• সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৮ অপরাহ্ন

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও সুদের চড়া হার: থমকে আছে বিনিয়োগ

Reporter Name / ১ Time View
Update : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সবচেয়ে সংবেদনশীল ও শক্তিশালী চালিকাশক্তি বেসরকারি বিনিয়োগ এখন চরম অচলাবস্থায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। চারদিকে কোনো ইতিবাচক পূর্বাভাস নেই, বরং নতুন কলকারখানা স্থাপন কিংবা বিদ্যমান শিল্প সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিরাজ করছে এক সর্বগ্রাসী স্থবিরতা ও গভীর অনিশ্চয়তা। নতুন উদ্যোক্তারা যেখানে মূলধন আটকে যাওয়ার শঙ্কায় কোনো নতুন উদ্যোগ নিতে সাহস পাচ্ছেন না, সেখানে বহু পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত শিল্পমালিকরা নিজেদের বিদ্যমান কারখানাগুলো চালু রাখতেই প্রতিনিয়ত টিকে থাকার কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে। শ্রমবাজারে লাখ লাখ শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণ যুক্ত হলেও নতুন কাজের সুযোগ একেবারেই থমকে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ভল্টে বিপুল পরিমাণ অলস তারল্য বা অর্থের পাহাড় জমে থাকলেও উদ্যোক্তারা ঋণ নেওয়ার কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এর সঙ্গে প্রকট গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, ঋণের লাগামহীন উচ্চ সুদ এবং নীতিগত ধারাবাহিকতার অভাবে দেশের অর্থনীতির প্রধান জীবনীশক্তি যেন এক চোরাবালিতে আটকে গেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ্যাত্ব কাটাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

বিনিয়োগ খরা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক মন্দার তীব্রতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ মূল্যায়নেও। আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থাটি তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির গতি আরও শ্লথ হয়ে মাত্র ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। বছরের শুরুতে যেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ধরা হয়েছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, পরবর্তীতে তা জুলাই মাসে কমিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয় এবং সর্বশেষ তা আরও নামিয়ে এনে ৩ দশমিক ২ শতাংশে ঠেকানো হয়েছে। এই ধারাবাহিক নিম্নমুখী সংশোধনই স্পষ্ট করে দেয় যে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ভিত্তি কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা, অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোক্তাদের কেনাকাটার সক্ষমতা বা চাহিদার তীব্র ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহে চলমান অনিশ্চয়তা।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ। তিনি জানান, দেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য বর্তমানে যে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা পুরো সামষ্টিক অর্থনীতিকেই খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তাঁর মতে, নীতি নির্ধারকরা মুখে কিংবা প্রকাশ্য বক্তব্যে যত আশার বাণীই শোনান না কেন, মাঠপর্যায়ের রূঢ় বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে স্থবিরতা চলছে, তার ফলে জাতীয় বাজেটের সিংহভাগ অর্থই এখন ব্যয় হচ্ছে অতীতের ঋণের সুদ পরিশোধ করতে। এর পাশাপাশি নতুন মূলধন বা পুঁজি সংগ্রহের প্রধান ক্ষেত্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত ও অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে আস্থা ও নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন, যা যেকোনো সুস্থ অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক এক লক্ষণ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশ এক মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

অধ্যাপক আবু আহমেদ আরও মনে করেন, বিদ্যমান প্রশাসনিক ও নীতিগত কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে বিনিয়োগ কিংবা নতুন কাজের সুযোগ বাড়ানো কিছুতেই সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট ও সাহসী নীতিগত রূপান্তর। প্রথমত, ব্যাংকিং খাতে শিল্প ঋণের সুদের হার যে অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছেছে, সেখানে এই চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কোনো শিল্প পরিচালনা করে মুনাফা করা অসম্ভব। ফলে যুক্তিসংগত কারণেই ব্যবসায়ীরা ঋণের দিকে ঝুঁকছেন না। দ্বিতীয়ত, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় দেশের সিংহভাগ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে। ভোক্তাদের হাতে যদি পণ্য কেনার মতো অর্থ না থাকে, তবে উৎপাদনকারীরা কার জন্য পণ্য তৈরি করবেন এবং কেনই বা নতুন কারখানা স্থাপন করবেন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতের অপেক্ষায় না থেকে সরকারকে নিজেই উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে সরাসরি বিনিয়োগ বাড়িয়ে সামনের কাতারে নেতৃত্ব দিতে হবে।

