• বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
Headline
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত মাঠ তৈরির উদ্যোগ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বাঁধনের ওপর আ.লীগ নেতাকর্মীদের হামলা ঘৃণ্য অপরাধ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ: সারজিস আলম সালমান শাহ হত্যা: জিজ্ঞাসাবাদ কৌশলে জবাব দিচ্ছেন আসামি ডন, কারাগারে প্রেরণ বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া স্লিপার বাস চলবে না: হাইকোর্ট দুদক স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান করলে সহযোগিতা করব: আসিফ মাহমুদ অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে কমিশন বদ্ধপরিকর: সিইসি তারেক রহমান বাংলাদেশে তৃণমূলের রাজনীতির সূচনা করেছেন: মঈন খান মাঠ প্রশাসনকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করতে সংস্কার আনছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের ৫ বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপের কড়াকড়িতে রুট বদল: আফ্রিকায় আশ্রয় চেয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি

Reporter Name / ৪ Time View
Update : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

উন্নত জীবনের প্রত্যাশা, জীবিকার তাগিদ কিংবা রাজনৈতিক সুরক্ষার সন্ধানে বাংলাদেশিদের অনিয়মিত অভিবাসনের মানচিত্র দিন দিন বদলাচ্ছে| ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার পশ্চিমা দেশগুলোকে কেন্দ্র করে আশ্রয় আবেদনের দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও সেই চেনা পথ এখন আর একমাত্র ভরসা নয়| আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও ভূরাজনীতির নতুন গতিপ্রকৃতি নির্দেশ করে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে (২০২১-২৫) আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় বা শরণার্থী মর্যাদার জন্য আবেদন করেছেন ৬০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক| যাদের সিংহভাগই আশ্রয় চেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়| বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নশীল ও সংঘাতপ্রবণ হিসেবে পরিচিত আফ্রিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের এই নতুন প্রবণতা প্রমাণ করে যে, উন্নত বিশ্বে প্রবেশাধিকারের তীব্র সংকট এবং দেশীয় আর্থসামাজিক বাস্তবতায় অনিয়মিত অভিবাসনের গন্তব্য ও কৌশল আমূল রূপ নিচ্ছে|
ইউএনএইচসিআরের তথ্য বিশদ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আলোচ্য পাঁচ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে মোট ৬০ হাজার ৫৪৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয় বা রিফিউজি মর্যাদার আবেদন করেছেন| এর মধ্যে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে মাত্র ৮৫০ জনকে আনুষ্ঠানিক শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি বা নথিভুক্ত করা হয়েছে| বাকি প্রায় ৫৯ হাজার ৭০০ জন এখনও অনিষ্পন্ন বা অপেক্ষমাণ আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন, যাদের আবেদন স্থানীয় আদালতে বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ঝুলে রয়েছে| আফ্রিকার প্রধান তিনটি ভৌগোলিক উপ-অঞ্চল—পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা এবং উত্তর আফ্রিকায় এই আবেদনগুলো হলেও আশ্রয়প্রার্থীদের প্রায় পুরো অংশই কেন্দ্রীভূত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে|
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে এককভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ৫৬১ জন| পরবর্তীতে এই সংখ্যা ধাপে ধাপে কিছুটা কমে ২০২২ সালে ৯ হাজার ৭১৯, ২০২৩ সালে ৯ হাজার ২৩৯, ২০২৪ সালে ৯ হাজার ৩৯৬ এবং ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৫৪০ জনে দাঁড়ায়| একই সময়ে দেশটিতে রিফিউজি হিসেবে সুরক্ষা পাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা যথাক্রমে ২০০, ১৫৩, ১৬৯, ১৭৫ ও ১২৩ জন| দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও একই অঞ্চলে যুদ্ধবিধ্বস্ত সোমালিয়ায় গত পাঁচ বছরে প্রতি বছরই ছয়জন করে বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে নথিভুক্ত ছিলেন এবং নামিবিয়ায় ২০২৩ সালে পাঁচজন আশ্রয় চেয়েছেন| অন্যদিকে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার মালিতে ৬৪ জন এবং ক্যামেরুনে পাঁচজন বাংলাদেশি আবেদন করলেও সেখানে কাউকে শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হয়নি|
জনশক্তি রফতানিকারকদের জাতীয় সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এই বিপুল পরিসংখ্যানকে বিস্ময়কর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন| তাঁর মতে, বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের দুর্বল অবস্থান এবং পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর ভিসা নীতির কারণে সাধারণ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা সরাসরি ইউরোপ বা আমেরিকায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন না| ফলে তুলনামূলক কম খরচে এবং সহজ বিকল্প হিসেবে অনেকে আফ্রিকার দেশগুলোকে বেছে নিচ্ছেন| সেখানে দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান করে স্থানীয়ভাবে স্থায়ী হওয়া অথবা পরবর্তীতে সেখান থেকে তৃতীয় কোনো উন্নত দেশে পাড়ি জমানোর একটি সুবিধাজনক সেতুবন্ধ হিসেবে এই দেশগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে|
উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে আশ্রয় প্রার্থনার গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে মূলত ইউরোপে প্রবেশের এক বিপজ্জনক ‘ট্রানজিট রুট’ বা মধ্যবর্তী করিডোরের কৌশল স্পষ্ট হয়ে ওঠে| ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে ঢোকার মূল ট্রানজিট হিসেবে পরিচিত উত্তর আফ্রিকায় পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে মরক্কোয়, যার সংখ্যা ১৩১| এর বাইরে মিসরে প্রতি বছর গড়ে পাঁচজন করে, তিউনিসিয়ায় মোট ১১ জন এবং আলজেরিয়ায় পাঁচজন বাংলাদেশির আশ্রয়ের আবেদন রেকর্ড করা হয়েছে| তবে উত্তর আফ্রিকার কোনো দেশেই বাংলাদেশিদের কাউকে শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হয়নি, যা ইঙ্গিত করে যে সেখানে অবস্থান করা বেশিরভাগ নাগরিকের চূড়ান্ত লক্ষ্য মূলত সাগর পাড়ি দেওয়া|
অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর এই বহুমাত্রিক অভিবাসনের পেছনের ভূকৌশলগত দিকগুলো তুলে ধরেছেন| তাঁর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইউরোপের একের পর এক দেশ যখন আশ্রয় নীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা কঠোর করছে, তখন বাংলাদেশিরা এমন সব দেশকে বেছে নিচ্ছেন যেখানে কিছুটা সহজে রেসিডেন্সি কার্ড বা বৈধ মর্যাদা মেলে| বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় বহু বছর ধরে বাংলাদেশিদের একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ও চেইন মাইগ্রেশন গড়ে উঠেছে| সেখানকার সফল প্রবাসীরা দেশ থেকে আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতদের নিয়ে গিয়ে ব্যবসায় যুক্ত করছেন| এছাড়া সেখানে বৈধ রেসিডেন্সি বা পাসপোর্ট অর্জন করতে পারলে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও উন্নত দেশে অভিবাসনের পথ অনেক বেশি সুগম হয়| অন্যদিকে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে ইউরোপের প্রবেশদ্বার হিসেবে| সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল আর উন্নত ভবিষ্যতের হাতছানিই হাজার হাজার বাংলাদেশিকে আফ্রিকার রুটে আশ্রয়ের সন্ধানে ঠেলে দিচ্ছে|

তথ্যসূত্র: বণিকবার্তা

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category