মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে চলা ভয়াবহ যুদ্ধ আর সংঘাতের কালো মেঘ এবার কাটতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক যখন ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন যে, ইরানে চলমান এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ কি চলতি সপ্তাহ বা মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে শেষ হওয়া সম্ভব কি না, তখন ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে সম্মতি জানান। তিনি বলেন, “আমি মনে করি তা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখুন, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দসহ বলতে গেলে সব কাঠামোই এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।”
ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, ইরানের শাসনব্যবস্থার প্রথম ও দ্বিতীয় সারির প্রায় সকল শীর্ষ নেতা এরই মধ্যে নিহত হয়েছেন। ফলে দেশটি এখন নেতৃত্বশূন্য এবং যুদ্ধের সক্ষমতা হারিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ বাহিনীর মধ্যে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা গত ১০ দিনে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং শীর্ষ কমান্ডোদের ওপর অতর্কিত হামলার পর ইরানও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের আজকের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা এখন তলানিতে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগেই আজ জানা গেছে যে, চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্সের মতো শক্তিধর দেশগুলো একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে। ইরান শর্ত দিলেও ট্রাম্পের ভাষায় ‘নেতৃত্বশূন্য’ ইরান এখন কতটুকু দরকষাকষি করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
ফ্লোরিডার এই সংবাদ সম্মেলন থেকে ট্রাম্পের এমন বার্তা বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই দাবি অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সত্যিই শান্তির সাদা পতাকা ওড়ে কি না।