• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
Headline
প্রার্থনা… রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী ইসির ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে সায় নেই প্রধানমন্ত্রীর: জনভোগান্তি কমাতে ‘এক ছাদের নিচে’ সব সরকারি দপ্তরের নির্দেশ কোরবানির চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ সরকারের, সংরক্ষণে দেওয়া হবে বিনা মূল্যে লবণ নওগাঁ চেম্বারের নবায়ন ফি বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ: জরুরি সাধারণ সভা ও নির্বাচন দাবিতে প্রশাসকের কাছে ব্যবসায়ীদের আবেদন নওগাঁয় সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিং পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ অধ্যায়, ৭ই নভেম্বর ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ২৩ দিনের লম্বা ছুটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদ: ভোটের আগে নিউইয়র্কে ‘পরীক্ষায়’ বসছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মার্ট প্রযুক্তির চাদরে বাংলাদেশ সচিবালয়: এআই ক্যামেরা, ডিজিটাল পাস ও আধুনিক স্ক্যানারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার নতুন যুগে প্রশাসন

স্মার্ট প্রযুক্তির চাদরে বাংলাদেশ সচিবালয়: এআই ক্যামেরা, ডিজিটাল পাস ও আধুনিক স্ক্যানারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার নতুন যুগে প্রশাসন

Reporter Name / ৭ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

বাংলাদেশ সচিবালয় রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দু। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রতিদিন এখানে যাতায়াত করেন। এমন একটি সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা সবসময়ই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। কিন্তু বিগত দিনগুলোতে সচিবালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত নড়বড়ে। বিকল ক্যামেরা আর নামমাত্র তল্লাশির কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছিল। এই জরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজিয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্মার্ট ও স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাকাঠামো তৈরির বিশদ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

৯৯টি স্পর্শকাতর স্থানে এআই প্রযুক্তির নজরদারি

সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ এবং প্রবেশপথের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসছে নজরদারি ব্যবস্থায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রথম ধাপ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থানে ৯৯টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (AI-based) অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরার সাথে এই এআই ক্যামেরার মূল পার্থক্য হলো এর বিশ্লেষণ ক্ষমতা।

এই ক্যামেরাগুলো শুধু ভিডিও ধারণই করবে না, বরং সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি, অস্বাভাবিক জমায়েত বা অননুমোদিত প্রবেশ দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তির সহায়তায় এসব ক্যামেরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মুখমণ্ডল (Facial Recognition) স্ক্যান করে তার ছবি ও ডেটা সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে প্রেরণ করবে। কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে এই ডেটা সংরক্ষিত থাকার ফলে ভবিষ্যতে একই ব্যক্তি যদি পুনরায় কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে সচিবালয় এলাকায় প্রবেশ করার চেষ্টা করে, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সতর্কবার্তা (অ্যালার্ম) চলে যাবে। এর ফলে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

অত্যাধুনিক ভেহিক্যাল ও ব্যাগেজ স্ক্যানার

দর্শনার্থী এবং যানবাহনের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য সচিবালয়ের প্রবেশমুখে বসানো হচ্ছে সর্বাধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তি। জানা গেছে, সচিবালয়ের মোট ৪টি মূল গেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যাগেজ স্ক্যানার এবং আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগত দর্শনার্থী এবং তাদের বহন করা ব্যাগ বা সামগ্রী অত্যন্ত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে স্ক্যান করা যাবে। এই স্ক্যানারগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে, যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রাস্ত্র বা বিস্ফোরকও সহজেই শনাক্ত করতে পারবে।

