• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

আট বছরের মধ্যে ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা: কমছে উৎপাদন, আমদানিনির্ভরতায় গভীর সংকটে দেশের গ্যাস খাত

Reporter Name / ১ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির জীবনীশক্তি হিসেবে পরিচিত নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদের ভাণ্ডার চরম আশঙ্কাজনক গতিতে নিঃশেষ হয়ে আসছে | ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রমাণিত প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৭৪ শতাংশই ইতিমধ্যে ব্যবহার করে ফেলা হয়েছে | একই সঙ্গে গত এক দশকের ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সামগ্রিক দৈনিক উৎপাদনের হার হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ | জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কোনো বড় ধরনের গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান এবং সফল খনন কার্যক্রম সম্পন্ন না হলে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলো সর্বোচ্চ আগামী আট বছরের মধ্যেই পুরোপুরি পানিশূন্য বা নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার এক বাস্তব ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ | অভ্যন্তরীণ কূপগুলোর দ্রুত বয়োবৃদ্ধি এবং নতুন খনি আবিষ্কারের শ্লথগতি আজ গোটা জ্বালানি খাতকে এক অভূতপূর্ব অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে |

হাইড্রোকার্বন ইউনিটের অতীত পরিসংখ্যান ও নথিপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো মিলে দেশে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ হাজার ৬৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করত | এমনকি ২০১৫ সালের মে মাসে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে দৈনিক ২ হাজার ৭৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছিল | তবে সেই স্বর্ণালী সময় পেরিয়ে এক দশক পর বর্তমানে অভ্যন্তরীণ দৈনিক উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে নেমে এসেছে মাত্র ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুটে | দেশের প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্রমশ হ্রাস পাওয়াই এই মহাবিপর্যয়ের মূল কারণ | বিশেষ করে দেশের মোট সরবরাহের সিংহভাগ জোগান দেওয়া সর্ববৃহৎ বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন এক দশক আগে যেখানে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট ছিল, পেট্রোবাংলার সর্বশেষ পরিসংখ্যানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৩২ মিলিয়ন ঘনফুটে | জাতীয় সংসদে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সম্প্রতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, প্রাকৃতিক কারণে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন প্রতি বছর গড়ে অন্তত ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে হ্রাস পাচ্ছে | একই সাথে সংসদে উপস্থাপিত তথ্যে উঠে এসেছে, দেশের মোট ২৯ দশমিক ৭৪ টিসিএফ উত্তোলনযোগ্য রিজার্ভের মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ দশমিক ১১ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে মজুত অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৬৩ টিসিএফ বা মাত্র ২৬ শতাংশ |

অভ্যন্তরীণ এই উৎপাদন ধসের বিপরীতে দেশের শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের কারণে গ্যাসের সার্বিক চাহিদা প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে | জোগান ও চাহিদার এই বিশাল ব্যবধানের সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নাগরিক জীবনের ওপর | পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে নতুন শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে সরকার, যার ফলে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর টেবিলে অন্তত ১ হাজার ৮৫৭টি নতুন বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকা পড়ে রয়েছে | বিদ্যুৎ খাতে মোট ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত থাকলেও তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে তীব্র গ্রীষ্মের পিক মৌসুমেও বিদ্যুৎ বিভাগ তার মোট সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করতে পারছে | অন্যদিকে ২০১৫ সাল থেকেই দেশের আবাসিক খাতে নতুন পাইপলাইন সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে চাপ না থাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রায়ই মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে | গ্যাসনির্ভর ভারী শিল্পগুলোকে এখন বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে বিকল্প প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হতে হচ্ছে, যা তাদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে |

নিজস্ব খনিগুলোর উৎপাদন ঘাটতি সামাল দিতে এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে বিগত সরকার ২০১৮ সাল থেকে উচ্চমূল্যের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়েছিল | তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই আমদানি নির্ভরতা এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের মোট দৈনিক গ্যাস সরবরাহের ৩৫ শতাংশেরও বেশি মেটাতে হচ্ছে ব্যয়বহুল বিদেশি এলএনজির ওপর ভর করে | কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেই এই আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দেশের জন্য এক মস্ত বড় ফাঁদ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে | সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব স্পট মার্কেটে এলএনজির দর মারাত্মকভাবে উল্লম্ফন করেছে | বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্যমতে, এশিয়ার স্পট এলএনজির প্রধান সূচক জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম প্রতি এমএমবিটিইউতে ৩২ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে, যা বিগত ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ড |

জ্বালানি অর্থনীতিবিদ শফিকুল আলমের হিসাব অনুযায়ী, দেশে উত্তোলিত নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রতি ঘনমিটার উৎপাদন খরচ যেখানে মাত্র ১২ থেকে ১৫ টাকা, সেখানে বিশ্ববাজার থেকে ৩২ ডলার বা তার বেশি দরে আমদানি করা এলএনজির সমপরিমাণ প্রতি ঘনমিটারের খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১২৭ টাকায় | এই বিশাল আকাশ-পাতাল মূল্যের পার্থক্য সরকারের রাজস্ব বাজেটের ওপর এক প্রলয়ংকরী আর্থিক বোঝার সৃষ্টি করেছে | চলতি অর্থবছরে সরকার এলএনজি খাতে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল | অথচ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই সেই নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে বহুগুণ বেশি অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বাবদ গলে গেছে | বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে এলএনজি আমদানির ভর্তুকি বিল জাতীয় বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত ছয় গুণেরও বেশি অতিক্রম করে যেতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলবে |

