• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন
Headline
প্রশাসনে রদবদল: (৪ অক্টোবর-২২ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত ) ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে মানুষ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়ার কাছে খাদ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব সরকারের প্রস্তুতি আছে বলেই আইজিপি ক্রসফায়ারের কথা বলেছেন: আখতার ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ পাঁচজনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ সাগর-রুনি হত্যা মামলায় জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে ৩১ অক্টোবর

ঐতিহাসিক বাজেটে কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার মহাসড়কে তারেক রহমানের সরকার

Reporter Name / ১০৬ Time View
Update : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশ এক নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী হলো। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়েছে দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট। অতীতে দেশের অর্থনীতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে সরাসরি তিনটি বাজেট দিয়েছিলেন, যার আকার ছিল ৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে। পরবর্তীতে তাঁর সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুই মেয়াদে বাংলাদেশ মোট ১০টি বাজেট পেয়েছিল, যার শেষটি ছিল প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার। সেই ধারাবাহিকতা ও উত্তরাধিকার সূত্র ধরে এবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বাজেট দিলেন তাঁরই সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান। মা-বাবাকে তো বটেই, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই বাজেট উপহার দিল। সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাজেটের মূল নজর রাখা হয়েছে দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের ওপর। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পেশ করা এই বাজেটকে উন্নত দেশগুলোর মতো একটি প্রকৃত ‘কল্যাণ রাষ্ট্র’ (Welfare State) গড়ার মহাসড়ক হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যেখানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়ন।

সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দের জোয়ার ও আধুনিক প্রযুক্তি

এবারের বাজেটে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের এক বিশাল জোয়ার আনা হয়েছে। গত বছরের ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি পেরিয়ে এবার এই খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে শুধু টাকাই বাড়ানো হয়নি, বরং সরকারি এই অর্থ যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা ভুয়া মানুষ গরীবের হক কেড়ে নিতে না পারে এবং প্রকৃত মানুষের হাতে পৌঁছায়, সেজন্য চালু হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’। এই অনলাইন তথ্যভাণ্ডারের সুবিধা পেতে হলে সব উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কিংবা জন্ম নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নারীপ্রধান পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো চালু করছেন ঐতিহাসিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এর মাধ্যমে দেশের ৪১ লাখ নারীপ্রধান পরিবার প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা আগামী ৫ বছরে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারে সম্প্রসারিত হবে।

নতুন উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও ভাতার তালিকা

বাজেটে সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য একগুচ্ছ নজিরবিহীন ও মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে:

  • কৃষক কার্ড: ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে বছরে আড়াই হাজার টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

  • জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের সম্মান: জুলাই অভ্যুত্থানের সব শহীদ পরিবার এবং আহতদের জন্য চালু হচ্ছে বিশেষ মাসিক ভাতার ব্যবস্থা।

  • ধর্মীয় সেবকদের সম্মাননা: দেশের আড়াই লাখের বেশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও খাদেমদের জন্য মাসিক সম্মানীর পাশাপাশি দুই ঈদ ও পূজায় বিশেষ উৎসব ভাতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

  • শ্রমিকদের পাশে রাষ্ট্র: কর্মহীন হয়ে পড়া ১৫ হাজার সাধারণ শ্রমিক সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতা পাবেন।

  • পুরনো ভাতার পরিধি বৃদ্ধি: সামাজিক নিরাপত্তার পুরনো ভাতার মধ্যে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার পাশাপাশি তাদের মেধাবৃত্তিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

  • দুরারোগ্য ব্যাধিতে বিশাল অনুদান: সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো—ক্যান্সার, কিডনি কিংবা লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ৫০০ টাকা থেকে একলাফে ২০০ গুণ বাড়িয়ে সরাসরি ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম পে স্কেলের মহাপরিকল্পনা

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জন্য এক অবিশ্বাস্য ও পরম আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে এই বাজেট। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে ‘নবম পে স্কেল’ বাস্তবায়নের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এই পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাজেটে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা আলাদাভাবে বরাদ্দ রাখার বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। সব মিলিয়ে গ্রেড বা শ্রেণীভেদে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে।

ফ্রিল্যান্সার ও তরুণ স্টার্টআপদের জন্য বৈপ্লবিক উপহার

তরুণ প্রজন্ম, যারা ল্যাপটপের সামনে বসে রাত জেগে ফ্রিল্যান্সিং করেন কিংবা নতুন কোনো স্টার্টআপ খোলার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য অর্থমন্ত্রী এক অভাবনীয় উপহারের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অর্থায়নের জন্য সরকার গঠন করছে ৪০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল।

সবচেয়ে বড় বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত হলো—ইউটিউব, ফেসবুক বা টিকটকের মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম থেকে ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কষ্টার্জিত রেমিটেন্স বা আয়কে সম্পূর্ণ করমুক্ত (Tax-Free) করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন স্টার্টআপগুলোর বিকাশের জন্য স্থানীয় ভ্যাট বা মূসক অব্যাহতি এবং টার্নওভার কর শূন্য শতাংশ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর ফলে দেশের লাখো তরুণ ঘরে বসেই সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী হওয়ার বড় ধরনের সাহস ও আইনি সুরক্ষা পাবেন।

বিশ্বমঞ্চে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ ও দেশীয় সংস্কৃতির ব্র্যান্ডিং

তৈরি পোশাক শিল্প কিংবা প্রবাসীদের রেমিটেন্সের পাশাপাশি বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য, মাটি আর সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এক অনন্য রূপরেখা দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে। এবারই প্রথম সরকারিভাবে যুক্ত হচ্ছে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতি। এই নতুন খাতের জন্য আলাদাভাবে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—আমাদের গ্রামীণ অঞ্চলের কামার, কুমার, তাঁতি, কারুশিল্পী থেকে শুরু করে শহরের নাট্যকর্মী, সংগীতশিল্পী ও চিত্রশিল্পীদের এক সুতোয় গেঁথে ডিজিটাল অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসা। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সহায়তায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী জামদানি, নকশিকাঁথা, মৃৎশিল্প কিংবা বাঁশ-বেতের তৈরি পণ্য সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে বিশ্ববাজারে। এর জন্য দেশের প্রতিটি জেলা পর্যায়ে গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ ও ‘ইনোভেশন জোন’ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে সৃজনশীলতার ওপর বিশেষ পেশাদার প্রশিক্ষণ।

পরিশেষে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট কেবল কোনো গাণিতিক সংখ্যার খতিয়ান নয়, এটি দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনকে ইতিবাচকভাবে স্পর্শ করার এক সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনা। একদিকে যেমন গ্রামীণ প্রান্তিক মানুষের মুখে অন্ন আর রাষ্ট্রীয় সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে, অন্যদিকে মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীদের দেওয়া হয়েছে বড় স্বস্তি। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে আধুনিক, বৈশ্বিক ও সৃজনশীল প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার এক সুষম স্বপ্ন ধারণ করেছে এই বাজেট।

তথ্যসূত্র: দ্যা ওয়েভ ২৪


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category