• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন

এবার ইরাকে একযোগে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরব, নিহত অন্তত ৮

Reporter Name / ০ Time View
Update : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

ইরাকে একযোগে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চালানো যৌথ এই হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন ও রিয়াদ।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় নিনেভেহ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় নিহত আটজন দেশটির পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) সদস্য। নিনেভেহে পিএমএফের কমান্ড জানিয়েছে, হামলায় আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নির্দেশে মার্কিন বাহিনী ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, গত ৭২ ঘণ্টায় আইআরজিসির নির্দেশে চালানো ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান ইরাকের পূর্বাঞ্চলে একাধিক অস্ত্র ও রসদসংরক্ষণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তাদের দাবি, আইআরজিসির এসব হামলা ছিল অযৌক্তিক এবং ব্যর্থ।

সেন্টকম আরও জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন নাগরিক ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ৬০০টির বেশি হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, আইআরজিসি এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে এসব হামলা বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে আরও জবাব দেবে।

ইরাকে হামলার তথ্য নিশ্চিত করে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, সোমবার ও মঙ্গলবার সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল এবং রিয়াদ অঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছিল। তার দাবি, এসব ড্রোন ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা ছুড়েছিল।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে এসব যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তবে ভবিষ্যতে যেকোনও হামলার জবাব দেয়া হবে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, ইরাকে চালানো যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির যৌথ হামলা আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের অংশ। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের চালানো ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের তেল স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তারা আরও বলেছে, সৌদি আরব উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে তারা পিছপা হবে না।

এদিকে মার্কিন ও সৌদির যৌথ এই হামলার পর নিনেভেহ এবং দক্ষিণাঞ্চলের বসরা প্রদেশে আগুন জ্বলতে এবং ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে আল জাজিরা যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে। ভিডিওতে বসরার হামলাস্থলে দমকলকর্মীদেরও কাজ করতে দেখা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category