• বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন
Headline
‘প্রেশারকুকার বোমা’ নিষ্ক্রিয়ের সময় কেঁপে উঠলো এলাকা, পুলিশ বলছে শক্তিশালী বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায় থাইল্যান্ড চাকরি গেল বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার রাজনীতি নয়, মনেপ্রাণে ক্রীড়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কোকো : রিজভী ইংলিশ কাউন্টিতে ডাক পেলেন শরিফুল ১৬ বছরের সমস্যা ৫-৬ মাসে শতভাগ সমাধান সম্ভব নয় : মাহ্দী আমিন বাংলাদেশকে বৈশ্বিক হালাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রূপান্তরের যুগে তরুণরাই সভ্যতার মূল শক্তি: তথ্যমন্ত্রী নতুন কমিশনের পর চুপ্পুর দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা: দুদক সচিব পুলিশের ১৯ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার রদবদল

কর ছাড়ের পরও ঊর্ধ্বমুখী বাজার: আটা-তেলে অস্বস্তি

Reporter Name / ২ Time View
Update : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণে উৎসে কর ও অগ্রিম আয়করে দেওয়া বিশাল ছাড়ের সুফল খুব বেশি দিন ভোগ করতে পারলেন না সাধারণ ভোক্তারা। জুন মাসের শেষাংশ ও জুলাইজুড়ে পাইকারি বাজারে প্রধান প্রধান খাদ্যপণ্যের দর কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও আগস্টের শুরু থেকেই দেশজুড়ে পুনরায় নিত্যপণ্যের বাজারে উর্ধ্বমুখী তাণ্ডব দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন সামরিক উত্তেজনার দরুন কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে গম সরবরাহে নতুন অনিশ্চয়তা, লোহিত সাগরে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে অসাধু আমদানিকারক ও পাইকাররা বাজার অস্থির করে তুলছেন। সরকারের শুল্ক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কেবল যুদ্ধের অজুহাতে আন্তর্জাতিক বাজার চড়তে না চড়তেই দেশীয় পাইকারি ও খুচরা বাজারে চাল, গম, আটা-ময়দা, ভোজ্যতেল, চিনি ও ডালের দাম এক লাফে বেশ কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের বাজেটে দেশের চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল ও চিনির মতো প্রায় ৬০টি অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যে অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে এক লাফে মাত্র দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায়ীদের আমদানিকৃত খরচ কমিয়ে সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিক স্বস্তি দেওয়া। তবে বাংলাদেশে শুল্ক কমার প্রভাব বাজারে আসতে দীর্ঘ সময় লাগলেও, বৈশ্বিক অস্থিরতার অছিলায় দাম বাড়াতে ব্যবসায়ীরা বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করছেন না। দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে পাম অয়েল, সয়াবিন, গম, চিনি, মসুর ডাল ও মশলার বাজার অস্বাভাবিক চড়া হয়ে উঠেছে। মণপ্রতি পাম অয়েলে ১০০ থেকে ২০০ টাকা এবং সয়াবিন তেলে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে লেনদেন হচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে দর বৃদ্ধির ভয়ে সরকারি ঘোষণার তোয়াক্কা না করেই নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খুচরা পর্যায়ে খোলা ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি বাড়িয়ে দিয়েছেন পাইকাররা।
খাদ্য নিরাপত্তা ও নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় গমের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও এই পণ্যটিই এখন নতুন করে চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন যৌথভাবে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ গমের যোগান নিশ্চিত করে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যকার সামরিক সঙ্ঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করায় কৃষ্ণসাগর দিয়ে গম ও শস্য পরিবহন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) গমের ভবিষ্যৎ দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছুঁয়েছে। এই বিশ্ববাজার চড়ার খবর দেশে পৌঁছানোর সাথে সাথেই খাতুনগঞ্জে মণপ্রতি গমের দাম এক লাফে প্রায় ১৫০ টাকা বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়েছে আটা ও ময়দার মিলগুলোতে। ফ্লাওয়ার মিল মালিকরা উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কথা বলে আটা ও ময়দার কেজিপ্রতি দাম ৪ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন, যার সরাসরি খেসারত দিতে হচ্ছে প্রান্তিক মেহনতি মানুষকে।
বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বাড়লেও সেই গম বাংলাদেশে জাহাজে আমদানি হয়ে পৌঁছাতে অন্তত কয়েক মাস সময় লাগে। অথচ আগের কম দামে কেনা মজুদ গম দিয়েই দেশের বাজারে আটা-ময়দার দাম রাতারাতি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের নিছক অতিরিক্ত মুনাফাভোগী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে দেশে খোলা আটার দাম প্রায় ১১.৭৬ শতাংশ এবং প্যাকেটজাত আটার দাম ১৯.০৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবি বাজারে মূল্যের এই আকস্মিক ওঠানামা মনিটর করলেও বাস্তবে বাজারে কঠোর আইনি প্রয়োগের অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবাধে তাদের ধার্য করা দামেই পণ্য বিক্রি করে যাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন যে, ভূ-রাজনৈতিক জটিলতায় ফ্রেইট চার্জ এবং শিপিং ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে কেবল গম নয়, অন্যান্য ভুট্টা, ডাল ও তেলজাতীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কিন্তু সাধারণ ভোক্তাদের মতে, বাজেটের কর ছাড়ের সময় যে সুবিধা ব্যবসায়ীরা এককভাবে উপভোগ করেছেন, সেই সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি। বর্ষা মৌসুমে সবজি ও প্রোটিনজাতীয় খাবারের দাম এমনিতেই সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায়, ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ডাল ও রুটিই ছিল শেষ ভরসা। এখন সেই মূল খাদ্যশস্যের বাজারেও কৃত্রিম সংকট ও বিশ্ববাজারের অজুহাতে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাপন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে।
তথ্যসূত্র: বণিকবার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category