• শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন
Headline
এনসিপির পালে নতুন হাওয়া: নাগরিক পার্টিতে নাম লেখালেন ইসহাক, রনি ও কাফি বিচার বিভাগের সংস্কার ও রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে আইনমন্ত্রীর কড়া বার্তা শিক্ষিকাকে জুতাপেটা ও বিএনপি নেতার বহিষ্কার: ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্যের আসল ঘটনা কী? প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে কুষ্টিয়ায়: অনলাইনে পরিচয়, অতঃপর পরিণয় হামে ২৪ ঘণ্টায় ৭ শিশুর মৃত্যু, সন্দেহভাজন আক্রান্ত ১২১৫ তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণেই কৃত্রিম সংকট: মির্জা ফখরুল গণভোটের রায় ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে ১১ দলের প্যাকেজ কর্মসূচি জ্বালানি তেল আমদানির বাড়তি ব্যয় ভোক্তার ঘাড়ে পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী ‘যারা গুপ্ত বলে, ১৭ বছর তারাই বিদেশে লুকিয়ে ছিল’: গোলাম পরওয়ারের কড়া সমালোচনা টিকার খরা ও হামের কামড়: বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের অর্জন কি এখন হুমকির মুখে?

গণভোটের রায় ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে ১১ দলের প্যাকেজ কর্মসূচি

Reporter Name / ৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

গণভোটের রায় কার্যকর এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে জাতীয় সংসদের পাশাপাশি এবার রাজপথেও ধাপে ধাপে আন্দোলনে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। বর্তমান সরকারের (বিএনপি) বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে জোটটি দেশজুড়ে ধারাবাহিক ‘প্যাকেজ কর্মসূচি’ পালন করছে। দাবি আদায় না হলে অচিরেই হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচির দিকে যাওয়ার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

সংকটের কেন্দ্রবিন্দু ও সাংবিধানিক অচলাবস্থা

জোটের নেতাদের অভিযোগ, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়। এই ম্যান্ডেট অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অপরটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। কিন্তু বিএনপির সংসদ সদস্যরা দ্বিতীয় শপথটি গ্রহণ না করায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পুরো প্রক্রিয়াটি এখন থমকে আছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ জানান, “বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জনরায় অবজ্ঞা করে দেশে নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করছে।”

অন্যদিকে, বিএনপির দাবি—তারা সনদের অধিকাংশ বিষয়ই বাস্তবায়ন করছে, তবে কিছু বিশেষ ইস্যুতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের কারণে তাদের আরও সময় প্রয়োজন।

আন্দোলনের ‘প্যাকেজ কর্মসূচি’ ও রূপরেখা

সরকারকে চাপে রাখতে ১১ দলীয় ঐক্যজোট ধাপে ধাপে তাদের কর্মসূচির তীব্রতা বাড়াচ্ছে। ইতোমধ্যে ৯ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ, সেমিনার এবং গত ১৮ এপ্রিল ঢাকায় গণমিছিল সম্পন্ন করেছে তারা। তাদের বর্তমান ও আগামী দিনের কর্মসূচির ছক হলো:

  • আজ (শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল): রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বিশাল গণসমাবেশ।

  • আগামীকাল (শনিবার, ২৫ এপ্রিল): সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সকাল ১০টায় জামায়াতে ইসলামীর ‘জাতীয় সমাবেশ’। এতে জুলাই বিপ্লবের আট শতাধিক শহীদ পরিবার, আহত সদস্য ও হাজারো ‘জুলাই যোদ্ধা’ অংশ নেবেন। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

  • ২৫ এপ্রিল (দেশব্যাপী): ঢাকা ব্যতীত দেশের সকল বিভাগীয় ও মহানগরীতে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল।

  • ২ মে: দেশের সকল জেলা শহরগুলোতে গণমিছিল এবং সেমিনার।

শীর্ষ নেতাদের কড়া হুঁশিয়ারি

আন্দোলনের এই পর্যায়ে জোটের নেতারা সরকারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি কড়া বার্তাও দিচ্ছেন:

ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ: “আমরা চাই বিএনপি জনরায়কে সম্মান জানিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুক। সরকার যদি গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন না করে, তবে আমরা মহাসমাবেশসহ আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেব।”

মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ লেবার পার্টি): “বিএনপি ঐকমত্য কমিশনে সব বিষয়ে স্বাক্ষর করলেও এখন তা অবজ্ঞা করছে। দেশের নাজুক পরিস্থিতির কথা ভেবে আমরা এখনই হরতাল-অবরোধ দিচ্ছি না। তবে বিএনপি যদি পরিবর্তন না চায় এবং পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো আচরণ করে, তবে জনরোষের মুখে তারা শান্তিতে থাকতে পারবে.”

মাওলানা আব্দুল হালিম (সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী): “জনগণ এখন ক্ষুব্ধ। বিএনপি সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের চড়া মাসুল দিতে হবে। দাবি মানা না হলে অচিরেই ‘নরম’ কর্মসূচি থেকে ‘গরম’ কর্মসূচিতে যাবে ১১ দল।”

মাওলানা মামুনুল হক (আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস): “৩৬ জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পর মানুষের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে জনগণের সেই রায় বাস্তবায়ন না করে এখন একধরনের তামাশা শুরু হয়েছে।”

মিয়া গোলাম পরওয়ার (সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী): “গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ জনজীবনের নানামুখী সমস্যা সমাধানের দাবিতেই আমাদের এই আন্দোলন। এই আন্দোলন কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য।”

জোটের সূত্রমতে, আগামী ৩০ এপ্রিল লিয়াজোঁ কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ২ মে-পরবর্তী কঠোর আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করা হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category