ভোরের আলো ফোটার পরপরই জীবিকার তাগিদে কাজে বেরিয়েছিলেন তারা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যমদূত হয়ে আসা এক ঘাতক ট্রাক কেড়ে নিল ৮ জন নির্মাণ শ্রমিকের প্রাণ। রোববার (৩ মে) সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমায় ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনায় আরও অন্তত ৭ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সোয়া ৬টার দিকে সিলেট নগরী থেকে একটি ‘ডিআই পিকআপে’ করে ১৫-১৬ জন নির্মাণ শ্রমিক দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পিকআপটি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তেতলী বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক (চট্টগ্রাম) থেকে আসা একটি কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে, শ্রমিকবাহী পিকআপটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সেখানে আরও ৪ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহতদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ৮ শ্রমিকের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে:
১. সুরুজ আলী (৬০): সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রাম।
২. মোছা. মুন্নি (৩৫): আব্দুল বাসিরের মেয়ে, দিরাই উপজেলার শেষস্তি গ্রাম।
৩. মো. বদরুল (৩০): সুজাত আলীর ছেলে, জালালাবাদ থানার লারারগাঁও।
৪. মো. ফরিদুল (৩৫): মৃত নূর সালামের ছেলে, দিরাই উপজেলার নুরনগর।
বাকি ৪ জনের নাম-পরিচয় এখনো শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক
দুর্ঘটনায় আহত ৭ জনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— আলমগীর (৩২), তোরাব উল্লাহ (৬০), রামিন (৪০), আফরোজ মিয়া (৪০), রাভু আক্তার (২৫), হাফিজা বেগম (৩০) এবং রাজা মিয়া (৪৫)। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও পলাতক চালক
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াজুল কবির জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাক ও পিকআপের চালকরা পালিয়ে গেছে। ঘাতক ট্রাক ও বিধ্বস্ত পিকআপটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। চালকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।