জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নিজেকে এক অপ্রতিরোধ্য গোলমেশিন হিসেবে প্রমাণ করে চলেছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। ধারাবাহিক ফর্মের তুঙ্গে থাকা এই তারকা এবার রচনা করেছেন নতুন ইতিহাস। দীর্ঘ ৯৫ বছরের পুরোনো এক আদি রেকর্ড ভেঙে ১৯৩১ সালের পর প্রথম কোনো ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে শীর্ষ স্তরের ক্লাব ফুটবলে এক মৌসুমে ৫০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি।
রিয়ালের বিপক্ষে জাদুকরী ফিফটি
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বাভারিয়ানদের নাটকীয় ৪-৩ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে গোল করার মধ্য দিয়ে এই অবিশ্বাস্য রেকর্ড পূর্ণ করেন কেইন। বুন্দেসলিগা, ডিএফবি পোকাল, ডিএফএল সুপার কাপ ও ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই মিলিয়ে মাত্র ৪২ ম্যাচেই তিনি এই ‘হাফ-সেঞ্চুরি’ স্পর্শ করেছেন। গোলের এই অসাধারণ গতি প্রমাণ করে কেইন কতটা ছন্দে রয়েছেন; উল্লেখ্য, পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মাত্র একবারই এমন বিধ্বংসী গতিতে গোলের এই মাইলফলক ছুঁতে পেরেছিলেন।
রুনির পরিসংখ্যান ও কেইনের শ্রেষ্ঠত্ব
ইউরোপের শীর্ষ কোনো লিগে খেলে এক মৌসুমে ৫০ গোল করা কতটা দুরূহ ব্যাপার, তা ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তিদের পরিসংখ্যান দেখলেই স্পষ্ট হয়। ইংল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতা ওয়েন রুনি তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ দুইবার এক মৌসুমে ৩৪টি করে গোল করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেখানে কেইনের এই কীর্তি তাকে সমসাময়িক স্ট্রাইকারদের চেয়ে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অভিজাত সেই ইংলিশ তালিকা
ফুটবলের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এক মৌসুমে ৫০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়া ইংলিশ ফুটবলারদের সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা। এই বিরল ও অভিজাত তালিকার শীর্ষে সগৌরবে অবস্থান করছেন এভারটনের কিংবদন্তি খেলোয়াড় ডিক্সি ডিন। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে তিনি অবিশ্বাস্য ৬৩টি গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন।
পরবর্তীতে ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ওয়েস্ট হ্যামের ভিক ওয়াটসন এবং এর ঠিক পরের বছর অর্থাৎ ১৯৩০-৩১ মৌসুমে অ্যাস্টন ভিলার টম ওয়ারিং ঠিক ৫০টি করে গোল করে এই তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এরপর কেটে গেছে প্রায় শতাব্দীকাল। দীর্ঘ ৯৫ বছরের সেই খরা কাটিয়ে অবশেষে চতুর্থ ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে এই বিরল মর্যাদার তালিকায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে রাখলেন হ্যারি কেইন।