সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিনই এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি দিয়ে রাজপথের যাত্রা শুরু করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকার মিরপুরের সড়ক ও অলিগলি পরিষ্কারের মাধ্যমে তিনি দিন শুরু করেন। এ সময় তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব ধরনের ‘রাজনৈতিক আবর্জনা’ দূর করে একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পেশায় চিকিৎসক এই রাজনীতিক আজ ফজরের নামাজ শেষে মিরপুরের একটি মসজিদ থেকে বের হয়েই হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক পরে ঝাড়ু হাতে তুলে নেন। এটি কোনো একদিনের প্রচারণামূলক কর্মসূচি নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, এটি নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ। ডা. শফিকুর রহমান দলের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর অন্তত আধাঘণ্টা করে সবাই যেন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেয়। কেউ এক ঘণ্টা দিতে পারলে আরও ভালো হবে”।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত আমির এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “জুলাই না আসলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না এবং আমিও বিরোধী দলীয় প্রধান হতে পারতাম না। তাই আমাদের সবার উচিত সংসদে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করা”। তিনি আরও যোগ করেন, রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব ধরনের আবর্জনা দূর করাই এখন মূল লক্ষ্য।
নিজের নির্বাচনী এলাকাকে রাজধানীর একটি ‘মডেল পাড়া’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন:
বরাদ্দের তোয়াক্কা নয়: সরকারি বরাদ্দ পাওয়া না গেলেও এই ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। তবে একই সঙ্গে ন্যায্য উন্নয়ন তহবিল থেকে তাঁর এলাকাকে বঞ্চিত না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দলমতের ঊর্ধ্বে ঐক্য: নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মিরপুরকে পরিষ্কার ও নিরাপদ করতে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।
গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: “এবার আমি জিতেছি, পরের বার অন্য কেউ জিততে পারেন; কিন্তু উন্নয়ন যেন থেমে না থাকে,”—মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।
বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট করেন যে, এটি কেবল শুরু। তিনি ঢাকায় থাকলে প্রতিদিনই এলাকায় এসে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন এবং ঢাকার বাইরে থাকলে সহকর্মীদের নিয়ে সেখানেও এই কাজ চালিয়ে যাবেন।