• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
মধ্যবিত্তের যে ১০টি অভ্যাস আর্থিক বিড়ম্বনা ডেকে আনে রথযাত্রায় হিন্দুদের পাশে থাকার নির্দেশ রিজভীর শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক চেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই সরকারি হিসাবে ৭ লাখ দেখালেও গাছ লাগানো হয়েছে ২ লাখ: প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে: আইনমন্ত্রী তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়ায় হচ্ছে ড্রোন কারখানা: মীর শাহে আলম বন্যায় ভেসে গেল খামারের ৯০০ সাপ, লোকালয়ে আতঙ্ক যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরান চীন ও রাশিয়ার রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠবে যে ৪ দল শীর্ষ ১০ শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করছে সরকার

খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন আইন

Reporter Name / ২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

খেলাপি ঋণের ভারে বিপর্যস্ত দেশের ব্যাংকিং খাতকে সচল করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। আদালতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, বন্ধকি সম্পদ বিক্রিতে জটিলতা এবং ঋণ আদায়ের চরম ধীরগতির কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকট থেকে স্থায়ীভাবে বেরিয়ে আসতে ‘ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই আইনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় একটি সম্পূর্ণ আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা হবে। আইনটির খসড়া ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সর্বসাধারণের মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে ঋণ আদায় করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। এই দীর্ঘ সময়ে ব্যাংকে বন্ধক রাখা সম্পদের মূল্যও অনেক কমে যায়, যার ফলে ব্যাংকগুলো শেষ পর্যন্ত তাদের পাওনা অর্থ উদ্ধার করতে পারে না। নতুন আইন কার্যকর হলে ব্যাংকের এই ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদগুলো দ্রুত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারের এক নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এতে ব্যাংকের ব্যালান্স শিট থেকে খেলাপি ঋণের চাপ কমবে এবং নতুন করে ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো একটি শক্তিশালী ‘অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ (এএমসি) গঠন করা। এই কোম্পানিটি ব্যাংকগুলোর টক্সিক বা খারাপ ঋণগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে কিনে নেবে এবং সেগুলো সচল সম্পদে রূপান্তর বা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেবে। ২০২৭ সালের মধ্যে এ ধরনের কোম্পানি কার্যকরভাবে কাজ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া এই অচল ঋণ পুনরুদ্ধার বা পুনর্গঠনের কাজে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা ইউক্রেন ও তুরস্কের মতো দেশে সফলভাবে কার্যকর হয়েছে।

সম্প্রতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মন্দ ঋণ নিষ্পত্তিতে এক্সিট পলিসির আওতায় বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অযথা মন্দ ঋণ ব্যালান্স শিটে রেখে দেওয়াকে একধরণের ভুল উপস্থাপন উল্লেখ করে তিনি ব্যাংকগুলোকে ‘রাইট-অফ’ বা ঋণ অবলোপনে উৎসাহিত করছেন। তবে গভর্নর স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাইট-অফ করা হলেও ঋণগ্রহীতারা কোনোভাবেই দায়মুক্তি পাবেন না; তাদের বিরুদ্ধে ঋণ আদায়ের আইনি প্রক্রিয়া আগের মতোই সমান্তরালে চলবে।

খসড়া আইন অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত ‘ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট’ (ডিএএমইউ) গঠন করা হবে। এই ইউনিটটি প্রশাসনিকভাবে আইন প্রয়োগে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতা ভোগ করবে। এই ইউনিটের প্রধানের পদমর্যাদা হবে একজন ডেপুটি গভর্নরের সমান। তবে এই পদে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যাংকিং বা সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অন্তত ১৫ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং বয়স ৬৫ বছরের বেশি হলে তিনি এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এই আইন পাস হলে দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও তারল্য সংকট কাটানোর ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category