ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট তাদের প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে মনোনীতদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও আলোচনার পর জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব এই তালিকা অনুমোদন করেছে।
নির্বাচনি হিসাব অনুযায়ী, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট মোট ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে, যার বিপরীতে তারা ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পাচ্ছে। এই আসনের মধ্যে আনুপাতিক হারে ৬৮টি আসন পাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাগে পড়েছে ১২টি এবং ছয়টি আসন পাওয়া এনসিপির ভাগে পড়েছে ১টি আসন। তবে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতি সম্মান এবং শরিকদের ত্যাগ ও নিষ্ঠার মূল্যায়ণস্বরূপ জামায়াতে ইসলামী তাদের ১২টি আসন থেকে তিনটি আসন জোটের অন্য তিন শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব দল থেকে ৯ জনকে এবং তাদের ছেড়ে দেওয়া কোটা থেকে এনসিপি, জাগপা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে একজন করে প্রতিনিধি সংসদে পাঠাবে।
জামায়াতে ইসলামীর চূড়ান্ত হওয়া ৯ জনের তালিকায় কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃত্বের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আবেগের প্রতিফলন ঘটেছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেত্রীদের মধ্যে মনোনয়ন পেয়েছেন মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, মানবসম্পদ ও আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি, নাজমুন্নাহার নিলু এবং প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ। আঞ্চলিক পর্যায় থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন চট্টগ্রামের মেরিনা সুলতানা, সিলেটের মাহফুজা খানম এবং বগুড়ার সাজেদা সামাদ। এছাড়াও জুলাই বিপ্লবে শহীদ জারিফ আব্দুল্লাহর আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর মা রোকেয়া বেগমকেও সংরক্ষিত আসনের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতের ছেড়ে দেওয়া তিনটি আসনে শরিক দলের নেত্রীরা মনোনয়ন পেয়েছেন। এরা হলেন—এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু, জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা করিম। এছাড়া এনসিপি তাদের নিজস্ব আনুপাতিক প্রাপ্ত একটি আসনের জন্য দলের যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিনের নাম চূড়ান্ত করেছে। জানা গেছে, প্রার্থীদের এই তালিকা প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ‘নেতা কোটা’ রাখা হয়নি। স্বচ্ছতা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের নাম আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত তা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।