• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন
Headline
মানবপাচারের মহোৎসব ও আমাদের দায় মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপি এলিজার মনোনয়নপত্র জমা সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী খান পুনর্বহাল সিঙ্গাপুরে তেলের মজুত গড়বে সৌদি আরামকো ক্রসফায়ারের বক্তব্য প্রত্যাহার করে আইজিপির জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি টিআইবির চলতি বছরই ১ লাখ আনসার সদস্যকে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা: আনসার ডিজি দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসার রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত গেলেন এনএসআই মহাপরিচালক দেশের মানুষ আপনার অপেক্ষায় আছে: হাসিনাকে দুলু রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ দিয়েছে সরকার

এক দলকে সরিয়ে আরেক দলকে বসাতে জুলাই আন্দোলন হয়নি: জামায়াত আমির

Reporter Name / ৮৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের উদ্দেশ্য কোনো একটি দলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেকটি দলকে ক্ষমতায় বসানো ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা, নিহত ব্যক্তিদের স্বজন এবং দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য পূরণ না হয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আন্দোলনের সময় জামায়াতে ইসলামী কোনো আপস করেনি। রাতে স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে দিনে আন্দোলনের নামে রাজপথে নামার রাজনীতি জামায়াত করেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের দাবিতে অনড় অবস্থান থেকে সরে আসতে দলটিকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও লোভ দেখানো হয়েছিল, কিন্তু তারা সে পথে যায়নি। এ সময় জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার সুযোগ জামায়াতের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই দলটি নৈতিকভাবে সমর্থন দিয়েছিল। যখন অন্য কয়েকটি রাজনৈতিক দল আন্দোলনকে কেবল শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করছিল, তখন জামায়াত দেশবাসী ও নিজেদের নেতাকর্মীদের আন্দোলনরত তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পরও জামায়াত কখনো এর কৃতিত্ব দাবি করেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আন্দোলনের পর দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচন দাবি না তুলে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তাদের সান্ত্বনা দেয়া, হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নেয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করার চেষ্টা করেছে জামায়াত। আহত কয়েকজনের সঙ্গে নিজের কথোপকথনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের অনেকেই ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়ে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, ব্যাংক, বীমা, করপোরেশনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক দলীয়করণ চলছে। যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের সরিয়ে বাছাই করে অসৎ ও দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে। এতে দুর্নীতির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এখন যদি সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত না হয়, তবে শহীদ পরিবারগুলোর কাছে জবাব দেয়ার মতো পরিস্থিতি থাকবে না। তিনি একটি শহীদ পরিবারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেই পরিবারের সদস্যরা আর্থিক সহায়তার পরিবর্তে অন্য অসচ্ছল শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছিলেন। এ ধরনের মানসিকতাকে তিনি দেশের জন্য অনুকরণীয় বলে মন্তব্য করেন।

বিচারের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, কারো বাবার বিচার নিজের বিচার মায়ের বিচার বোনের বিচার ভাইয়ের বিচার হবে আর এই দেশের নিরীহ জনগণ শহীদ হয়েছে তাদের হত্যাকারীদের বিচার হবে না তা হবে না, সেই বিচারও ইনশাল্লাহ এই বাংলার মাটিতে হবে। বিচার পেতে সময় লাগলেও তা আদায় করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিশোধ নয়, তারা বিচার চান।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভুল-ত্রুটি মানুষ ও সরকারের হতে পারে। তবে জনগণের সঙ্গে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। তিনি সরকারের প্রতি দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং রাজনৈতিক কৌশল পরিহার করে সরল পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হলেও জামায়াত কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা অব্যাহত থাকবে এবং সংসদে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলবে তার দল। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রশ্নে তারা আপস করবেন না।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহতদের জন্য দোয়া করেন এবং আহত ব্যক্তিদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category