• বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

খেলাপি ঋণ দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন পথনকশা

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

দেশের আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাধি হিসেবে পরিচিত পাহাড়সম খেলাপি ঋণ বা বিষাক্ত সম্পদের বোঝা থেকে ব্যাংকিং খাতকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করতে একটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও সময়োপযোগী পথনকশা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য প্রণীত নতুন মুদ্রানীতি উন্মোচন অনুষ্ঠানে এই যুগান্তকারী ১৮ মাস মেয়াদি রোডম্যাপের বিস্তারিত রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। এই নতুন নীতিমালায় মূলত ব্যাংকগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি, ঋণ আদায় প্রক্রিয়া দ্রুততর করা, আইনি কাঠামোর সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক হিসাবরক্ষণ মানদণ্ড বাস্তবায়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনাই এই সুবৃহৎ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

গভর্নর তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দেশের আর্থিক খাতের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় এবং ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ হলো লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকা এই খেলাপি ঋণ। বছরের পর বছর ধরে পুঞ্জীভূত হওয়া এই বিষাক্ত ঋণ ব্যাংকগুলোর মুনাফা করার সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে এটি ব্যাংকগুলোর মূলধন ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং তারল্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। যার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতির সফলতার ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ও হালনাগাদ তথ্য অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, দেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের হার বা গ্রস এনপিএল ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের ২০ দশমিক ২ শতাংশ থেকে লাফিয়ে বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে নানামুখী উদ্যোগের ফলে ২০২৬ সালের মার্চ মাস নাগাদ তা কিছুটা কমে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে আসে। নিট খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রেও প্রায় একই রকম উদ্বেগজনক চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। আলোচ্য সময়ে এই হার ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে একলাফে ২৬ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পর, পরবর্তীতে তা কমে ১৫ দশমিক ০১ শতাংশে স্থির হয়।

এই বিশাল খেলাপি ঋণের পাহাড় ধসিয়ে দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন কৌশলপত্রের অন্যতম প্রধান একটি হাতিয়ার হলো বর্তমানের প্রচলিত প্রভিশনিং বা সঞ্চিতি সংরক্ষণ ব্যবস্থার খোলনলচে পাল্টে ফেলা। এর পরিবর্তে ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস বা আইএফআরএস-৯ এর অধীনে এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস (ইসিএল) বা প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতির আধুনিক কাঠামো গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে এই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতিতে ব্যাংকগুলো সাধারণত ঋণ খেলাপি হওয়ার পর বা ক্ষতি দৃশ্যমান হওয়ার পর তা তাদের আর্থিক বিবরণীতে লিপিবদ্ধ করত। কিন্তু ইসিএল বা এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস হলো এমন একটি অত্যন্ত উন্নত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতির পরিমাণ আগেভাগেই গাণিতিক মডেলে অনুমান করতে সক্ষম হবে এবং সে অনুযায়ী আগাম সতর্কতা বা আর্থিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবে।

তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে এই পথনকশায় ঋণখেলাপিদের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন এক্সিট পলিসি বা প্রস্থান নীতি চালু করা হয়েছে। এত দিন ধরে দেশের ব্যাংকিং খাতে বুলেট পেমেন্ট বা সামান্য কিছু ডাউনপেমেন্ট দিয়ে বারবার ঋণ পুনঃতফসিল করার যে অসুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী চর্চা চলে আসছিল, তা চিরতরে বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ। নতুন এই নীতির আওতায় কোনো ঋণখেলাপি যদি এককালীন তার পুরো বকেয়া ঋণ পরিশোধ করে হিসাব সমন্বয় করতে চান, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ চাইলে তাকে বকেয়া সুদের সম্পূর্ণ অংশ মওকুফ করে দেওয়ার মতো যুগান্তকারী সুবিধা প্রদান করতে পারবে। গভর্নর ইউক্রেন এবং তুরস্কের মতো দেশের অর্থনৈতিক সংকটের উদাহরণ টেনে বলেন, সেসব দেশে এ ধরনের এককালীন প্রস্থান নীতি প্রয়োগ করে ব্যাংকের খারাপ ঋণ বা ব্যাড লোন উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, এই নীতি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যাংক খাতের বিষাক্ত সম্পদের পরিমাণ জাদুকরিভাবে কমে আসবে।

এই কাঠামোগত সংস্কারের পরবর্তী ধাপে সরকার আইনি দুর্বলতাগুলো দূর করতে বেশ কিছু নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো একটি নতুন ‘ঋণ আদালত আইন’ বা লোন কোর্ট অ্যাক্ট প্রণয়ন করা, যার মাধ্যমে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত যেকোনো মামলা সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি খেলাপিদের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও বিক্রয়ের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি বা এএমসি গঠনের লক্ষ্যে ‘দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন’ প্রণয়নের কাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে। গভর্নর স্পষ্ট করেছেন যে, আগামী দিনে ব্যাংকগুলোকে তাদের ব্যালেন্স শিট বা উদ্বৃত্তপত্র পরিষ্কার রাখার স্বার্থে নিজেদের কাঁধে বিষাক্ত সম্পদের বোঝা না রেখে তা এসব সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এই কঠোর আইনি পদক্ষেপের ফলে একই ঋণ বারবার পুনঃতফসিল করার যে অনৈতিক সংস্কৃতি চালু রয়েছে, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

