ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে চলমান ‘৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ১০০ মিটার স্প্রিন্ট ইভেন্টে নিজেদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবারও প্রমাণ করেছেন শিরিন আক্তার ও ইমরানুর রহমান। ট্র্যাকের লড়াইয়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ১৭ বারের মতো দেশের দ্রুততম মানবী হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট শিরিন আক্তার। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে তিনি সময় নিয়েছেন মাত্র ১২.১০ সেকেন্ড (ইলেকট্রনিক)। অন্যদিকে, পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.৫৮ সেকেন্ড (ইলেকট্রনিক) সময় নিয়ে দ্রুততম মানবের মুকুট ধরে রেখেছেন ইমরানুর রহমান। তিনিও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হয়ে ট্র্যাকে নেমেছিলেন। তাদের এই জোড়া সাফল্যে জাতীয় অ্যাথলেটিকসে স্প্রিন্টের রাজত্ব আবারও নিজেদের দখলে রাখল সেনাবাহিনী।
স্প্রিন্টারদের সাফল্যের পাশাপাশি প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই শটপুট ইভেন্টে পুরুষ ও মহিলা—উভয় বিভাগেই অ্যাথলেটরা নিজেদের ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন। মেয়েদের শটপুটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জান্নাত বেগম ১৪.২৪ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েন। এর মাধ্যমে তিনি ২০২৫ সালে গড়া নিজের আগের রেকর্ডটি (১৩.৯১ মিটার) নিজেই ভেঙে দিয়েছেন। ছেলেদের শটপুটেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গোলাম সারোয়ার ১৫.৯৪ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন জাতীয় রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন, যিনি এর আগে ২০২৫ সালে ১৫.৫০ মিটার দূরত্বের রেকর্ড গড়েছিলেন।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় তিন দিনব্যাপী এই বিশাল ক্রীড়াযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও কম্পিটিশন ডিরেক্টর মো. শাহ আলম। এবারের প্রতিযোগিতায় জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাসহ মোট ৪৯টি দলের ৪৩৪ জন অ্যাথলেট (৩৩৫ জন পুরুষ ও ৯৯ জন মহিলা) অংশ নিচ্ছেন। দুটি গ্রুপে পুরুষদের ২২টি ও মহিলাদের ১৪টি সহ মোট ৪০টি ইভেন্টের এই লড়াইয়ে আরও যুক্ত আছেন প্রায় ৭০ জন ম্যানেজার ও কোচ এবং ১২০ জন টেকনিক্যাল অফিশিয়াল।