• শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

আগস্টে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের জোর আভাস

Reporter Name / ৩ Time View
Update : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গঠনের পর প্রায় পাঁচ মাস হতে চলল। আগামী আগস্ট মাসে এই সরকারের মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে। সরকারের এই ছয় মাস পূর্তিকে কেন্দ্র করেই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও রদবদলের জোরালো আভাস পাওয়া গেছে। সরকারের নীতিনির্ধারক সূত্রগুলোর মতে, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের ওপর কাজের অতিরিক্ত চাপ কমাতে দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হতে পারে। এছাড়া যেসব মন্ত্রণালয়ে অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে এবং মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, সেগুলোতে রদবদলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। একই সাথে মন্ত্রিসভার বর্তমান আকার আরও কিছুটা বাড়ানো হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে এই রদবদল বা দপ্তর পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের একাধিক মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের পুরো বিষয়টি একান্তই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেখছেন এবং এ বিষয়ে তাদের আগে থেকে কিছু জানা নেই।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়। মন্ত্রিসভার একজন সদস্য জানিয়েছেন, সরকার গঠনের সময়ই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে মন্ত্রীদের দায়িত্বের প্রাথমিক মেয়াদ হবে ছয় মাস। এই সময়ে সব মন্ত্রীর কাজের খতিয়ান ও কর্মকাণ্ড নিয়মিত লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে এবং ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর তা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে। এই পর্যালোচনার ভিত্তিতে কর্মদক্ষতায় পিছিয়ে পড়া কয়েকজন সদস্য মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন এবং কিছু নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও কাজের ধীরগতি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। এমনকি একজন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তার দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়ার আলোচনাও চলছে। কর্মদক্ষতা ও আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থেও কয়েকজনের দপ্তর বদল হতে পারে।

নতুন মন্ত্রী হিসেবে মাহিদুর রহমান, এরশাদ উল্লাহ, এবিএম মোশাররফ হোসেন এবং সেলিমা রহমানের নাম রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চল থেকে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বরকত উল্লা বুলু এবং জয়নুল আবদিন ফারুকের মন্ত্রিসভায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনায় আছেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিব-উন নবী খান সোহেল। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর কর্মকাণ্ডে বিএনপিপন্থি আমলারা সন্তুষ্ট নন, কারণ তাদের বিরুদ্ধে পূর্বতন আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ আমলাদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যেমন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি করার নির্দেশদাতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকায় নাম থাকা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সারোয়ারকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা পরে সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া সিলেট ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসক নিয়োগ ও বদলি নিয়ে তৈরি হওয়া চরম সমন্বয়হীনতা এবং বর্জ্য অপসারণে অবহেলার দায়ে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা ছাদেকুর রহমানের তদন্ত চলাকালীন পদোন্নতি পাওয়ার ঘটনাও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুর্বলতাকে প্রকাশ করেছে।

অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে, স্থানীয় সরকার ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বর্তমান মন্ত্রণালয় নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, তবে তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চান। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শেখ রবিউল আলম বেশ হিমশিম খাচ্ছেন এবং বিভিন্ন ভুলভ্রান্তির কারণে গণমাধ্যমে সমালোচিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশাল দায়িত্ব এককভাবে সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। এর আগে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কারণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ে কিছু রদবদল হয়েছিল এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী পদত্যাগ করার পর পদটি ফাঁকা রয়েছে।

একই সাথে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের পাশাপাশি বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও বড় ধরনের রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনা এবং জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে আগস্টের এই সম্ভাব্য রদবদলকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতারা।

তথ্যসূত্র: দেশ রূপান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category