সামগ্রিকভাবে বিচার করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নতুন রোডম্যাপটি সাময়িক কোনো ছাড় বা নিয়ন্ত্রকমূলক শিথিলতার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি স্থায়ীভাবে মন্দ ঋণ কমিয়ে আনার জন্য গভীর কাঠামোগত সংস্কারের ওপর আলোকপাত করেছে। এই সংস্কারের প্রথম স্তম্ভ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করবে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকের করপোরেট সুশাসনে মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে অথবা যাদের ঋণ নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা খাতের ওপর পুঞ্জীভূত, সেসব ব্যাংকের জন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ বা সম্পদ মান পর্যালোচনা পরিচালনা করা হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকগুলোকে তাদের ঋণ আদায়ের সুনির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মূলধন পুনরুদ্ধার এবং সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। যেসব ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া এই ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে লভ্যাংশ প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ কঠোর শাস্তিমূলক ও তদারকিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তৃতীয়ত, ঢালাওভাবে সবাইকে ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা দেওয়ার দিন শেষ। এখন থেকে কেবল আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম এবং টেকসই ব্যবসাগুলোকেই ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে। আর যারা বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত কঠোর আইনি ও নিয়ন্ত্রকমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চতুর্থত, বড় বড় খেলাপি ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অভ্যন্তরে বিশেষায়িত রিকভারি ইউনিট বা ঋণ আদায় সেল গঠনের নির্দেশ দিচ্ছে। ব্যাংকগুলোর নিজস্ব আইন বিভাগকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থ ঋণ আদালতের চলমান প্রক্রিয়াগুলোকে আরও গতিশীল করা এবং বন্ধকি সম্পত্তি বা জামানত দ্রুত বাজেয়াপ্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও দুর্বল ব্যাংকগুলোকে মূলধন পুনর্গঠন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রেখে কেবল সাময়িক তারল্য সহায়তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সুনির্দিষ্ট ‘ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ কাঠামো বা জরুরি তারল্য সহায়তা তহবিল গঠন করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশাল পথনকশাকে আইনি বৈধতা ও শক্তি প্রদান করছে সদ্য প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্ট ২০২৬’ এবং ‘আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬’। এই আইনগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর সংকট সমাধানে কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা এবং সাধারণ আমানতকারীদের কষ্টার্জিত অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক হিসাবরক্ষণ মানদণ্ড বা আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ডেটা পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং ক্রেডিট রিস্ক মডেলিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যাতে কোনো ঋণগ্রহীতার আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে তা খুব দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

২০২৬ অর্থবছরের জন্য গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোর কথা তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে, সম্পদের মান পরিষ্কার করতে ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে সীমিত আদায়যোগ্য মন্দ ঋণগুলো অবলোপন বা রাইট-অফ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গভর্নর ব্যাংকগুলোকে এই অবলোপন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, ঋণ অবলোপন মানেই কিন্তু গ্রহীতাকে ঋণের দায় থেকে মুক্তি দেওয়া নয়। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলমান থাকবে; অবলোপনের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যের একটি পরিষ্কার ও সঠিক চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরা। এছাড়া দুর্দশাগ্রস্ত কিন্তু সম্ভাবনাময় ঋণগ্রহীতাদের জন্য নীতিমালায় পরিবর্তন এনে তাদের শ্রেণিকৃত ঋণগুলোকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য পুনর্গঠন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা দুই বছর পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড বা কিস্তি পরিশোধের বিরতি পাবেন। এই বিশেষ সহায়তা ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রবাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কৃষি এবং কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের স্ট্যান্ডার্ড এবং স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টগুলোর জন্য সঞ্চিতি সংরক্ষণের হার আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শিথিল রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বৈদেশিক ঋণের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিগত অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদের হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যেখানে বিদেশি উৎস থেকে মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদেই ঋণ পাওয়া সম্ভব। তাই দেশীয় শিল্পের প্রসার ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ব্যবসায়ীদের বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করছে। ২০২২ সালে টাকার মান মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার পর বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে যে চরম সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা আর যৌক্তিক নয় বলে তিনি মনে করেন। খুব শিগগিরই একটি নতুন নির্দেশিকা জারির মাধ্যমে বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর তাদের মূল কোম্পানি থেকে ঋণ নেওয়াসহ সামগ্রিক বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া অনেক বেশি সহজীকরণ করা হবে।

মেঘনা গ্রুপের ৮০ মিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ প্রস্তাব বাতিল সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের বিদেশি ঋণ গ্রহণের সম্পূর্ণ কাঠামোটি পুনরায় পর্যালোচনা করছে এবং অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছে। অন্যদিকে সিটি গ্রুপের বিশাল ঋণ সংকট নিয়ে তিনি জানান যে, এই শিল্পগোষ্ঠীর আর্থিক দুর্দশার পেছনে কেবল বিনিময় হারের ওঠানামা দায়ী নয়; আরও কিছু কাঠামোগত কারণ রয়েছে। দেশের প্রায় ২৯টি ব্যাংকে এই গ্রুপের প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঋণ রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া কীভাবে আদায় করা যায় এবং প্রতিষ্ঠানটিকে কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, তার একটি কার্যকর রেজল্যুশন প্ল্যান তৈরির জন্য শীর্ষ তিনটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা আগামী তিন মাসের মধ্যেই বাস্তবায়নের মুখ দেখবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদী।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category