• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৬ অপরাহ্ন
Headline
লটারির নামে লুকোচুরি ও কোটি টাকার বাণিজ্য: গণপূর্তে ফ্যাসিস্ট দোসরদের থাবা মানবপাচারের মহোৎসব ও আমাদের দায় মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপি এলিজার মনোনয়নপত্র জমা সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী খান পুনর্বহাল সিঙ্গাপুরে তেলের মজুত গড়বে সৌদি আরামকো ক্রসফায়ারের বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইজিপির জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি টিআইবির চলতি বছরই ১ লাখ আনসার সদস্যকে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা: আনসার ডিজি দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসার রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত গেলেন এনএসআই মহাপরিচালক দেশের মানুষ আপনার অপেক্ষায় আছে: হাসিনাকে দুলু

ইপিআই কর্মসূচি সচল রাখতে ইউনিসেফ থেকে সরাসরি ক্রয়

Reporter Name / ৯৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব ও টিকাজনিত তীব্র সংকটের বাস্তব প্রেক্ষাপটে দেশের শিশু ও নারীদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এক বড় ধরণের ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রুটিন ভ্যাকসিন সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরাসরি আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের (UNICEF) মাধ্যমে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মেগা ক্রয়ে সরকারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫৫ টাকা। জনস্বার্থে অত্যন্ত জরুরি এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের কোটি কোটি শিশুর জীবন রক্ষাকারী ইপিআই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন ২০২৬ মেয়াদের জন্য এই প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) কঠোর মানদণ্ড রক্ষা এবং বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আলোকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬-এর ৬৮ ধারা অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (DPM) অনুসরণ করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্রয় পরিকল্পনার বিস্তারিত ও অর্থায়ন

চলতি অর্থবছরে এই জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির গতি বাড়াতে এবং সম্ভাব্য মহামারী রুখতে ‘প্রতিষেধক কোড ৩২৫২১১১’-এর আওতায় সরকারের বাজেট থেকে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দের আলোকে মূল আর্থিক ও প্রশাসনিক রূপরেখাটি নিম্নরূপ:

  • অনুমোদিত বার্ষিক পরিকল্পনা: শুরুতে ৮৪২ কোটি ৯৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকার ভ্যাকসিন ক্রয়ের একটি বার্ষিক পরিকল্পনা (এপিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

  • ৫০ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ: অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে টিকার ঘাটতি দ্রুত মেটাতে মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি কেনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৪১৯ কোটি ৯৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৪২ টাকা অগ্রিম হিসেবে পাঠানো হয়েছে।

  • অবশিষ্ট অংশের চূড়ান্ত মূল্যায়ন: সংশোধিত বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (আরএপিপি) অনুযায়ী বাকি ৫০ শতাংশ ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য দরপত্র ও প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) ইউনিসেফের দেওয়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করেছে। যার বর্তমান মূল্য ৪১২ কোটি ৭১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে কম খরচে আসছে টিকা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কারিগরি ও মূল্যায়ন কমিটির চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে দেখা গেছে, ইউনিসেফের দেওয়া এই প্রস্তাবিত মূল্যটি সরকারের দাপ্তরিক প্রাক্কলিত বা আনুমানিক মূল্যের তুলনায় প্রায় ৭ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা কম। ফলে রাষ্ট্র বড় ধরণের আর্থিক সাশ্রয়ের মুখ দেখছে।

ঘোষিত এই চূড়ান্ত মূল্যের ভেতরেই ৪ শতাংশ হ্যান্ডলিং ফি, পরিবহন ও বীমা বাবদ সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ ফি এবং জরুরি আপদকালীন সুরক্ষার জন্য ৬ শতাংশ স্ট্যান্ডার্ড কনটিনজেন্সি বাফার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন কমিটির সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এই প্রস্তাবটি এখন মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিদ্যমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী, জনস্বার্থে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরাসরি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ওষুধ বা টিকা কিনতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই চুক্তিটি দ্রুত অনুমোদিত হয়ে টিকার চালান দেশে পৌঁছালে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া টিকার কৃত্রিম সংকট সম্পূর্ণ কেটে যাবে এবং দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের একটি শিশুও আর প্রতিষেধকের অভাবজনিত ঝুঁকিতে থাকবে না।

তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ২৪


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category