এই জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে দায়িত্ব নেওয়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির বহুমুখী কৌশল নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ | সরকার ইতিমধ্যে বঙ্গোপসাগরের ২৬টি গভীর ও অগভীর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র বা বিডিং রাউন্ড আহ্বানের ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে | তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সর্বসম্মত অভিমত হলো, সমুদ্রের তলদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস আবিষ্কার করা, কূপ খনন করা এবং তা পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার এই দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায় অন্তত সাত থেকে দশ বছর সময় লেগে যায় | ফলে বর্তমানের তীব্র গ্যাস হাহাকার মেটাতে এই সামুদ্রিক অনুসন্ধান কোনো তাৎক্ষণিক জাদুকরী সমাধান এনে দিতে পারবে না |

পরিস্থিতির জটিলতা অনুধাবন করে গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাস সরবরাহের ক্ষমতা দৈনিক ৫ হাজার ৮১৯ মিলিয়ন ঘনফুটে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ৮ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় | এই পরিকল্পনার স্বল্পমেয়াদি অংশের মধ্যে রয়েছে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, কুতুবজোমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের একটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ, ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ফেনী-বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত ১৫০টি নতুন অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ খনন করা | আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে আরও তিনটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে একটি আন্তর্জাতিক গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পরবর্তীতে আরও ১৫০টি কূপ খনন সম্পন্ন করা |

সরকারের এই উচ্চাভিলাষী আমদানি-বান্ধব মহাপরিকল্পনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম | তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, আমদানিকৃত এলএনজির ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা ভবিষ্যতে সাধারণ ভোক্তা ও শিল্পের জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমানোর বদলে তাকে চরম অনাকাঙ্ক্ষিত ও অস্থিতিশীল করে তুলবে | তাঁর মতে, ব্যয়বহুল বিদেশি জ্বালানির পেছনে অন্ধের মতো না ছুটে সরকারের উচিত ছিল নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা | বিশেষ করে ভোলা ও ছাতক ইস্টের মতো সম্ভাবনাময় ও প্রমাণিত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উত্তোলন না হওয়া বিপুল সম্পদকে দ্রুততম সময়ে জাতীয় গ্রিডে নিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই | বৈশ্বিক এলএনজি বাজার সবসময়ই অস্থির ও স্বার্থান্বেষী এবং সেখানে চড়া মূল্যে ক্রয়াদেশ জারি করে দেশকে দীর্ঘমেয়াদে চরম ঋণগ্রস্ত করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের শামিল |

সর্বশেষ গত জুন মাসের গ্যাস উৎপাদন চিত্রও এই অসম ও বিপজ্জনক নির্ভরতার স্পষ্ট সাক্ষ্য দেয় | ওই একক মাসে অভ্যন্তরীণ মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪৯ বিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো ৪২টি কূপ থেকে উৎপাদন করেছে মোট ২৮ বিলিয়ন ঘনফুট বা অর্ধেকেরও বেশি এবং দেশীয় রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলো ৭০টি কূপ থেকে জোগান দিয়েছে মাত্র ২১ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস | অথচ একই সময়ে ঘাটতি পূরণের জন্য বিদেশ থেকে আরও ২৯ বিলিয়ন ঘনফুট সমমূল্যের এলএনজি আমদানি করতে হয়েছে | বর্তমানে দেশে চালু থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক পুনঃগ্যাসীকরণ সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা দেশের দৈনন্দিন গ্যাস ব্যবহারের এক-তৃতীয়াংশের জোগান দিয়ে চলেছে | কিন্তু বিশ্ববাজারে সামান্য টানাপোড়েন তৈরি হলেই যেভাবে পুরো ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে, তাতে দীর্ঘমেয়াদে এই মডেল টেকসই হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও সংশয় তৈরি হয়েছে |

জাতীয় সক্ষমতা বিকাশের দীর্ঘস্থায়ী ব্যর্থতা নিয়ে বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বিকল্প বহু আধুনিক ও প্রযুক্তিগত উপায় থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রায়ত্ত পুরোনো ও আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ব্যর্থতার কারণে গত এক দশকে অভ্যন্তরীণ গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে দেশ | যার খেসারত আজ দিতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিক ও পুরো শিল্প খাতকে | এখনই যদি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক কূপ খনন, বিদ্যমান খনিগুলোর আধুনিক সংস্কার এবং অনাবিষ্কৃত এলাকায় সফল অনুসন্ধান চালানো না হয়, তবে বাংলাদেশ খুব দ্রুত সম্পূর্ণ বিদেশি এলএনজির ওপর শতভাগ মুখাপেক্ষী এক ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত হবে | আর আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার যুগে আমদানির ওপর শতভাগ নির্ভর করা মানেই জাতীয় সার্বভৌমত্ব, শিল্পের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক ভিত্তিকে এক মহাবিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া | তাই সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই নীতিনির্ধারকদের নিজস্ব ভূগর্ভস্থ গ্যাস আহরণকেই সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে |

তথ্যসূত্র: নিউএজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category