• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন
Headline
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদ: ভোটের আগে নিউইয়র্কে ‘পরীক্ষায়’ বসছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মার্ট প্রযুক্তির চাদরে বাংলাদেশ সচিবালয়: এআই ক্যামেরা, ডিজিটাল পাস ও আধুনিক স্ক্যানারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার নতুন যুগে প্রশাসন ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে ফাটল, ইরান যুদ্ধ নিয়ে একঘরে ইসরাইল? জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ ও জনবল সংকট: গাইবান্ধায় ধুঁকছে পরিবার পরিকল্পনা সেবা, সিজার বন্ধ মাতৃসদনে বিগ ব্রাদার আচরণ ও অনমনীয় নীতি: ভারতকে পাশ কাটিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ দাগনভূঞায় নর্দমা থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার: পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের ‘অস্তিত্বের সংকট’ ও বাংলাদেশের কার্ড: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে আরএসএসের যে নীরব সমীকরণ সাভারে ফ্ল্যাটের বাথরুমে যুবকের মরদেহ: পিটিয়ে হত্যার পর ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে ইন্টারনেটে মানুষের সার্চ প্রবণতা: কী খুঁজছেন ব্যবহারকারীরা? মরার উপর খাঁড়ার ঘা: শ্রমিক সংকটের সুযোগে হারভেস্টার সিন্ডিকেটের লুটপাট, আড়াই গুণ ভাড়ায় দিশেহারা কৃষক

জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ ও জনবল সংকট: গাইবান্ধায় ধুঁকছে পরিবার পরিকল্পনা সেবা, সিজার বন্ধ মাতৃসদনে

Reporter Name / ২ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

গাইবান্ধা জেলায় দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি বিনামূল্যের পরিবার পরিকল্পনা সেবা কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের তীব্র সংকট এবং ভয়াবহ জনবল ঘাটতির কারণে জেলার সাতটি উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠী এই মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গর্ভবতী মায়েরা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না, এমনকি জেলার একমাত্র মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে (মাতৃসদন) চিকিৎসকের অভাবে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন।

মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে কোনো ওষুধ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ মিলছে না। সেবাগ্রহীতারা কেন্দ্রে গেলে দায়িত্বরতরা দীর্ঘদিন ধরে ‘সরকারি সরবরাহ নেই’ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। মাঠ পর্যায়ের কর্মীরাও (পরিবার কল্যাণ সহকারী) এখন আর নিয়মিত বাড়ি বাড়ি যান না। উপকরণ না থাকায় তারা মাঠে যেতেও সংকোচবোধ করছেন। ফলে কিশোরী, নবদম্পতি এবং গর্ভবতী মায়েরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাসিন্দা মালেক আফসারী জানান, মাঠকর্মীরা তাদের এলাকায় আসেন না, কোনো উঠান বৈঠক বা স্যাটেলাইট প্রোগ্রামও হয় না। দরিদ্র পরিবারগুলো সচেতনতার অভাবে একাধিক সন্তান জন্ম দিচ্ছে, যা তাদের অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে। সদরের বোয়ালী ইউনিয়নের নারীরা জানান, গর্ভকালীন চেকআপ বিনামূল্যে পেলেও কোনো ওষুধ দেওয়া হয় না, এবং প্রসব পরবর্তী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিরও কোনো সরবরাহ নেই।

এই সংকটের সুযোগে খোলা বাজারে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর দাম চড়া হয়েছে। ওষুধ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে জন্ম নিরোধক পিল ও কনডমের দাম ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ভালো মানের পিলের পাতার দাম ৪৫ থেকে ৪৫০ টাকা এবং তিনটি কনডমের প্যাকেটের দাম ২৫ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে, যা দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে নারীদের জন্য খাবার বড়ি, ইনজেকশন, ইমপ্ল্যান্ট, আইইউডি, লাইগেশন এবং পুরুষদের জন্য এনএসভি ও কনডম—এই সাত ধরনের পদ্ধতি চালু থাকলেও গাইবান্ধায় এর কোনোটিই বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০২৩ সালের পর থেকে স্বাভাবিক সেবাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

দপ্তরের এই স্থবিরতার পেছনে অন্যতম কারণ ভয়াবহ জনবল সংকট। গাইবান্ধায় অনুমোদিত ৯৭৫টি পদের মধ্যে ৩৮৫টিই শূন্য। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবাদানকারী ৪৭১ জন পরিবার কল্যাণ সহকারীর (এফডাব্লিউএ) পদের মধ্যে ১৬৭টি এবং ৯৯ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার (এফডাব্লিউভি) পদের মধ্যে ৬৩টি শূন্য রয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ক্লিনিক্যাল বিভাগে; সাত উপজেলায় মেডিকেল অফিসারের (এমসিএইচ-এফপি) ১২টি পদের মধ্যে কাগজে-কলমে মাত্র একজন আছেন, তিনিও ডেপুটেশনে ঢাকায় কর্মরত।

জেলা শহরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটির অবস্থাও শোচনীয়। ১১টি পদের মধ্যে ৭টিই শূন্য। জরুরি ক্লিনিক বিভাগের মেডিকেল অফিসারের একমাত্র পদটি ২০২৪ সাল থেকে শূন্য থাকায় এখানে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে শুধুমাত্র নরমাল ডেলিভারি করানো হচ্ছে, তাও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

অভিযোগ স্বীকার করে গাইবান্ধা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, জনবল এবং উপকরণ—দুটি ক্ষেত্রেই তীব্র সংকট রয়েছে। চিকিৎসক না থাকায় সিজারসহ স্থায়ী পদ্ধতির সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ড্রাগ অ্যান্ড স্টোরস বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আ ফ ম আরাফাত হোসেন জানান, ‘ওপি’ (অপারেশন প্লাস) নামের একটি প্রজেক্ট ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার পর তা এক্সটেনশন না হওয়া এবং সরকার পরিবর্তনের কারণে অর্থ বরাদ্দে বিলম্ব হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার কিছু টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং জুনের মধ্যে উপকরণ সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category