসাইল প্যাডগুলো পাহাড়ের খাঁজে এমনভাবে লুকানো যে শত শত বিমান হামলা চালিয়েও সেগুলো সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা অসম্ভব|
তদুপরি, এই লড়াইয়ের আর্থিক সমীকরণ পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক যুক্তির সম্পূর্ণ পরিপন্থী| হুতিদের একটি তুলনামূলক সাধারণ আত্মঘাতী ড্রোন তৈরিতে খরচ পড়ে মাত্র ১০ থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার| অথচ আকাশপথে সেই ড্রোনটিকে ধ্বংস করতে পশ্চিমা যুদ্ধজাহাজগুলো থেকে যে আধুনিক ‘এসএম-২’ বা ‘অ্যাস্টার-৩০’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে হয়, তার প্রতিটির একক মূল্য ২০ থেকে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার| অর্থাৎ বিশ হাজার ডলারের একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে আড়াই মিলিয়ন ডলার খরচ করতে হচ্ছে| অর্থনৈতিক অপচয়ের এই মারাত্মক অসম সমীকরণের কারণে দীর্ঘমেয়াদে লোহিত সাগরে মার্কিন ও ইউরোপীয় নৌবাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি বজায় রাখা এক চরম অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে|
লোহিত সাগরের এই নাটকীয় পটপরিবর্তন বিশ্বের অন্যান্য পরাশক্তি এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর হিসাব-নিকাশকেও পুরোপুরি ওলটপালট করে দিয়েছে| বিশ্বের সর্ববৃহৎ রফতানিকারক দেশ হিসেবে চীনের সামগ্রিক রফতানি বাণিজ্য মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল, যার প্রধান পথই হলো সুয়েজ ও বাব এল-মান্দেব| জিবুতিতে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির একটি আধুনিক বৈদেশিক নৌঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও বেইজিং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পশ্চিমাদের সামরিক জোটে অংশ নেওয়া থেকে নিজেদের দূরে রেখেছে| হুতিরা সরাসরি চীনা পতাকাবাহী জাহাজে আক্রমণ না চালালেও শিপিং খরচ বৃদ্ধি এবং ইউরোপে রফতানি ব্যাহত হওয়া প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উচ্চাভিলাষী ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) প্রকল্পের অগ্রগতিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে|
অন্যদিকে রাশিয়ার অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন| মস্কো লোহিত সাগরের এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একপাক্ষিক বৈশ্বিক আধিপত্যকে দুর্বল করার এক মোক্ষম ভূকৌশলগত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে| জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে মস্কো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না করে এবং সার্বিক ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান না করে কেবল লোহিত সাগরে বোমা ফেলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করা যাবে না|
তবে এই সংকটে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাম হলো মিসর| বাব এল-মান্দেব প্রণালির অচলাবস্থার কারণে সুয়েজ খাল দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল অর্ধেকে নেমে এসেছে| মিসরের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হলো সুয়েজ খালের টোল ট্যাক্স| আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো আফ্রিকার দিকে চলে যাওয়ায় সুয়েজ খাল থেকে কায়রোর বার্ষিক রাজস্ব আয় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ধসে পড়েছে, যা দেশটির চরম সংকটাপন্ন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ভঙ্গুর জাতীয় অর্থনীতিকে এক নতুন বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে| প্রণালির উল্টো পাড়ে অবস্থিত ছোট্ট দেশ জিবুতি তাদের নিজস্ব মাটিতে মার্কিন, ফরাসি এবং চীনা সামরিক ঘাঁটির সহাবস্থান থাকা সত্ত্বেও সরাসরি কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াতে সাফ অস্বীকার করেছে, যাতে হুতিদের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা তাদের ছোট্ট ভূখণ্ডের ওপর না পড়ে| অন্যদিকে সৌদি আরব অত্যন্ত সাবধানে পা ফেলছে; কারণ তারা বহু কষ্টে হুতিদের সাথে যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিয়েছিল, নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে তা ভেস্তে দিতে চায় না| আর লোহিত সাগরীয় ভৌগোলিক করিডোর হারিয়ে আফ্রিকার স্থলবেষ্টিত বৃহৎ দেশ ইথিওপিয়া তাদের বৈদেশিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে|
বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সনাতন ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে| বিংশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্তও আন্তর্জাতিক জলপথের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব ছিল আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের সুবিশাল ও সুসংগঠিত নৌবাহিনীর হাতে| কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এসে দেখা গেল, একটি শক্তিশালী ও আদর্শনিষ্ঠ অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি, সস্তা অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এবং ভৌগোলিক সুবিধার অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়ে একাই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী ও বাণিজ্যিক পরাশক্তিগুলোকে নতিস্বীকার করতে বাধ্য করতে পারে| এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রথাগত সংজ্ঞাকে চিরতরে বদলে দিয়েছে| বিশ্ববাণিজ্যের প্রধান লাইফলাইনের চাবিকাঠি এখন আর শুধু কোনো রাষ্ট্র বা পরাশক্তির হাতে নেই, তা চলে গেছে একটি আঞ্চলিক মিলিশিয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর|
ইয়েমেনের সায়দা পাহাড়ের এক সময়ের অবহেলিত জায়দি আন্দোলন ‘আনসারুল্লাহ’ আজ লোহিত সাগরের মানচিত্রকে নতুন করে এঁকে দিয়েছে| বিশ্ববাসীকে আজ স্বীকার করতেই হচ্ছে যে, সামরিক শক্তি প্রদর্শন কিংবা আকাশপথে নির্বিচার বোমা হামলা চালিয়ে এই অ-রাষ্ট্রীয় শক্তিকে সমুদ্রপথ থেকে হটানো সম্ভব নয়| লোহিত সাগরে স্থায়ী শান্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সামরিক অহমিকা ত্যাগ করে সমন্বিত কূটনৈতিক পথে হাঁটতে হবে| ইয়েমেনের মাটিতে হুতিদের রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়ে সৌদি-হুতি আলোচনাকে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ দিতে হবে, যা নৌপথের সার্বজনীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে|
একই সাথে মনে রাখা প্রয়োজন, বাব এল-মান্দেবের সংকট কোনো বিচ্ছিন্ন আঞ্চলিক সমস্যা নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূরাজনীতি, বিশেষ করে ফিলিস্তিন সমস্যা এবং ইরান-আমেরিকা বৈরিতার সাথে নাড়ির বন্ধনে যুক্ত| মধ্যপ্রাচ্যের মূল রাজনৈতিক সংকটের টেকসই সমাধান এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আঞ্চলিক নিরাপত্তা চুক্তি ছাড়া লোহিত সাগরে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব| ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থা স্পষ্টতই এক বহুমুখী ক্ষমতার ভারসাম্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে একক কোনো পশ্চিমা পরাশক্তির একচ্ছত্র দাদাগিরি আর টিকবে না| হুতিদের মতো উদীয়মান অ-রাষ্ট্রীয় শক্তি, ইরান, চীন, রাশিয়া এবং লোহিত সাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোকে একটি একক আলোচনার টেবিলে এনেই বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার নতুন রূপরেখা চূড়ান্ত করতে হবে| অন্যথায়, ইতিহাসের পাতায় ‘চোখের জলের তোরণ’ নামে পরিচিত বাব এল-মান্দেব প্রণালি একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পরাশক্তিগুলোর জন্য এক অন্তহীন সংঘাত, রক্তপাত ও আর্থিক রক্তক্ষরণের স্থায়ী বধ্যভূমি হিসেবেই নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখবে|
তথ্যসূত্র: ঢাকা স্ট্রিম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category