সবচেয়ে বড় চমক হলো যানবাহনের প্রবেশপথে স্থাপিত অত্যাধুনিক ‘ভেহিক্যাল স্ক্যানার’। প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ি সচিবালয়ে প্রবেশ করে। আগে এসব গাড়ি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তল্লাশি করা হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ এবং ত্রুটিপূর্ণ। নতুন ভেহিক্যাল স্ক্যানারের মাধ্যমে চলন্ত বা অপেক্ষমাণ গাড়ি, গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রী এবং কোনো লুকায়িত সামগ্রী নিমেষেই স্ক্যান করা যাবে। কোনো গাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত হওয়ামাত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বেজে উঠবে এবং গেটের ব্যারিয়ার বন্ধ হয়ে ওই যানের প্রবেশ তাৎক্ষণিকভাবে আটকে দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নতুন এই ভেহিক্যাল স্ক্যানারটি যেকোনো গাড়িতে থাকা ৫০০ মিলিলিটার বা তার বেশি পরিমাণের যেকোনো তরল মাদক বা সাধারণ মাদক নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম। তবে এই সক্ষমতাকে আরও সূক্ষ্ম পর্যায়ে নিয়ে যেতে কাজ চলছে, যাতে মাত্র ১০ গ্রাম ওজনের কোনো মাদকদ্রব্য গাড়িতে লুকানো থাকলেও তা স্ক্যানারে ধরা পড়ে। এছাড়া, গাড়িতে কতজন যাত্রী আছেন, সেটিও স্ক্যানার গুনে ফেলতে পারবে। অনেক সময় দেখা যায়, গাড়ির পাসের বিপরীতে একজন অনুমোদিত ব্যক্তি থাকলেও ভেতরে তিনজন বসে আছেন। নতুন প্রযুক্তিতে এই ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং প্লাস্টিকের বোতল বা নিষিদ্ধ পণ্য নিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করা হবে।

আরএফআইডি প্রযুক্তি ও আধুনিক ওয়্যারলেস ব্যবস্থা

নিয়মিত এবং অনুমোদিত যানবাহনগুলোর সচিবালয়ে প্রবেশ আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুতগামী করতে যুক্ত করা হয়েছে ‘আরএফআইডি’ (RFID – Radio Frequency Identification) প্রযুক্তি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যেসব যানবাহনকে প্রবেশের স্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে বিশেষ আরএফআইডি স্টিকার বা ট্যাগ সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। প্রবেশপথে বসানো ‘লং রেঞ্জ আরএফআইডি রিডার’ অনেক দূর থেকেই এই স্টিকার রিড করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেট খুলে দেবে। এতে অনুমোদিত যানের জন্য যেমন অপেক্ষার সময় কমবে, তেমনি ভুয়া পাস ব্যবহার করে গাড়ি প্রবেশের সুযোগও শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।

পাশাপাশি, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে কেনা হয়েছে নতুন ও আধুনিক ওয়্যারলেস সেট। যেকোনো জরুরি মুহূর্তে, সন্দেহভাজন কাউকে ধাওয়া করতে বা দ্রুত বার্তা আদান-প্রদানে এই আধুনিক ওয়্যারলেস ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

অস্থায়ী পাস ব্যবস্থায় ডিজিটাল বিপ্লব

সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভোগান্তির ও দুর্নীতির জায়গা ছিল ম্যানুয়াল পাস ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে একে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হচ্ছে। নতুন নিয়মে দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) যাচাইকরণ, বায়োমেট্রিক অ্যাক্টিভেশন এবং কিউআর (QR) কোড সংবলিত স্মার্ট অস্থায়ী পাস।

এই ডিজিটাল পাসের সবচেয়ে যুগান্তকারী দিক হলো ‘টাইম-বেসড এন্ট্রি অ্যান্ড এক্সিট’ বা সময়ভিত্তিক প্রবেশ সুবিধা। এখন থেকে পাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইস্যু করা হবে। অর্থাৎ, সচিবালয়ের ভেতরে থাকা কোনো কর্মকর্তা যদি মনে করেন যে একজন দর্শনার্থীর কাজ মাত্র এক ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাবে, তবে তিনি সিস্টেমের মাধ্যমে ওই দর্শনার্থীকে কেবল এক ঘণ্টার জন্যই প্রবেশের অনুমতি (পাস) দিতে পারবেন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই দর্শনার্থীর মোবাইল ফোনে একটি সতর্কতামূলক এসএমএস (SMS) চলে যাবে। এই প্রযুক্তির ফলে দর্শনার্থীদের অকারণে সচিবালয়ের ভেতরে ঘোরাঘুরি করা, আড্ডা দেওয়া বা লবিং করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

