• শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন
Headline
শিক্ষার আড়ালে রমরমা বাণিজ্য: মেডিকেলে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে বেপরোয়া আন্তর্জাতিক চক্র হাইপারভিজিল্যান্স: আপনার কি এরকম কখনো হয়েছে? তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক জাতীয় সংসদে ১০ স্থায়ী কমিটি গঠন, দায়িত্ব পেলেন যারা আকস্মিক বন্যায় নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আশুগঞ্জে শহীদ জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত সেই গাড়িটি এখনো সচল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে ২৫ সদস্যের এনসিসিএফ গঠন ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি : আইরিন খান যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে নিহত ১৮ ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা পুতিনের

কতটুকু মাংস খাওয়া নিরাপদ?

Reporter Name / ৮৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

কোরবানির ঈদ মানেই প্রতিটি ঘরে ঘরে মাংসের নানা সুস্বাদু আয়োজনের ছড়াছড়ি। তবে উৎসবের এই তীব্র আনন্দের মাঝে অনেকেই মাংস খাওয়ার নির্দিষ্ট পরিমাণের বিষয়টি ভুলে যান বা অসচেতন থাকেন। যার ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাল মাংস খেয়ে অনেকেই পরবর্তীতে নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে লাল মাংস খেলে তা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও, অতিরিক্ত লাল মাংস গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও লাল মাংস খেলে মানুষের শরীরে ক্যান্সারের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে হলে মাংস খেতে হবে একটি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ মাত্রায়।

গরু, খাসি ও ভেড়ার মাংস বা লাল মাংস মূলত মানবদেহের জন্য প্রথম শ্রেণির প্রোটিনের অন্যতম বড় উৎস। প্রোটিন ছাড়াও এতে শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান ভরপুর মাত্রায় থাকে। লাল মাংসে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, যা রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এতে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি গরু ও খাসির মাংসে রয়েছে জিংক, ভিটামিন বি-১২, সেলেনিয়াম, ফসফরাস, নিয়াসিন, ভিটামিন বি-৬ এবং রিবোফ্লাভিন। এই উপাদানগুলোর মধ্যে জিংক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়, ফসফরাস দাঁত ও হাড়ের গঠন মজবুত করে এবং ভিটামিন বি-১২ শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি জোগাতে সহায়তা করে।

পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি নেহায়েত কম নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন গড়ে ৭৬ গ্রাম বা তার চেয়ে বেশি লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস খান, তাদের অন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছে যে, নিয়মিত ৯০ গ্রামের বেশি লাল বা প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি মারাত্নকভাবে বেড়ে যায়। পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক লাল মাংস খাওয়ার নিরাপদ মাত্রা হলো প্রায় ৮৫ গ্রাম বা ৩ আউন্স। পরিমাণটি সহজে বোঝার জন্য বলা যায়, এটি দেখতে প্রায় একটি কম্পিউটার মাউস বা এক প্যাকেট তাসের সমান। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় লাল মাংস রাখা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়; বরং সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন এই পরিমাণ লাল মাংস খাওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও যৌক্তিক।

মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে চর্বিহীন মাংস বেছে নেওয়ার ওপর বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশি জোর দেন। গরুর শরীরের ‘রাউন্ড’ ও ‘সিরলইন’ অংশে তুলনামূলক অনেক কম চর্বি থাকে। এসব অংশের মাংসে চর্বির পরিমাণ মাত্র ৪ দশমিক ২ থেকে ৮ দশমিক ২ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে, যা অনেক সময় মুরগির থাই অংশের মাংসের চেয়েও কম। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে রান্নার আগেই মাংসের গায়ে লেগে থাকা সব ধরনের দৃশ্যমান চর্বি পুরোপুরি বাদ দিয়ে নেওয়া উচিত। এছাড়া প্রতিদিন মাংস খাওয়ার পরিবর্তে প্রোটিনের বিকল্প উৎস হিসেবে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। খাদ্যতালিকায় মসুর ডাল, ছোলা, কিডনি বিন, মটরশুঁটি, বেকড বিনস ইত্যাদি রাখা যেতে পারে। সর্বোপরি প্রক্রিয়াজাত মাংস সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা এবং পরিমিত ও সচেতন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমেই উৎসবের আনন্দের মাঝেও শরীরকে সুস্থ ও নীরোগ রাখা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category