এদিকে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) এক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে তিনটি জটিল ও পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত কাঠামোগত ফাঁদে আটকা পড়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান ফাঁদটি হলো বিনিয়োগ স্থবিরতা, যার প্রত্যক্ষ পরিণতি হিসেবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমেছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান ডক্টর হোসেন জিল্লুর রহমান সরকারকে বাস্তব পরিস্থিতি খোলামনে স্বীকার করে সংকট মোকাবিলার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে একদিকে সাধারণ মানুষের ওপর ঋণের বোঝা বাড়ছে, অন্যদিকে শিল্প খাতে অর্থায়ন হচ্ছে না। এই পরিস্থিতির মূল কারণ কোনো তারল্য বা অর্থের সংকট নয়, বরং উদ্যোক্তাদের মধ্যকার গভীর আস্থার সংকট। পিপিআরসির চিহ্নিত অন্য দুটি ফাঁদ হলো পারিবারিক পর্যায়ে আর্থিক দুর্দশার চরম বিস্তার এবং দুর্বল রাজনৈতিক-প্রশাসনিক সুশাসনের সংকট। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ বর্তমানে এক চরম ‘ভঙ্গুর মধ্যবিত্ত’ শ্রেণিতে পরিণত হয়েছেন। যদিও পরিসংখ্যানগতভাবে তারা দারিদ্র্যসীমার কিছুটা ওপরে অবস্থান করছেন, কিন্তু তাদের নিয়মিত খরচ চালানোর ক্ষমতা এতটাই সীমিত যে অর্ধেকের বেশি পরিবারেই সঞ্চয়ের তুলনায় ঋণের পরিমাণ বেশি হয়ে গেছে।

নতুন শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আগাম সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয় মূলধনি যন্ত্রপাতি বা ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানির পরিমাণকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির পরিমাণ নেমে এসেছে মাত্র ৫০ কোটি ৬৯ লাখ ডলারে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে ছিল ৭৫ কোটি ৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি এক ধাক্কায় ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও এই আমদানি কমেছিল ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানি হ্রাস পেয়েছিল ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে অবশ্য কাঁচামাল আমদানি সাময়িকভাবে ১৯ শতাংশ বাড়লেও বেসরকারি খাতে সামগ্রিক ঋণ প্রবাহ একেবারেই তলানিতে পড়ে রয়েছে। গত আগস্টে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে, যা আগের বছরের আগস্টে ছিল ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। টানা ছয় মাস ধরে এই প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। জিডিপির অনুপাতেও বেসরকারি বিনিয়োগের অংশ ক্রমেই ক্ষয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২৪ দশমিক ১৮ শতাংশ।

বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও চিত্রটি যথেষ্ট হতাশাজনক। বর্তমানে দেশের জিডিপির তুলনায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআইয়ের অনুপাত মাত্র শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ। ইনভেস্ট বাংলাদেশের পরিসংখ্যানে চলতি বছরের এপ্রিল-জুন সময়ে দেশে নিট এফডিআই ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার হিসেবে দেখানো হলেও তার মধ্যে ২৬ কোটি ৯ লাখ ডলারই ছিল দেশে ইতিমধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অর্জিত মুনাফার পুনঃবিনিয়োগ। এই সময়ে নতুন মূলধনি ইক্যুইটি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ৭ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের কিছু বেশি, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম। অর্থাৎ বাইরে থেকে কোনো নতুন বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে পুঁজি নিয়ে আসার আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সহজে ব্যবসা পরিচালনার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ১৯০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১৬৮তম অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ডে বাংলাদেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে যেসব বড় প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, অবকাঠামোগত তীব্র ঘাটতি, ঋণের চড়া সুদ, গ্যাস-বিদ্যুতের চরম সংকট এবং দীর্ঘমেয়াদি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।

অথচ বিশ্ববাজারের একই বাস্তবতায় বাংলাদেশের আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলো অভূতপূর্ব গতিতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে। ভিয়েতনামে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই অ-রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বেড়েছে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সেখানে নিট এফডিআই ছাড় হয়েছে ১৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বছরের প্রথম আট মাসে দেশটিতে নতুন নিবন্ধিত এফডিআই পৌঁছেছে ৪০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে, যা ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশের বিশাল প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। কম্বোডিয়ায় ২০২৫ সালে ৬৩০টি প্রকল্পে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ অনুমোদন পেয়েছে এবং চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই আরও ২৭৬টি প্রকল্পে পৌনে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ যুক্ত হয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশে ২০২৫ সালের নিট এফডিআই ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও সেখানে প্রকৃত নতুন ইক্যুইটি মূলধনের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের পক্ষ থেকেও নানা চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর প্রশাসক মোহাম্মদ ফজলুল হক জানান, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক প্রতিকূলতার বিষয়টি সত্য হলেও সরকার বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানাগুলো সচল করার লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে। এছাড়া বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ উদ্যোক্তারা অভিযোগ করছেন, প্রণোদনা তহবিলের ঋণের শর্ত অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় এখন পর্যন্ত সেখান থেকে মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। এদিকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের ৫০১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, এই লক্ষ্য স্পর্শ করতে হলে জাতীয় প্রবৃদ্ধি প্রতি বছর গড়ে ৯ শতাংশের ওপরে নিয়ে যেতে হবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে জিডিপির ২৫ শতাংশের বেশি মাত্রায় উন্নীত করতে হবে। বিদায়ী বছরে যেখানে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ, সেখানে কাঠামোগত সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জ্বালানি নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা ছাড়া এই বিশাল অর্থনৈতিক স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category