এছাড়া, ডিজিটাল সিস্টেমে সব ডেটা সংরক্ষিত থাকায় একজন ব্যক্তি মাসে বা বছরে কতবার সচিবালয়ে আসছেন, তার একটি পরিসংখ্যান তৈরি হবে। অকারণে ঘন ঘন প্রবেশকারীদের ডেটা অ্যানালাইসিস করে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনে নোটিশ ইস্যু করে তাদের প্রবেশাধিকার স্থগিত করা হতে পারে।

অতীতের দুর্নীতি ও অকেজো যন্ত্রপাতির অবসান

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রটি অতীতে সচিবালয়ের নিরাপত্তার নামে হওয়া দুর্নীতির একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, পূর্বে নিরাপত্তার নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও তা মূলত বেহাত হয়েছে। অত্যন্ত নিম্নমানের স্ক্যানার এবং সস্তা সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে প্রশাসনের এই কেন্দ্রবিন্দুতে কেবল নামমাত্র একটি নিরাপত্তাবলয় তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল, যার কোনো বাস্তব কার্যকারিতা ছিল না।

আগে এমন পরিস্থিতি ছিল যে, সিসিটিভি ক্যামেরা দেয়ালে ঝোলানো থাকলেও তার কোনো ফুটেজ রেকর্ডিং হতো না, আর লাখ টাকা দিয়ে কেনা স্ক্যানার থাকলেও তাতে কোনো কিছু স্ক্যান হতো না। এই ধরনের অকার্যকর ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই বর্তমান সরকারের এই প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের উদ্যোগ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন ও পরামর্শ

সচিবালয়ের নিরাপত্তায় এই আধুনিকায়ন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সরকার মুহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, “রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। শুধু ক্যামেরা বসালেই হবে না, এগুলোর শতভাগ কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এআই নজরদারির ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে ঠিকই, তবে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুফল পেতে দক্ষ অপারেটর তৈরি এবং যন্ত্রপাতিগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।”

আরেকজন প্রখ্যাত নিরাপত্তা বিশ্লেষক কাজী শরীফ উদ্দিন এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে বলেন, “বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা ধারণায় প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। ডিজিটাল পাস ও আরএফআইডির মতো প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় কে কখন ঢুকছে, কতক্ষণ থাকছে—এসবের একটি স্বচ্ছ হিসাব থাকবে। এটি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় শুধু গতিই আনবে না, বরং জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করবে।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রযুক্তির পাশাপাশি তথ্যের সুরক্ষায় জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে সরকারি স্থাপনায় এ ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থাই দেখা যায়। এআই এবং ডেটা অ্যানালাইসিস ব্যবহার করে অপরাধ আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে এর পাশাপাশি নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (Privacy) এবং সংরক্ষিত ডেটার সুরক্ষার বিষয়টিকেও রাষ্ট্রের সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে, যাতে এই তথ্যের কোনো অপব্যবহার না হয়।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান

সার্বিক বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) মো. জসিম উদ্দীন বলেন, “সচিবালয়ের নিরাপত্তাকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। বিশেষ করে, বর্তমানে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অনেক কার্যক্রম সচিবালয়কেন্দ্রিক হওয়ায় এখানকার নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানের করার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরনো অকেজো যন্ত্রপাতির বদলে আমরা লেটেস্ট প্রযুক্তি নিয়ে আসছি। এই কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে প্রশাসনের এই কেন্দ্রবিন্দু আরও বেশি সুরক্ষিত হবে এবং একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নির্ভয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”

উপসংহারে বলা যায়, এআই ক্যামেরা, স্মার্ট স্ক্যানার আর ডিজিটাল পাসের এই ত্রিমাত্রিক সুরক্ষা বলয় বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্বচ্ছতার মাধ্যমেই কেবল এই বিশাল বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category